কোচ-নির্বাচকদের কাছ থেকে পরিষ্কার বার্তা চান মুশফিক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সত্যিই কি বিশ্রাম? নাকি বিশ্রামের মোড়কে বাদ! পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশ দলে না থাকা মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে এই প্রশ্ন উঠছে। দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন যদিও বলেছেন ‘বিশ্রাম’, তবে তা বিশ্বাস করছেন না মুশফিক নিজেই। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের মতে, নির্বাচক ও ম্যানেজমেন্টের উচিত সত্যিকার ভাবনাটাই জানানো।

বিশ্বকাপে এবার বাংলাদেশ দল যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অভিজ্ঞ মুশফিকও। ৮ ইনিংস খেলে ২০.৫৭ গড়ে তার রান ১৪৪, স্ট্রাইক রেট ১১৩.৩৮।

বিশ্বকাপের পর দলের প্রথম সিরিজে অনেক পরিবর্তন আনেন নির্বাচকরা। সেখানে ঠাঁই হয়নি মুশফিকের। প্রধান নির্বাচক যদিও বলেন, টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য স্রেফ পাকিস্তান সিরিজের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাকে।

তবে দল ঘোষণার পরদিন মুশফিক ইঙ্গিত দিলেন, নির্বাচকদের ওই ব্যাখ্যায় তার আস্থা নেই।

“সত্যিকারের সৎ ও সত্যি ভাবনাটাই বলা উচিত। দলের আগে, দেশের আগে তো কেউ না। সেখানে আমি তো নগণ্যতম একজন সদস্য। পারফরম্যান্সে উঠা-নামা থাকবে এবং একজন ক্রিকেটারকে অবশ্যই পারফরম্যান্স ও ফিটনেস দিয়ে বিচার করবেন। সেটা পরিস্কার করে বললেই হতো যে, ‘আমরা অন্যরকম চিন্তা করছি, এই সিরিজে না, সামনে যদি পারফর্ম করে আসতে পারো…”, যেটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর কী।”

“এই ব্যাপারগুলো পরিস্কার করে বললে আমার কাছেও অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করত যে, তারা আমাকে এতটুকু হলেও সম্মান করেছে। একটু খোলামেলা কথা বললে ভালো হয়। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, এই সিরিজে আমি অ্যাভেইলঅ্যাবল কিনা, এরপর হুট করে…। তখনও যদি তারা বলতেন যে, বাইরে রাখার চিন্তা করছেন, তাহলে অন্যভাবে পরিকল্পনা করতে পারতাম। কিন্তু সবকিছু শেষে হুট করেই বলা হলো, এখন (টেস্টের জন্য) প্রস্তুতি নেওয়া এখন কঠিন।

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও এখনকার কোচিং স্টাফের দিক থেকে যোগাযোগর ঘাটতিও তুলে ধরলেন মুশফিক।

“আমার জন্য সত্যি বলতে, একটু চ্যালেঞ্জিংই। আগেও অনেকবার নানা ঘটনা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, কমিউনিকেশন গ্যাপ আছে (কোচিং স্টাফের)। জানি না, আমি বাঘ নাকি সিংহ! খোলামেলাভাবে সবকিছু বললে, আমার জন্য ভালো হয়, দলের জন্য ভালো হয়। সবার জন্যই ভালো।”

“এমন তো নয় যে, এটা আমার দল! এটা দল ও দেশের ব্যাপার। টেবিলে আলোচনায় বসলে কথা হবে, তর্ক-বিতর্ক হবে যুক্তি দিয়ে। এটাই তো উচিত।”

আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবেক কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের একটি উদাহরণ তুলে ধরলের মুশফিক।

“২০১৫ বিশ্বকাপের আগে চার নম্বরে আমার রেকর্ড দুর্দান্ত ছিল। হুট করে একদিন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বললেন, ‘বিশ্বকাপে তোমাকে ছয় নম্বরে খেলতে হবে।’ আমি তখন মেনে নিতে পারিনি শুরুতে। বললাম, ‘তুমি আমার গত তিন-চার বছরের পারফরম্যান্স জানো চার নম্বরে?’ তিনি বললেন, সব জানেন।”

“তিনি তখন আমাকে খুব ভালোভাবে সব বুঝিয়ে বললেন যে, কেন ছয়ে আমাকে দরকার। যুক্তি, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তারপর আমরা একমত হয়েছি। নিজেই পরে বলেছি, ‘এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। দলের জন্য খুশি মনেই করব।’ আমি খেললাম ছয়ে। ভালো খেললাম। চারে রিয়াদ ভাই খেললেন, ভালো করলেন। দলের লাভ হলো।”

এখনকার কোচিং স্টাফ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান বলে ইঙ্গিত করলেন ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই ব্যাটসম্যান।

“এভাবেই তো হওয়া উচিত আলোচনা। এখন কেউ যদি বলে, ‘আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, দলের দরকার।’ আর কিছু নেই। ওই ক্রিকেটার কিছু জানে না, কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড জানা নেই, কারণ জানে না, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানে না, তাহলে তো তা অন্যরকম হয়ে গেল। এসব আরেকটু পরিষ্কার করে বলা দরকার।”

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com