মাত্র পাওয়া :
ক্ষমা চাওয়া না, তবে যেভাবে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে খালেদার মৃ’ত্যুশয্যায় হঠাৎ একি প্রশ্ন করে বসলেন খালেদা, এর জবাব কি কারো কাছে আছে? কোরআনের হাফেজদের জন্য খাবার ফ্রি করে দিল হোটেল মালিক বাবা মা ছিলেন চেয়ারম্যান, এবার মেয়েও হলেন চেয়ারম্যান শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণের আনন্দে কেঁদে ফেললেন ফরাসি তরুণী ভারত থেকে ভিক্ষা করতে বাংলাদেশে এসে আটক সীতারাম কখনো নারী কখনো পুরুষ বাংলাদেশি বিউটি ব্লগার সাদের আজব জীবন সৌদিতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর পর কেউ আর খোঁজ নেয় না মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দী ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কুয়েতে সাবেক এমপি ও পাপলুসহ ৫ ভিআইপির ৭ বছরের সা’জা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কারখানা থেকে ১২৯ জন প্রবাসী আট’ক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ান প্রবাসীরা সা’বধান!মালেশিয়ায় শুরু হয়েছে প্রবাসী নিধন,আতক,গুম,দেশে ফেরত সবই করা হচ্ছে।জানা গেছে মালয়েশিয়ায় মেশিনের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানা থেকে বাংলাদেশিসহ ১২৯ জন অভিবাসীকে আট’ক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

২২ নভেম্বর দিবাগত রাতে দেশটির বালাকং শহরে মেশিনের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আট’ক করা হয়। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের পরিচালক দাতুক খায়রুল দাজাইমি দাউদ সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রাত ৮টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানে ১৩৪ জন অভিবাসীর কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এসময় আটক করা হয় কারখানায় কর্মরত ২০-৪৯ বছর বয়সী ১১০ জন পুরুষ ও ১৯ নারীকে। গ্রেফতারদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার

এবং নেপালের শ্রমিক রয়েছেন। খায়রুল দাজাইমি বলেন, মালয়েশিয়ার ধারা ৬ (১)(সি) অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর অধীনে অবৈধ শ্রমিক রাখার দায়ে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জরিমানা করা হবে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত করে।

লকডাউনের সময় একদিন সকালে লেপটপে কাজ করছিলাম। এমন সময় ফোন বেজে উঠে। প্রথমে ভাবলাম অফিসের ফোন।পরে দেখি বাংলাদেশএর একটি অপরিচিত নাম্বার। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ষাটোর্ধ বয়সী নারী করুন কন্ঠে বলে উঠলো,” বাবা তুমি সামবাদিক?

আমার ছেলে সোহেল কে পুলি’শ ধইরে নিয়ে গেছে মেলা দিন, কই নিয়ে গেছে জানি নে, তুমি ছেলেডারে খুইজে বের কইরে দ্যাও। তোমারে কলিজা ভরে দোয়া দেবানে। সে আমার বড় ছেলে। তার চিন্তায় আমার ঘরে খানাপানি নেই, “।

জিজ্ঞেস করলাম কোথা থেকে ফোন করলেন আর আমার নাম্বার টা কোথায় পেলেন? তিনি বললেন গোপালগঞ্জ থেকে বলছেন। আর নাম্বার পাওয়ার ব্যপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপরই উনি কাকুতি মিনতি করে কা’ন্নায় ভে’ঙ্গে পড়ে চরম অ’সহায়ত্ব প্রকাশ করলেন।

পরিবারের বড় সন্তান হারিয়ে তিনি চোখে মুখে অ’ন্ধকার দেখছেন । সেটা তার আহাজারিতে ই বুঝতে পারছি। এভাবে কয়েকদিন ফোন করে অনুরোধ করার পর আমার এক সাংবাদিক সহকর্মী কে নিয়ে বৃদ্ধার ছেলে সোহেল কে খোঁজার জন্য স্বিদ্ধান্ত নিলাম।

বিভিন্ন কারণে আটক মালয়েশিয়ায় কারাবন্দীদের সম্পর্কে বাইরে থেকে জানা খুব একটা সম্ভব হয় না। কারার ওই লৌহকপাটের চার দেয়ালের ভিতরে আদতে কি হচ্ছে এবং সেখানের পরিবেশটা সব সময়ই অজানা থাকে যারা বাইরে আছেন তাদের কাছে।

এমনকি যারা কারাগারের ভিতরে আছেন তারাও বাইরের দূনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জেল খানার নিয়ম নীতিরও বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাংলাদেশে সহজ প্রক্রিয়ায় বন্দীদের সাথে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ করা

এবং খাবার আদান প্রদান করা গেলেও মালয়েশিয়ায় এই নিয়ম নেই। রয়েছে আরো নানা জটিলতা। এখানে বাংলাদেশীদের প্রায় সবাই অ’বৈধতার কারণে আটক হয়। খুন খারাবি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে খুব কমই কারাবন্দী হন।

কারণ দেশটিতে অ’পরাধ কর্মকা’ণ্ড এশিয়ার অন্যন্যা দেশের তুলনায় অনেক কম হয়। নানা কারণে দেশটির জেল খানা কে ভ’য়ংকর হিসেবে সবাই জানেন। কেউ কেউ একে সাক্ষাৎ জাহান্নাম আখ্যা দেন। আবার কেউ কেউ মুখ খুলতেই রাজি নন।

এজন্য অ’বৈধ হয়ে মালয়েশিয়া আসা অথবা দেশটিতে অবৈধ হয়ে থাকা মানে যমদূতের সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকা। কারণ দুদিন আগে অথবা পরে যেকোন সময় ধরা পরতেই হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে। আর তাদের হাতে ধরা পড়লে জেলে না গিয়ে ছাড়া পাওয়ার আশা খুবই কম।

তাই অ’বৈধভাবে মালয়েশিয়া আসার আগে বার বার এসব দুর্গতির কথা চিন্তা করা উচিত। ছয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় সাংবাদিকতা করছি। দেশটির জেল খানার নি’ষ্ঠুরতা ও রহস্যময় কর্মকাণ্ডের কথা শুনেই আসছি সরাসরি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। যদিও সারা পৃথীবির মত মালয়েশিয়াতেও কঠোর লকডাউন চলছে।

এর মধ্যে হাজার হাজার বন্দীর মাঝে বাংলাদেশী বন্দী খোঁজা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতই। কিন্তু সন্তান হারা এক বৃদ্ধা মায়ের আকুল আকুতির কথা বিবেচনা করে আমার সাংবাদিক সহকর্মী কে নিয়ে সোহেলকে খুঁজতে বের হলাম। স্বিদ্ধান্ত নিলাম যেহেতু রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে নিয়ে গেছে

এবং ইতিমধ্যে দুই মাস পার হয়ে গেছে তাই আমাদের রাজধানীর আশেপাশে কোন বড় জেলখানায় খোঁজ নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে আমাদের ধারণা আছে প্রথমে অবৈধ হিসেবে আটকের পর ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রাখা হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার পর বিচারক জানতে চান পুলিশ যে তার বিরু’দ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেছে তা সত্য কি না।

যদি মি’থ্যা হয় সেটা তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে প্রমান করতে বলা হয়। পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস না থাকলে তার কারাদণ্ড হয়ে যাবে। অবৈধ হিসেবে আটক হলে তিন থেকে ছয় মাস কারাদণ্ড হতে পারে। সাথে দোররা মারার শাস্তিও হয়। তারপর পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন জেল খানায়। সেখানে সাজার মেয়াদ শেষ হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক রাখা হয়।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com