অসুস্থতা নয়, খালেদার সম্পদ নিয়েই বিএনপি নেতাদের মাথাব্যাথা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সম্পদই এখন তার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা নয়, বিএনপি নেতাদের মাথাব্যাথার মূল কারণই হলো খালেদার সম্পদ।

গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নেয়ার পর থেকে বিএনপি নেতাদের সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হলো খালেদা জিয়ার সম্পদের পরিমাণ কত এবং এগুলো কোথায় কোথায় রয়েছে। আর এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মাঝে চলছে নানামুখী আলোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ কত এবং সেসব কোথায় আছে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট খুব বেশি কারো ধারণা নেই। কারণ খালেদা জিয়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গেই নিজের সম্পদ সংরক্ষণ করেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পত্তির দেখভাল করে থাকেন তার এক সময়ের একান্ত সচিব ও বর্তমানে বিশেষ আস্থাভাজন মোসাদ্দেক আলী ফালু। বিভিন্ন মামলায় ফেরারি হয়ে বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

সূত্র মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং মালয়েশিয়াতেও খালেদা জিয়ার বিপুল সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্টে রয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান রত্ন-পাথর, সোনার গহনা ও এন্টিক সামগ্রী। এসব সম্পদের বিবরণ সৌদি আরবের একটি পত্রিকায় বেশ কয়েক বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল।

বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মতে, খালেদা জিয়ার বেশিরভাগ সম্পত্তিই তার নিজের নামে নেই, সেসব গচ্ছিত রাখা হয়েছে বেনামে। তিনি বিদেশি বিভিন্ন প্রাইভেট ফার্মের মাধ্যমে এসব সম্পদ জমা রেখেছেন। এসব কারণেই তার সম্পত্তির সঠিক হিসাব কখনোই বের করা সম্ভব নয়। কারণ খালেদা জিয়া ও তার আস্থাভাজন মোসাদ্দেক আলী ফালুই এসব সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানেন।

তবে বিভিন্ন সূত্রের প্রাপ্ত খবর মিলিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেসব সম্পত্তি, বিনিয়োগ ও সম্পদ জমা রয়েছে, সেসবের আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার একটি শপিং মল, অন্তত ১৪টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, অন্তত ৬টি বাড়ি এবং একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অন্তত ৫টি সুপারশপ, ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বেশ কয়েকটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট তার রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া খালেদা জিয়ার কুয়েতে দুটি ব্যবসার খবর জানা গেছে। মালয়েশিয়াতেও বেনামে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটন খাত এবং ‘সেকেন্ড হোম’ প্রজেক্টে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।

এদিকে এখন বিএনপিতে নানামুখী কানাঘুষা চলছে যে, এ সম্পদের মালিক কে হবে সেটি বড় প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো খালেদা জিয়ার সম্পদের পরিমাণ কত? কারণ এসব সম্পত্তি যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়, তাই খালেদা জিয়ার অবর্তমানে রক্ষকরাই যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে নিজ দলের অনেকেরই তা মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com