ঘোড়ায় চড়ে শ্বশুড়বাড়ি গিয়ে নববধূকে পালকি চড়িয়ে বাড়ি ফিরলেন বর

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

বর মো. আনোয়ারুল আজিজ রাজধানীতে পাসপোর্ট অফিসে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করেন। কনে সুমাইয়া আক্তার স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী

এক সময় ঘোড়ায় করে সম্ভ্রান্ত পরিবারের পুরুষরা যেতেন বিয়ে করতে। নববধূকে পালকিতে তুলে টগবগিয়ে ফিরতেন নিজের ঘরে। দক্ষিণাঞ্চলে সেদিন এখন অতীত। ঘোড়াও নেই আর চার, ছয় কিংবা আট বেহাড়ার পালকি দেখতে তো যেতে হয় জাদুঘরে। হারানো সেই ঐতিহ্যের দেখা মিলেছে ভোলার একটি বিয়েতে।

শহরের গাজীপুর রোডের বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল আজিজ বরযাত্রী নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে নববধূকে আনতে গিয়েছেন। কনের বাড়িতে বিয়ের ভোজ শেষে নববধূ সুমাইয়া আক্তার ইরাকে পালকি চড়িয়ে টগবগিয়ে ঘোড়া করে ফিরেছেন নিজের ঘরে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনটি হয়েছে বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে।

বর মো. আনোয়ারুল আজিজ রাজধানীতে পাসপোর্ট অফিসে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করেন। কনে সুমাইয়া আক্তার ভোলা সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজে স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আনোয়ারুল আজিজ বলেন, “আগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল পালকিতে নববধূ শ্বশুরবাড়িতে আসবে। বর ঘোড়ার পিঠে করে বিয়ে করতে শ্বশুরবাড়ি যেত। কিন্তু কালের পরিবর্তনে তা বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৩০-৪০ বছর আগে। তবে আমি আমার বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ি যাই। স্ত্রীকে পালকি চড়িয়ে, নিজে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাড়িতে ফিরি।”

তিনি মনে করেন, সবাই নিজের বিয়েতে এমন আয়োজন করলে বিলুপ্ত হওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসতে পারে।

এদিকে, ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখে মুগ্ধ এলাকাবাসী। এ আয়োজন দেখতে বিয়েবাড়ি ও পথে ভিড় জমে স্থানীয়দের।

ভোলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বরের বন্ধু ইভান তালুকদার বলেন, “আমার বন্ধু তার বিয়েতে প্রাচীন ঐতিহ্য তুলে ধরতে চেয়েছিল। আজ সেটা তুলে ধরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বিষয়টি দেখে অনুপ্রাণিত হবে। যারা আগামীতে বিয়ে করবেন তারা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করলে গ্রামীণ ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি কবির হোসেন জানান, তিনি দাদা-দাদির মুখে এমন গল্প শুনেছিন। কিন্তু আজ তিনি নিজের চোখে তা দেখেছেন। আর এমন দৃশ্য দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

পালকির মালিক মো. শরীফ জানান, তিনি গত কয়েক দিন আগে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পালকিটি তৈরি করেছেন।

“এই প্রথম আমার পালকিতে কোনো বউ শ্বশুরবাড়িতে গেলেন। এটাই আমাদের প্রথম ভাড়া।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com