kidarkar

বাংলাদেশে আবারও তৎপর কূটনৈতিক পাড়া

বাংলাদেশ

নাহিদ হাসান | ৩১ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৫:০৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে করোনা বিরতিতে প্রায় এক বছর ধরে কূটনৈতিক পাড়ায় একটি নিস্তব্ধতা ছিল। কূটনৈতিক মহলে তেমন তৎপরতা ছিল না। তাছাড়া, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে নিয়ে চর্চা এবং বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের অতীতের যে কৌশলগুলো ছিল, সেগুলো থাকেনি।

বরং বাংলাদেশের সঙ্গে একটা বানিজ্যিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে বাণিজ্য পরিধি বৃদ্ধি করা ছিল কূটনৈতিক পাড়ায় সবচেয়ে প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবার বাংলাদেশকে নিয়ে তারা স্বভাবতই উদ্বেগ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করার জন্য এবং পারস্পরিক সমঝোতার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ চোখে পড়ছে এবং এই কূটনৈতিক তৎপরতার একাধিক দিক রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি তৎপর হলো ভারতের দূতাবাস। তারা একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক সীমিত রাখা, পাকিস্তান কি করছে সেদিকে নজর রাখা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আগামী মার্চে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে কূটনৈতিক মহল ব্যস্ত বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম দূতাবাস হলো মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাস বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণ এবং একটি গণতান্ত্রিক সেকুলার রাজনৈতিক শক্তি বিকাশের ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

চীন বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় নীরবে-নিভৃতে। চীনের মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক সহজীকরণ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে চীন পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

তবে এই সময় সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলছে এবং প্রভাবিত করার জন্য কাজ করছে। দেখা যাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতি, ভোট এবং জনগণের স্থানীয় সরকার নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ করছে এবং বাংলাদেশের কিছু কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তবে এই সমস্ত কূটনৈতিক উদ্বেগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ছোট্ট পরিসরে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ বাংলাদেশে এখন কূটনৈতিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে কারোর উপরে নির্ভরশীল নয়। কাজেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশে সাময়িক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar