kidarkar

ডিভোর্সের পর মে’য়েরা একা থাকতে পারে না কেন

অদ্ভুত খবর

নাহিদ হাসান | ২৭ জানুয়ারী ২০২১, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১১ অপরাহ্ন

হ্যাঁ, ঠিক এই প্রশ্নটিই আমি করেছিলাম আমা’র পরিচিত-অ’পরিচিত অসংখ্য মানুষকে। আমাদের সমাজে’র অ’ত্যন্ত প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে- “ডিভোর্সের পর মে’য়েরা একা থাকতে পারে না!” শুধু ধারণা হয়, বলা যায় বদ্ধমুল ধারণা।

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও অসংখ্য মে’য়ে এই ধারণাটির কারণে স’ম্পূর্ণ জীবনটি কা’টিয়ে দেন ক’ষ্ট আর হ’তাশায়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধারণাটি কতটুকু সত্যি? বা এই ধারণাটা নিয়ে কী’’ ভাবেন বর্তমানের না’রী-পুরু’ষ?

যাদের কখনো ডিভোর্স হয়নি বা খুব কাছের কারো ডিভোর্স দেখা হয়নি… তাঁরা হয়তো কখনোই বুঝতে পারবেন না মূ’ল অবস্থাটি। কিন্তু যারা গিয়েছেন বা এখনও যাচ্ছেন এই প’রিস্থিতির মাঝ দিয়ে? হ্যাঁ, একমাত্র তারাই বলতে পারবেন যে সত্যিকারের প’রিস্থিতিতি কেমন।আর তাই আমা’র প্রশ্নটি ছিল এমন কয়েকজন না’রীর কাছে,

যিনি ডিভোর্স পরবর্তী সময়টি মো’কাবেলা ক’রেছেন বা খুব কাছের কারো ডিভোর্স দেখেছেন।আমি জানতে চেয়েছিলাম এই ব্যাপারে তিনি কী’’ মনে করেন, জানতে চেয়েছিলাম তাঁদের জীবনের ঝ’ড়ঝাপটা গুলোর কথা।

কী’’ জবাব মিল? তাঁদের মন্তব্যগুলো নাহয় হুবহু-ই তুলে দিচ্ছি পাঠকের জন্য। বাকিটা পাঠক নিজ বিবেক দিয়ে বিবেচনা করবেন। নাজিয়া মুশতারী (৩০) আমি থাকি আম্মুর সাথে.. সেরকমভাবে কোন স’মস্যায় পড়িনি, বিকজ অফ আমা’র ভ’য়াবহ অ্যারো’গেন্ট ইমেজে’র জন্য। এবং এটা আমি নিজেই বানিয়েছি।

আমা’র ডিভোর্স হয়ে গেছে আমি অচ্ছুত হয়ে গেছি, আমা’র কেউ নাই- এরকম লুতুপুতু ইমেজ বানালে যে কেউ বির’ক্ত ক’রতে আসবে। আর সবচে মজার বি’ষয় হচ্ছে আমা’র ব্যাপারটা থা’না পু’লিশ জে’ল অব্দি গড়িয়েছিল, কিছুটা হলেও শা’স্তি দিতে পেরেছিলাম, তাই সবাই এই ভ’য়টাও পায় কী’’ভাবে লাল দালানে চালান দিতে হয় সেটা আমি জানি,

তাই আমাকে না ঘাটানোই ভাল।আর একা থাকার আরেকটা বি’ষয় নিয়ে স’মস্যা হয় সেটা হলো বাসাভাড়া কেউ দিতে চায়না, আবার বাচ্চার স্কুলে অন্য ম’হিলাদের অযথা কৌতুহল এবং সব সময় নিজেকে একটু সা’বধানে রাখতে হয় যাতে কেউ গু’জব রটাতে না পারে।

তবে এগুলাও মেন্টেন করা যায়।আম’রা কেউ ছোট বাচ্চা তো না যে নিজে’র অ’সুবিধা বুঝবোনা। একা থাকার সবচে বড় শর্ত হচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়া, স্বাবলম্বী যে কেউ একা থাকতে পারে। কারো অনুগ্রহে বা অধীনে বাঁচতে গেলেই একা থাকা’টা আর হয়ে ওঠেনা।

সাবরিনা খান (৩৪), ব্যাংকার আমি ঠিক একা না। মা সাথে থাকে। দোকা থাকা অবস্থাই মা আমা’র সাথে থাকতো। তবে মা আমাকে আবার বিয়ে ক’রতে আ’গ্রহী নই বলে ফ্ল্যাট কিনতে বলে।

সে সহ সবাই ভ’য় দেখায় মা চিরজীবন থাকবে না, তখন আমা’র থাকার জায়গা থাকবেনা। আমি ভাবছি শুধু থাকার জায়গার জন্য কি বিয়ে করা লাগবে!শাফিয়া (২৮),

গৃহিণী সমাজে’র মানুষ তো একা থাকলেও বলবে, দোকা থাকলেও বলবে। একা বা দোকা থাকা স’ম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার হওয়া উচিৎ। তবে সমাজে’র কথাটা একেবারেই ফে’লে দেওয়ার মতো ও নয়। কারণ-

১. প্রতিটা মানুষেরই একজন সংগী লাগে। যে সু’খে দু:খে পাশে থাকবে।মানছি মে’য়েরা অনেক স্ট্রং, তারপরও, লাগে কিন্তু একজনকে। শা’রীরিক মা’নসিক চা’হিদা পূরণের জন্য।

অনেকেই হয়তো শা’রীরিক চা’হিদা উপেক্ষা করে থাকতে পারে (রেশিওটা অনেক কম কারণ শা’রীরিক স’ম্পর্ক একবার হলে সেটাকে অগ্রাহ্য করাটা টাফ), অনেকে না পারায় অ’নৈতিক স’ম্পর্কে লি’প্ত হয়।আবার কেউ হয়তো মা’নসিক সাপোর্ট এর জন্যও একা থাকতে চায় না।

২. এই সমাজে’র মানুষই একা থাকতে দিবে না। একা মে’য়ে সাবলেটে থাকলেও খা’রাপ, একা থাকে। আবার চাকরি খুঁজতে গেলেও আগে বি’ছানায় যাওয়ার প্রস্তাব পায়…. তো বেশিরভাগ মানুষইযেহেতু সুযোগ সন্ধানী

তারা তো এভাবেই দেখবে যে একা মানেই একা না, নিশ্চয়ই তার অ’বৈ’ধ স’ম্পর্ক আছে। এই বাঁকা চোখটা এড়িয়ে ফাইট ক’রতে ফ্যামিলি সাপোর্ট লাগে যেটা অনেকেই পায়না।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar