kidarkar

ঝগড়ার সময় স্ত্রীকে হ’ত্যা করায় স্বামীর ফাঁ’সি : আপিলের রায় ১২ জুলাই

বাংলাদেশ

নাহিদ হাসান | ০৮ Jul ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০১ অপরাহ্ন

স্ত্রী হ’ত্যার দায়ে মৃ’ত্যু’দণ্ড মাথায় নিয়ে ১৪ বছর ধরে কারাগারে থাকা নীলফামারীর স্বপন কুমার বিশ্বাসের গরিব বলে তার করা জেল আপিলে ফি ছাড়া লড়াই করার জন্যে কারাগার থেকে চিঠি লিখেন।

ওই চিঠি পেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতো একজন বড় আইনজীবী বিনা পয়সায় স্বপনের মামলায় লড়তে রাজি হন। মামলায় তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকতে সুপ্রিম কোর্টের জুনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরকে আহ্বান জানান খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তারই ধারাবাহিকতায় স্বপন বিশ্বাসের আপিলের পক্ষে বিনা পয়সায় আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কারাগার থেকে স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে ওই ফাঁ’সির আসামি অনেক কাকুতি-মিনতি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে স্বপন লেখেন—তিনি গরিব মানুষ। আইনজীবী রেখে মামলা চালানোর সামর্থ্য তার নেই। এ কারণে তার মামলাটি বিনামূল্যে পরিচালনা করছি। এর আগেও কিছু মামলা আমি বিনামূল্যে পরিচালনা করেছি।’

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চে স্বপন কুমারের মামলার শুনানি হয়।

শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, স্বপ্না ঘোষকে পরিকল্পনা করে হ’ত্যা করা হয়নি। পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাসকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড কোনোটাই দেয়া সমীচীন হবে না। এ মামলায় প্যানাল কোডের ৩০৪/২ ধারা অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের বেশি হতে পারে না।

শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেনকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ আসামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বহাল রাখার আর্জি জানান।

শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জাগো নিউজকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত রায়ের জন্য আগামী ১২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয় নিয়ে ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন স্বপন। এতে স্বপ্না ঘোষ মারা যায়।

এ হ’ত্যাকাণ্ডে’র অপরাধে দায়ের হওয়া মামলায় ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর নীলফামারীর দায়রা জজ আদালত তাকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এরপর ডেথ রেফা’রেন্স আসে হাইকোর্টে।

২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি সাহিদুল ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাস আপিল আবেদন করেন। আপিল বিভাগে আজ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামী ১২ জুলাই দিন ধার্য করেন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar