ছাগল চু’রি করে পার্টি দিলো সরকারি হাসপাতা’লের ডাক্তার-কর্মচারীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের নাজিরপুরে গরীব এক ব্যক্তির ছাগল চু’রির পর জবাই অক্রে ভুড়িভোজনের অ’ভিযোগ উঠেছে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মক’র্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বি’রুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাগলের মালিক লায়েক ফরাজি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরসহ থা’নায় মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) লিখিত অ’ভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটা এ ঘটনা নিয়ে উপজে’লাসহ পুরো জে’লাব্যাপী বইছে সমালোচনার ঝড়।

ভুক্তভোগী লায়েক ফরাজি উপজে’লা সদরের আওয়ামী লীগ অফিস সংলগ্ন একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে জীবিকা
নির্বাহ করেন। পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য পালেন কয়েকটি ছাগল।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে লায়েক ফরাজির একটি ছাগল উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে চু’রি হয়ে যায়। সোমবার স্থানীয় চামড়া ক্রেতা বিশ্বনাথের কাছ থেকে ওই ছাগলের চামড়া উ’দ্ধার হয়। বিশ্বনাথ জানান, উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের সুইপার বাশার শেখ তাকে এই চামড়া দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাশার শেখকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,চামড়াটি হাসপাতা’লের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ভুড়িভোজের জন্য জবাই করা ছাগলের। স্যারেরা ছাগলটি গত শুক্রবার রাতে খেয়েছেন। আমি যদি এ বিষয়ে আ’ট’কে (অ’ভিযু’ক্ত হলে) যাই তাহলে সব তথ্য ফাঁ’স করে দেব। আমি তো হুকুমের গো’লাম’।

হাসপাতা’লের রান্নার দায়িত্বে থাকা খাদিজা বেগম জানান, ওই ছাগলটি উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্না ঘরেই রান্না হয়েছে। আর ওই রাতে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তার অফিস কক্ষেই ওই ভুড়িভোজের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ওই হাসপাতা’লে দায়িত্বরত ৪-৫ জন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারী।

ভুড়িভোজে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক চিকিৎসক ওই ভোজের তথ্য স্বীকার করে জানান, তারা উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডাক্তার মো. ফজলে বারীর দাওয়াতে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে খাওয়া মাংসের ছাগলটি চু’রি করা না ক্রয় করা তা তাদের জানা নেই।

এক পুরুষ চিকিৎসক জানান, ‘ওই রাতে আমি ও আমা’র আর এক সহকর্মী হাঁসের মাংস দিয়ে রুটি খাচ্ছিলাম। কিন্তু স্যারে এসে আমাদের ডেকে নিয়ে যান’।

ওই হাসপাতা’লে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী মো. সজল হোসেন হাওলাদার জানান, ‘গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে তিনি তার স্ত্রী’র সন্তান প্রসবজনিত কারণে হাসপাতা’লের দোতালায় কেবিনের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই হাসপাতা’লের ঝাড়ুদার আবুল বাশারসহ তিনজন একটি ছাগল দোতলায় নিয়ে হাসপাতা’লের কেবিনের একটি টয়লেটে আ’ট’কে রাখে। আমি তাদের নিষেধ করলেও তারা একটি বটি দিয়ে সেটি জবাই করে বাজারের শপিং ব্যাগে করে নিয়ে যায়’।

নাজিরপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল লায়েক ফরাজীর একটি অ’ভিযোগ পেয়েছি। তিনি অ’ভিযোগটি উপজে’লা চেয়ারম্যানের কাছেও করেছেন।

থা’না ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, ছাগলের ব্যাপারে একটি অ’ভিযোগ এসেছে বলে শুনেছি। আমি থা’নায় ছিলাম না তাই এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মক’র্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডাক্তার মো. ফজলে বারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি গত সোমবার (২২ নভেম্বর) আমা’র শ্বশুরের চিচিৎসার জন্য ঢাকায় আসছি। এখন ব্যস্ত আছি, বাসায় ফিরে আপনাকে ফোন দেব।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com