২৭ বছরের প্রবাস: টাকার অভাবে পড়ে আছে মালয়েশিয়া প্রবাসির লাশ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ায় দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃ;ত্যুর পর ১৭ দিন ধরে একটি হাসপাতালের ম;র্গে পড়ে আছে এক হ;তভাগ্য বাংলাদেশির ম;রদে;হ। পরিবার দরিদ্র হওয়ার

কারণে ম;রদে;হ বাংলাদেশে নেওয়ার খরচ জোগাতে পারছে না। তাই যে কোন পন্থায় মালয়েশিয়ার মাটিতে ম;রদে;হ দা;ফনের জন্য সম্মতি দিয়েছেন পরিবার।

জানা গেছে, জন্ডিস ও লিভারের রোগে গত ১৬ অক্টোবর মোঃ জহিরুল ইসলাম জবু (৫৫) নামে গাইবান্ধার এই প্রবাসী হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা;রা যান। মৃ;ত জহিরুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার কবির পাড়া গ্রামের মৃ;ত হোসেন আলী মুন্সির পুত্র।

জহিরুল কোন বিয়ে শাদি করেনি এবং তার মা-বাবা মা;রা গেছেন অনেক আগেই। অনেক খোঁজাখুজির পর অবশেষে দেশে থাকা জহিরুল ইসলামের ভাইয়ের মেয়ে রোমানা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, তার চাচা জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাদের সাথে দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগও করেনি। এই অবস্থায়

তার ম;রদে;হ দেশে আনতে গেলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা সংগ্রহ করার সামর্থ্য তাদের পরিবারের নেই।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের থাকা নরসিংদীর প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, ২ সপ্তাহ ধরে জহিরুল ইসলামের ম;রদে;হ দেশটির ইপুহ এলাকার লাজা হসপিটালের ম;র্গে পড়ে আছে। তার কোনো সঠিক ঠিকানা বা তার পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

কারণ তার সাথে যে পাসপোর্টের ফটোকপি পাওয়া গেছে সেখানে তার বাড়ি নরসিংদীর সদরে অবস্থিত বলে উল্লেখ থাকলেও সেই ঠিকানায় এই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায় জহিরের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।

শাহাদাত হেসেন আরো বলেন, আমি ঐ হসপিটালে কর্মরত থাকার সুবাদে আমি জানতে পারি ইপুহ লাজা হসপিটালের ম;র্গে একজন বাংলাদেশির ম;রদে;হ পড়ে আছে যার স্বজনের কোনো খোঁজ নেই। তখন আমি অনেক খোঁজাখুজি করে জহিরের আসল ঠিকানা উদ্ধার করি।

তার ঠিকানা উদ্ধার করে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ম;রদে;হ মালয়েশিয়ায় দাফন করার সম্মতি দেয়। পরিবার না নিলে শ্রীঘ্রই মালয়েশিয়ায় কোন এনজিওর মাধ্যমে ম;রদে;হ দা;ফন করা হবে।

তিনি আরও জানান, তবে জহিরুল ২৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। তার সাথে কোন ভ্যালিড পাসপোর্ট বা ভিসা কোন সঠিক ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি।

সে কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ করতো। জহিরের ভাতিজি রোমানা আক্তার জানিয়েছেন যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি ম;রদে;হ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করেন তাহলে তারা বিমানবন্দর থেকে তার ম;রদে;হ গ্রহন করবেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,সরকারীভাবে এই মুহুর্তে ম;রদে;হ পাঠানোর সুযোগ নেই।তবে পরিবার যদি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করে তাহলে সরকার রাজি হলে সরকারী খরচে ম;রদে;হ দেশে পাঠানো যেতে পারে।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com