গল্প নয়, বাস্তবে এক রাতে যেভাবে কোটিপতি হলেন বাংলাদেশি শ্রমিক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

ভাগ্যের লিখন যায় না খণ্ডন। কার ভাগ্যে কখন কি আসে তা বলা মুশকিল। ভাগ্যের লিলাখেলায় অবাক করা একটি কাণ্ড আরব আমিরাতের দুবাইতে ঘটেছে যা গল্প নয় বাস্তব। দেশটিতে এক বাংলাদেশি শ্রমিক এক রাতেই কোটিপতি হয়ে গেছেন। জানা গেছে, দুবাইভিত্তিক ‘মাহজুজ লটারি’ জিতে কোটিপতি হয়েছেন ক্রেন অপারেটর আব্দুল কাদের। ৩২ বছর বয়সী এ বাংলাদেশি শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক রাতের মধ্যে ১০ লাখ দিরহাম জমা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৪ টাকা।

আব্দুল কাদের দুবাই শহরে ক্রেন অপারেটরের কাজ করেন। ৪৬তম সাপ্তাহিক মাহজুজ লটারি ড্রতে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিজয়ী। যে ছয়টি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, তার মধ্যে তিনি পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী। তিনি এ বছরের দুবাইভিত্তিক মাহজুজ লটারির ১৬তম বিজয়ী। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আব্দুল কাদের দুবাইয়ে কাজ করছেন। তার পরিবারের সদস্যরা থাকেন বাংলাদেশে। প্রবাস জীবনে অর্জিত সব অর্থই তিনি তার পরিবারে পাঠান।

লটারি বিজয়ী কাদের নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, লটারি থেকে পাওয়া পুরস্কারের টাকা থেকে কিছু অংশ আমার বাবা ও ভাইকে দেব। তারা আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে আছেন। এরপর আমি একটি বাড়ি নির্মাণ করে তা ভাড়া দেব। এর মাধ্যমে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা সবসময় একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আয় করতে পারবো। দেশে ফিরে গবাদিপশুর খামার করতে চান আব্দুল কাদের।

একটা সময় তিনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তিত থাকতেন। কিন্তু এখন লটারি জিতে কোটিপতি কাদেরের জীবনে বেশ পরিবর্তন আসবে।সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে যে তারা প্রথমবারের মতো বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে, বিশেষ করে যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের মান উন্নয়নে কাজ করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দুবাইয়ের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বলেছেন, যোগ্যদের মধ্যে বিনিয়োগকারী, মেধাবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং শিল্পীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

তারা এবং তাদের পরিবার দ্বৈত জাতীয়তা রাখতে পারবে বলে, তিনি জানান। কোন নিম্ন-আয়ের শ্রমিকদের এই কঠোর মানদণ্ড পূরণের সম্ভাবনা কম। শেখ মোহাম্মদ জানান, তাদের লক্ষ্য হল সেইসব মানুষকে আকর্ষণ করা যারা তার দেশের উন্নয়নের যাত্রায় অবদান রাখতে পারবে। এক্ষেত্রে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়ম নেই, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবার বা কর্মকর্তারাই মনোনীত করবেন যে তারা কাদের নাগরিকত্ব দেবেন, তিনি বলেন।

এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবেন যে এই মনোনীত ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়া হবে কি না। করোনাভাইরাস মহামারি এবং তেলের দাম পড়ে যাওয়ার মধ্যে দেশটির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো। সম্প্রতি কয়েক হাজার বিদেশিকে দেশটি ছেড়ে চলে যায়। বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন: যে সাতটি দেশে এখন বাংলাদেশি কর্মীরা সবচেয়ে বেশি যায় কেন বিদেশে আটক হন বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকরা প্রবাসী শ্রমিকরা

চাকরি হারানোয় আর্থিক সংকটে দেশে থাকা পরিবার ‘কাফালা’ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আইন শিথিল অভিবাসী ছবির উৎস, ছবির ক্যাপশান, উপসাগরীয় এই দেশটি তাদের উন্নয়ন অভিবাসীদের সাধারণত নাগরিকত্ব দেয় না। আবুধাবিভিত্তিক পত্রিকা দ্যা ন্যাশনাল বলছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দেয়া হবে যেন তারা দেশটির গভীর ভিত গড়তে পারে।

আর্থিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে উপসাগরীয় রাজ্যের এই উত্থান পুরোটাই নির্ভর করে প্রবাসীদের ওপর। বিবিসির আরব বিষয়ক সম্পাদক সেবাস্তিয়ান উশার বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রবাসীরাই সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা যাদের ৯০% এর বেশি কর্মক্ষেত্রে যুক্ত। বিদেশি কর্মীদের সাধারণত নবায়নযোগ্য ভিসা দেয়া হয় যা বেশ কয়েক বছরের জন্য বৈধ থাকে এবং সেই ভিসা মূলত চাকরির সাথে যুক্ত থাকে।

স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা দেশটির অর্থনীতি গড়ে তুলতে, নির্মাণ ক্ষেত্রে, হোটেল ব্যবসা এবং ভ্রমণ খাতে জনবল সরবরাহে মূল ভূমিকা রেখেছে। এই শ্রমিকরা তাদের উপার্জনের বড় অংশ প্রায়শই নিজ দেশে থাকা পরিবারকে পাঠিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে অনেকে দেশটিতে কয়েক বছর থাকলেও তাদের নাগরিকত্ব বা স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনও আনুষ্ঠানিক সুযোগ দেয়া হয়নি এবং তাদের জন্য কল্যাণমূলক কোন সুবিধা দেয়ারও ব্যবস্থা নেই।

স্বল্প-আয়ের শ্রমিকদের যেখানে অবহেলিত রাখা হয়েছে সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী এবং পেশাদার কর্মীসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির মানুষদের জন্য দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। ২০১৯ সালে শেখ মোহাম্মদ একটি গোল্ডেন কার্ড ভিসা পদ্ধতি চালু করেছিলেন যার আওতায় চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, এবং স্কুলে বেশ ভালো ফল করা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাদারদের পরিবারসহ ১০ বছর থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

গত বছর আরও বেশি সংখ্যক লোকদের এই সুযোগ দেয়া হয়। ওয়াম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন নাগরিকত্ব প্রকল্পের আওতায় বিনিয়োগকারীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পত্তির মালিক হতে হবে, চিকিৎসকদের এমন কোন একটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হতে হবে যার অনেক চাহিদা রয়েছে, উদ্ভাবকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে অনুমোদিত পেটেন্ট গ্রহণ করতে হবে এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় থাকতে হবে।

নতুন পাসপোর্টধারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই জনকল্যাণ ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য বিবেচিত হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। দেশটি তাদের আনুমানিক ১৪ লাখ নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ঋণ এবং অনুদানের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে। নাগরিকত্ব সাধারণত উপসাগরীয় দেশগুলোর বাসিন্দাদের দেওয়া হয় না। এটি কেবলমাত্র আমিরাতি পুরুষদের স্ত্রী এবং আমিরাতি বাবার সন্তানদের দেওয়া হয়। বিদেশিদের বিয়ে করা আমিরাতি মায়ের সন্তানরা নাগরিকত্ব পায় না তবে পরিবর্তে তাদের আবেদন করতে হয়, এই প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com