kidarkar

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা

বাংলাদেশ

নাহিদ হাসান | ০২ Jul ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮ অপরাহ্ন

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে আমার সব সহযোগী ক্রীড়া সাংবাদিক ভাই, বোন, বন্ধু সবাইকে অভিনন্দন। প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। আন্তরিক ভালবাসা। বিশ্বের সকল ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রতিও আমার শুভেচ্ছা, ভালবাসা।

বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু বলতে বা লিখতে গেলে একটি নাম সবার আগে চলে আসে। তিনি কামরুজ্জামান। আমাদের সবার প্রিয় জামান ভাই। তিনিই বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার অগ্রদূত, পথিকৃত।

সর্বজন শ্রদ্বেয় জনাব কামরুজ্জামান ‘জামান’ ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা, খেলোয়াড়ী জীবনে ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। সেই পাকিস্তান আমলে, ৫০-এর দশকের শেষ ভাগ থেকে ৬০ দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ঢাকা ফুটবল ও ক্রিকেট লিগে দাপটের সাথে খেলেছেন জামান ভাই।

ফুটবলে আজাদ স্পোর্টিয়ের তুখোড় সেন্টার ফরোয়ার্ড ছিলেন। আর ক্রিকেটে ন্যাশনাল স্পোর্টিয়ের ক্যাপ্টেন ছিলেন। ঢাকা ফুটবল লিগে হ্যাটট্রিক আর ক্রিকেট লিগে একাধিক শতরানের কৃতিত্বও আছে জামান ভাইয়ের।

মোট কথা, ক্রীড়াবীদ হিসেবেই তিনি ছিলেন বরেণ্য, সমাদৃত। সেই জামান ভাই অন্য সব পেশা ছেড়ে আজ থেকে চার যুগ আগে, একদম ষাটের দশকের শুরুতে ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেয়া ছিল অলিক কল্পনা।

এক হাজারে একজনও হয়ত ওই সময় ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতেন না। কারণ, সেটা পেশা হিসেবে নেয়ার মত ছিল না। অর্থকড়ি, মাইনে ছিল নামমাত্র। এখনকার সাংবাদিকদের বেতন ভাতার সাথে যার কোন তুলনাই চলে না।

সবচেয়ে বড় কথা, তখন দৈনিক পত্রিকায় স্পোর্টস নিউজ তেমন গুরুত্বই পেত না। টিভি চ্যানেল আর অনলাইন ছিল না। পত্রিকার পাতায় মাত্র কয়েক ইঞ্চি জায়গা বরাদ্দ থাকতো স্পোর্টস নিউজের জন্য। ওই সময়ে কামরুজ্জামান ভাই ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেন।

তার সঙ্গে পত্রিকার খেলার পাতা ও সাপ্তাহিক ফিচার পাতায় খেলাধুলা নিয়ে লেখালেখি করে আমাদের পূর্বসুরি হয়ে শ্রদ্ধার আসনে বসে আছেন আরও অনেকে। সে তালিকায় প্রয়াত আব্দুল মান্নান লাডু ভাই, প্রয়াত এবিএম মুসা, প্রয়াত বদিউজ্জামান, প্রয়াত তৌফিক আজিজ খান, প্রয়াত আব্দুল হামিদ, প্রয়াত আতাউল হক মল্লিক, প্রয়াত এনায়েতউল্লাহ খান, প্রয়াত মাসুদ আহমেদ রুমি, প্রয়াত রউফুল হাসান, প্রয়াত অজয় বড়ূয়া, প্রয়াত রনজিত বিশ্বাস, বিডি মুখার্জি, জালাল আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল তৌহিদ, কবি সানাউল হক খান- প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

এরপর মঞ্জুরুল হক মঞ্জু ভাই, কাশিনাথ বসাক (কাশি দা), আফজাল এইচ খান, আজম মাহমুদ, ডঃ নিজাম ও ইকরামউজ্জামানরা শত প্রতিকুলতার মধ্যে নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শুধু খেলাধুলাকে অন্তর দিয়ে ভালবেসে লেখালেখি করে যাচ্ছেন।

শ্রদ্ধেয় কামরুজ্জামান ভাই দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ দৈনিক ‘দৈনিক বাংলার’ স্পোর্টস ইনচার্জ হওয়ার পর প্রথমে অর্ধেক পাতা এবং পরে পুরো পাতা খেলাধুলার এর জন্য বরাদ্দ থাকতো। দৈনিক বাংলার খেলার পাতায় লিখতেন সব দেশ বরেণ্য ক্রীড়া লেখকরা। জামান ভাই স্ব-প্রণোদিত হয়ে তাদের লেখা ছাপাতেন। জামান ভাই নিজের নাম ছাড়াও ‘অনুষ্টুপ’ ছদ্মনামে স্পোর্টস-এর কলাম লিখতেন। সেটাই ছিল পত্রিকার পাতায় স্পোর্টসের প্রথম ছদ্মনামের কলাম।

এখন ক্রীড়া সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের চাহিদা আছে। পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল আর অনলাইনে খেলাধুলার খবর গুরুত্ব পাচ্ছে। দর্শক, পাঠক চাহিদাও প্রচুর। স্পোর্টস পেইজ ভাল না হলে পত্রিকা দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায় এখন। প্রতিষ্ঠিত বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় এক থেকে দুটি পাতা বরাদ্দ থাকছে খেলাধুলার জন্য। নিউজ চ্যানেলগুলোতে স্পোর্টস পাচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্ব। খুব ভাল বিনোদন টিভি চ্যানেলেও খেলার খবর ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে।

অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোয় স্পোর্টস হচ্ছে অন্যতম উপাদান। প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় স্পোর্টসের খবর পাচ্ছে সর্বাধিক অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের খেলাধুলার অনুরাগি তথা ক্রীড়াপ্রেমিদের বড় অংশের আছে বিরাট ঋন।

দৈনিক বাংলায় দেশ ও বিদেশের খেলার সব রকমের খবর মিলতো। দৈনিক বাংলার সাথে সাথে ‘দৈনিক সংবাদ’ আর ‘দৈনিক ইত্তেফাকের’ খেলার পাতাও ছিল প্রসিদ্ধ। দৈনিক বাংলার সাপ্তাহিক আয়োজন ‘বিচিত্রার’ খেলার পাতা ও ফিচারগুলোও ছিল অনেক ভাল। প্রচুর পাঠক প্রিয়।

এছাড়া ইত্তেফাক গ্রুপের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘রোববার’-এ লেখালেখি করতেন আমাদের পূর্বসুরিরা। এরপর ৭০-এর দশকে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র মাসুদ আহমেদ রুমি (দৈনিক বাংলা), রউফুল হাসান (অবজারভার), বিডি মুখার্জী (অবজারভার), অজয় বড়ূয়ার (দৈনিক সংবাদ) মত মেধাবী ও জানাশোনা সাংবাদিকরা পত্রিকায় খেলাধুলা নিয়ে লেখার কাজ শুরু করলে ক্রীড়া সাংবাদিকতার মান আরও বৃদ্ধি পায়।

তাদের পরে মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ভাই, দিলু খন্দকার দিলু, সৈয়দ মামুন, ফরহাদ টিটো, দুলাল মাহমুদ, সালমা রফিক, শুভ্র দা (উৎপল শুভ্র) প্রমুখ বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও ক্রীড়া লিখনিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

দৈনিক বাংলা, সংবাদ, ইত্তেফাক পরবর্তী সময়ে ৮০’র দশকের শেষদিকে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতায়। প্রথমে দৈনিক ‘আজকের কাগজ’, পরে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকা বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আনে নতুনধারা।

সংবাদ পরিবেশনা, ছবির ডিসপ্লে এবং প্রায় প্রতিদিন এর-ওর ইন্টারভিউ ছাপা হতো। সব মিলিয়ে মাঠের তরতাজা খবরগুলোয় আসে নতুনত্ব, বৈচিত্র। তা প্রচুর পাঠকপ্রিয়ও হয়। তখনকার খেলাপ্রেমিদের বড় অংশ ৮০’র দশকের শেষভাগে আজকের কাগজ ও ভোরের কাগজ পড়তে শুরু করে দেন।

সঙ্গে ইনকিলাব পত্রিকার খেলার পাতাও মোটামুটি জনপ্রিয় ছিল। আর ইংরেজিতে অবজারভার, টেলিগ্রাফ, বাংলাদেশ টাইমস, ডেইলি স্টার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নিউ নেশন, নিউ এইজ, ঢাকা ট্রিবিউন, মর্নিংসান ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকেই খেলার খবর থাকতো প্রচুর।

আর ৯০ দশকের একদম শুরুতে দৈনিক ‘জনকন্ঠ’ ও খেলাধুলার খবর পরিবেশনায় রেখেছে বড় ভূমিকা। প্রতিদিন দুই পাতা স্পোর্টস আর দুই পাতা সাপ্তাহিক ফিচার নিয়ে ৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাজারে আসে দৈনিক জনকন্ঠ। জনকন্ঠের সাপ্তাহিক স্পোর্টস ফিচার পেইজে রনজিত কুমার বিশ্বাস আর ইকরামউজ্জামানের মত লেখকরা নিয়মিত লিখতেন।

এরপর দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, আমার দেশ ও কালের কন্ঠ’র খেলার পাতাও প্রচুর পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। পরের প্রজন্মের বেশ কয়েকজন মেধাবি ও প্রতিভাবান স্পোর্টস রিপোর্টার এসব পত্রিকায় ক্যারিয়ার শুরু করে আজ সু-প্রতিষ্ঠত। এছাড়া টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে একুশে টেলিভিশন, এটিএন বাংলা, এনটিভি, একাত্তর টিভি, চ্যানেল ২৪, যমুনা টিভি, সময় টিভি, মাছরাঙ্গা আর বাংলাভিশনও টিভি স্পোর্টস রিপোর্টিংয়ে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সময়ের প্রবাহমানতায় এখন ক্রীড়া সাংবাদিকতা অনেক সহজ হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশনাও সহজ হয়েছে। তবে ৭০ ও ৮০’র দশকে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য উপাত্ত জোগাড় করা ছিল খুব কঠিন। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা ৯০ দশকের পর নানা প্রয়োজনীয় ও সহায়ক উপাদান, উপকরণ হাতের নাগালে পেয়ে যান।

এখন তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করার অত্যাধুনিক উপাদান একদম নাগালের মধ্যে। ইন্টারনেট সব কিছু হাতের মধ্যে এনে দিয়েছে। তথ্য সংগ্রহ খুব সহজ হয়ে গেছে; কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রথম দিকে এসব কিছুই ছিল না। ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচ, ফুটবল, হকির মহাদেশীয় ও বিশ্ব পর্যায়ের ম্যাচ কমেন্ট্রি শুনে পত্রিকায় নিউজ করতে হয়েছে ৭০ দশকের প্রায় পুরো সময়।

এখন মহাদেশীয় , বিশ্ব ক্রীড়া আসর সব সরাসরি টিভিতে সম্প্রচারিত হয়। ৭০-৮০ এর দশকে এখনকার মত অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা ছিল না। স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ আর মোবাইল তো কিছুই ছিল না।

এখন ইংলিশ, ফরাসী, জার্মান, ইতালিয়ান ও স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ঘরে বসে টিভিতে দেখা যাচ্ছে। দেখে নিউজ করা যাচ্ছে। সহায়ক অনেক ওয়েবসাইটও প্রতি মুহুর্তের বর্নণা দিচ্ছে। তাও আহরণ করে রিপোর্ট, প্রতিবেদন তৈরি করা যাচ্ছে। অথচ এক সময়, বিশেষ করে ৭০ দশকে এসব সুযোগ সুবিধা কল্পনাও করা যেত না।

আর এখন বিশ্বকাপ কেন, ক্লাব ফুটবল, টেস্ট সিরিজ, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ঘরে বসে দেখা যাচ্ছে এবং নানা ক্রিকেট ওয়েবসাইটে প্রতিটি বলের বর্ননা নানা পরিসংখ্যানও মিলে যাচ্ছে মুহূর্তের মধ্যে। খুব স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রতিবেদন তৈরিও হয়েছে অনেক সহজ।

এমনকি আমরা যখন ৯০ দশকের একদম প্রথম ভাগে সাংবাদিকতা শুরু করি, তখনো এখনকার তথ্য সংগ্রহের তিন ভাগের এক সুবিধাও ছিল না। দেশের বাইরের খেলাধুলার খবর আসতো শুধু টেলিপ্রিন্টারে। রয়টার্স, এএফপি, এপি, পিটিআই- এসব নামী বার্তা সংস্থার পাঠানো খবরই ছিল ভরসা।

সেগুলো বাংলা অনুবাদ করেই ছাপানো হতো। এখনকার মত অবাধ তথ্য প্রবাহ মানে ইন্টারনেট ছিল না। গুগল, ইউকিপিডিয়া, ফিফা.কম, বিবিসি, ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ ছিল কিছুই আসেনি তখন।

খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের ইন্টারভিউ করতে মাঠে, ক্লাবে কিংবা অফিস- বাসায় ছুটতে হতো। আর এখন মোবাইলে, ম্যাসেঞ্জারে, হোয়াটসআপে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধে ইন্টারভিউ করা যাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য মোবাইল হচ্ছে সর্বোত্তম মাধ্যম। তখন এসব কিছুই ছিল না তখন। সরাসরি মাঠে গিয়ে ন্যাশনাল টিম, ক্লাব, সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন অফিস কিংবা ক্লাবে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে হতো।

শুধু তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়াই সহজ থেকে সহজ হয়নি। লেখালেখির কাজ এবং অফিসের বাইরে থেকে রিপোর্ট, ফিচার পাঠাতেও এখন আর কোনোই ঝক্কি পোহাতে হয় না। এখন মেইলে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিউজ পাঠানো যাচ্ছে। অথচ আমার সাংবাদিকতা জীবনের প্রথম ১০ বছর নিউজ লিখে অফিসের বাইরে থেকে পাঠাতে হতো ফ্যাক্সের মাধ্যমে।

আমি নিজে তিনটি বিশ্বকাপ ক্রিকেট (১৯৯৬, ১৯৯৯ ও ২০০৩) এবং ৯৭’র আইসিসি ট্রফি কভার করেছি হাতে লিখে, ফ্যাক্সে নিউজ পাঠিয়ে। সেগুলো পাঠানো সহজ ছিল না একদমই। ফ্যাক্সে অনেক সময়ই লিখা অস্পষ্ট আসতো। আবার কখনো আসতোই না। বারবার চেষ্টা করে তারপর ফ্যাক্স লাইন পাওয়া সাপেক্ষে নিউজ পাঠাতে হতো। ৯৭’র আইসিসি ট্রফি আর ২০০৩-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ কাভার করতে গিয়ে ওই ফ্যাক্সে নিউজ পাঠাতে গিয়ে আমি যে অবর্ণনীয় কষ্ট এবং বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয়েছি, তা আমার আড়াই যুগের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় কষ্ট, হতাশা আর বিড়ম্বনা হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আছে।

বিশ্ব এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার মানও দিনকে দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। কামরুজামান, বদিউজ্জামান, আব্দুল হামিদ, আতাউল হক মল্লিকদের উত্তরসুরিরাও অনেক এগিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা এখন একটা মানদণ্ড তৈরি করে নিয়েছে।

উপমহাদেশীয় পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ অন্যান্য স্পোর্টস রিপোর্টিংয়ে আমাদের সাংবাদিকরা যথেষ্ঠ সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। এবং জোর দিয়ে বলা যায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভাল সুনাম আছে। তাদের মেধা, জানা-বোঝা ও লিখনীর প্রশংসা দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

উৎপল শুভ্র, মোস্তফা মামুন, নোমান মোহাম্মদদের লিখা আনন্দ বাজারের মত ভারত প্রসিদ্ধ পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ইসাম মোহাম্মদ আর আতিফ আজম যথাক্রমে ক্রিকইনফো আর ক্রিকবাজের মত বিশ্বমানের ক্রিকেট ওয়েবসাইটের এখন প্রতিষ্ঠিত রিপোর্টার। তাদের লেখা প্রতিনিয়ত লাখ ক্রিকেট অনুরাগিরা পড়ছেন। শফিকুল আলম, আজাদ মজুমদার বার্তা সংস্থা রয়টার্স আর এএফপির হয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ইভেন্টগুলো কভার করছেন। তাদের লিখাও বিশ্ববাসী পড়ছেন। এগুলোই ক্রীড়া সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রামাণ্য দলিল।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar