kidarkar

চে’কপোস্টে কোথাও আছে পুলিশ, কোথাও নেই

বাংলাদেশ

নাহিদ হাসান | ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০২:৪৫ অপরাহ্ন

প্রথম দফার লকডাউন শেষে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। প্রথম দফায় রাজধানীবাসীকে লকডাউন মানাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ভূমিকায় ছিল। তবে দ্বিতীয় দফার এসে তেমনটি আর দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয়েছেন। আবার অনেকেই মুভমেন্ট পাস না নিয়েই বের হয়েছেন।

রাজধানীর ফার্মগেট মোড়ে প্রথম সপ্তাহে কঠোর লকডাউনে চে’কপোস্টে পুলিশের ভূমিকা ছিল খুবই কড়াকড়ি। চে’কপোস্ট দিয়ে একটি গাড়িও পুলিশের চে’কিং ছাড়া বের হতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফার লকডাউনে পুলিশের কড়াকড়ি তো দূরের কথা, চে’কপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি।

ফার্মগেট মোড়ে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেজগাঁও জোনের একজন সার্জেন্ট জাগো নিউজকে বলেন, আমরা মাত্রই চে’কপোস্ট থেকে এসে বসেছি। আগের সপ্তাহে যেমন মানুষ মুভমেন্ট পাস ছাড়া বের হয়েছিল কিন্তু আজকে তা দেখা যাচ্ছে না। শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হয়েছেন।

রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার মোড়েও পুলিশের চে’কপোস্ট চোখে পড়েনি। গাড়ির সিগন্যাল দেয়ার জন্য দুই-তিনজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো গাড়ি চে’ক করতে দেখা যায়নি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা উদ্যান, ধানমণ্ডি, বাংলামটর, শাহবাগ ও কাকরাইলে একই চিত্র।তবে রাজধানীর কিছু চে’কপোস্টে কড়াকড়ি দেখা গেছে। এর মধ্যে, মিরপুর, গাবতলি, ঢাকা কলেজ মোড়ে চে’কপোস্ট, পল্টন মোড়, মতিঝিল ও গুলিস্তান রয়েছে।

পল্টন মোড়ে দায়িত্বরত মতিঝিল জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আরেফিন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে মানুষ বেশি বের হলেও বেশিরভাগই মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হচ্ছে। ২০টি গাড়ির মুভমেন্ট পাস চে’ক করলে ১৯টি গাড়িতেই পাস পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে। বের হলে অন্তত মাস্ক পরে বের হচ্ছে এবং সঙ্গে মুভমেন্ট পাস রাখছে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার নেয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরও দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়।

বর্তমানে লকডাউনে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ-সং’ক্রা’ন্ত অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।এদিকে প্রথমে ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিলেও পরে তা আবার খোলার সিদ্ধান্ত হয়। আর শিল্পকারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু রয়েছে।

এদিকে, গতকাল বুধবার করোনাভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে সারাদেশে আরও ৯৫ জনের মৃ’ত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে মোট মৃ’তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ৬৮৩ জন। একই সময়ে করোনাভাইরাসে নতুন আ’ক্রা’ন্ত হিসেবে শনাক্ত হয় আরও চার হাজার ২৮০ জন। এ নিয়ে মোট আ’ক্রা’ন্ত রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ৩২ হাজার ৬০ জন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar