নাসার গোপন তথ্য বের করতে মহাকাশে চিন অভিযান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

এটা ঘোষণা করা হয়েছে যে 13 শে অক্টোবর শেনঝো -16 মানবিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। চীনের ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ) আজ গানসু প্রদেশের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেনঝো -১ mission মিশন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। তিনটি Taikonauts Zhai Zhigang, Wang Yaping (মহিলা)

এবং Ye Guangfu Shenzhou-16 এ মোতায়েন করা হবে, যা 00.23 অক্টোবর, 13:6 বেইজিং সময় চালু হওয়ার কথা। মিশন চলাকালীন, যেখানে ঝাই ঝিগাং দায়িত্বে থাকবেন, সেই তিনজন টেকনাট চীনের মহাকাশ স্টেশনে months মাস অবস্থান করবেন এবং ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।

শেনঝো -১ man চালিত মহাকাশযান এবং চ্যাংজেং -২ এফ (লং মার্চ) ক্যারিয়ার রকেট 13 অক্টোবর উৎক্ষেপণ স্থলে আনা হয়েছিল।পাঁচ বছর পর মহাকাশে আবারো মানুষ পাঠিয়েছে চীন। তবে ঘুরতে-ফিরতে নয়, থাকতে। এক, দুই বা সাতদিনের জন্য নয়, টানা তিন মাসের জন্য। বৃহস্পতিবার তিন চীনা নভোচারী – নি হাইসেং, লিই বোমিং

এবং ট্যাং হংবো – গোবি মরুভূমির একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরে তৈরি নূতন মহাকাশ স্টেশনে রওনা হন। সাত ঘণ্টা পর তাদের বহনকারী শেনজু-১২ নামের ক্যাপসুল বা মহাকাশ যানটি মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছে। স্টেশনের ভেতর ১৭ মিটার লম্বা আর চার মিটার চওড়া সিলিন্ডার আকৃতির কক্ষে- যেটির নাম দেওয়া হয়েছে তিয়ানে – এই তিন নভোচারী থাকবেন,

মহাকাশে হাঁটবেন, দেখবেন এবং গবেষণা করবেন। রওনা হওয়ার সাত ঘণ্টা পর তাদের পৌঁছুনোর খবর আসার পর অভিযান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষায় থাকা চীনা বিজ্ঞানীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। আরও দেখতে পারেন: মহাকাশ নিয়ে এতো মরিয়া কেন চীন? মহাকাশে সামুদ্রিক প্রাণী পাঠিয়ে কী জানা যাবে?

পৃথিবীতেই সাজানো দেড় বছরের এক মহাকাশ অভিযান চীনের গাংসু প্রদেশে গোবি মরুভূমির ভেতর একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ১৭ই জুন (২০২১) সকালে রওয়ানা হয় শেনজু-১২ নভোযান ছবির উৎস,GETTY ছবির ক্যাপশান, চীনের গাংসু প্রদেশে গোবি মরুভূমির ভেতর একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ১৭ই জুন (২০২১) সকালে রওয়ানা হয় শেনজু-১২ নভোযান মহাকাশে নতুন একটি স্টেশন তৈরি

এবং সেখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষ পাঠানোর ঘটনা মহাকাশে চীনের উত্তরোত্তর ক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি নিদর্শন। গত ছ’মাসে মহাকাশে অসামান্য সব বৈজ্ঞানিক সাফল্য দেখিয়েছে চীন। গত বছর ডিসেম্বরে গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম চাঁদ থেকে মাটি ও পাথরের নমুনা নিয়ে এসেছে চীনের পাঠানো একটি রোবট-চালিত মহাকাশযান। মঙ্গলগ্রহে ছয়-চাকার একটি রোবট নামাতে পেরেছে চীন যেটি থেকে নিয়মিত নানা ছবি আসছে।

দুটো কাজই ছিল খুবই জটিল। নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনে কি করবেন? সেনজাও-১২ নভোযানের কম্যান্ডার নি হাইসেং এবং তার দুই সহযোগীর প্রধান কাজ হবে মহাকাশ কেন্দ্রে তৈরি সাড়ে বাইশ টন ওজনের তিয়ানে মডিউলটিকে সচল করা। নভোযানে ওঠার আগে মি. নি বলেন, “সেখানে গিয়ে আমাদের অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে… প্রথমে মহাকাশে আমাদের ঘর বাঁধতে হবে। নতুন কিছু প্রযুক্তিকে সচল করতে হবে।

এগুলো কঠিন কাজ এবং সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। তবে এই মিশনের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে আমরা তিনজনই যথেষ্ট আশাবাদী।“ চীনের নতুন স্পেস স্টেশনটির একটি মডেল ছবির উৎস,REUTERS ছবির ক্যাপশান, চীনের নতুন স্পেস স্টেশনটির একটি মডেল সিলিন্ডার আকৃতির তিয়ানে মডিউলটি মহাকাশে পাঠানো হয় এপ্রিলে। চীনের নতুন এই মহাকাশ স্টেশনে প্রথম এবং মূল স্থাপনাটি হবে এই মডিউল। পরে আরো দুটি মডিউল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।

ফলে, একসময় এটি ৭০ টন ওজনের একটি বড় মহাকাশ স্টেশনের রূপ নেবে যেটি কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে। এখানে থাকার জায়গা ছাড়াও, বিজ্ঞান ল্যাব এবং মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক হাবল-ক্লাস টেলিস্কোপ থাকবে। আগামী দু’বছর ধরে ধাপে ধাপে নতুন নতুন উপকরণ মহাকাশ স্টেশনটিতে যোগ করা হবে। উপকরণের সাথে যাবে নভোচারীদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ।

বদল হতে থাকবে নভোচারী, একদল যাবে, একদল ফিরে আসবে। কারা এই তিন নভোচারী শেনজাও-১২ নভোযানের যাত্রীদের পরিচয় চীন বুধবার পর্যন্ত গোপন রাখে। মিশনের নেতা নি হাইসেংয়ের বয়স ৫৬। তিনি চীনের সবচেয়ে অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে দুবার তিনি মহাকাশে গেছেন। ২০১৩ সালে তিয়াংগং-১ মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি ১৫ দিন ছিলেন। ঐ মহাকাশ সেশনটি এখন অকেজো এবং পরিত্যক্ত।

নভোযানে ওঠার আগে তিন চীনা নভোচারীকে সম্বর্ধনা দেয়া হচ্ছে। ছবির উৎস,GETTY IMAGES ছবির ক্যাপশান, নভোযানে ওঠার আগে তিন চীনা নভোচারীকে সম্বর্ধনা দেয়া হচ্ছে। মি. নি এর দুই সহযোগী লিউ বোমিং (৫৪) এবং ট্যাং হংবো (৪৫) তারই মতো একসময় চীনা বিমান বাহিনীতে ছিলেন। দু’হাজার আট সালে চীনা নভোচারীদের যে দলটি মহাকাশে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করেছিলেন, সেই দলের সদস্য ছিলেন লিউ বোমিং।

ট্যাং হংবো মহাকাশে একেবারে আনকোরা, অনভিজ্ঞ। আগামী তিনমাসে যে জ্বালানি, খাবার এবং অন্যান্য উপকরণ এই তিন নভোচারীর লাগবে তা গত মাসে রোবট চালিত একটি মহাকাশযানে করে তিয়ানেতে পাঠানো হয়েছে। মহাকাশে হাঁটা চলার জন্য দুটো স্পেস-স্যুট রয়েছে সেই চালানে। রোবট চালিত মালবাহী নভোযানটি তিয়ানের সাথে সেঁটে। এই তিন নভোচারী সেখানে গিয়ে থিতু হওয়ার পর সেসব মালামাল, রসদ বের করবেন।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
kidarkar
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com