kidarkar

শি’বির বলেই তলপেটে লাথি, বললেন আ’হত ছন্দা

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ০৭ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০৩ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হা’মলায় আ’হত হন মারিয়াম রশিদ ছন্দা।

ছন্দার ওপর হা’মলার সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের এক কর্মী ছন্দার পেটে লাথি মারেন। এতে যন্ত্রণায় মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। হা’মলার শি’কার মারিয়াম মাটিতে শুয়ে কিছুক্ষণ কাতরান। এ সময় তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যান তার সহপাঠীরা।

আ’হত জাবি ছাত্রী মারিয়াম রশিদ ছন্দা সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এ বি’ষয়ে মঙ্গলবার রাতে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) আজীবন মনে রাখবার মতো দিন। আন্দোলনে গিয়েছিলাম সাংস্কৃতিক কর্মীর যে দায়বদ্ধতা থাকে সেখান থেকে, বিবেকের তাড়নায়। সবাই বলে দ্রোহের কবিতা আমার কণ্ঠে বেশ ভালো যায়, দ্রোহটা আমার স্বভাবজাত।

অন্যায় দেখলে আমি চুপ করে থাকিনি কোনো দিন সেটি ঘরে বা বাইরে যেখানেই হোক। কিন্তু কাউকে অসম্মান, আ’ঘাত করা, হেয় করা আমার ধাতে নেই, আমি প্রতিবাদটাও ওই ভাষায়ই করি, সব সাংস্কৃতিক কর্মীও তাই করে। আমাদের শিক্ষা এই।

অথচ সেই আমাকেও বলা হলো শিবির এবং এভাবে আমার তলপেটে লাথি দেয়াকে জাস্টিফাই করা হলো। আমার শিক্ষককে মাটিতে ফেলে পে’টানো হলো আমার বন্ধুকে পে’টানো হলো এবং সেখানে আমরা মেয়েরা ব্যারিকেড দিলাম যেন স্যারের গায়ের আগে আমাদের গায়ে মার লাগে।

ঠিক তখন কুমিরের কান্না দেখাতে ছাত্রলীগ এলো এবং স্যারকে উ’দ্ধারের নাম করে পা ধরে টেনে নিয়ে গেল এবং সেখান থেকে বিকাল পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি।

এতদিন শুনেছি, অল্প-বিস্তর দেখেছি এদের তাণ্ডব; কিন্তু এই পরিস্থিতিতে না পড়লে কখনই জানতাম না এরা আসলে কী! আমি কিছুই বলব না, কাউকে অভিশাপ দেব না, রাগ করব না, আমি সব ভুলে যাব সত্যি বলছি কেবল এইটুকু স্মৃ’তি ছাড়া।

যারা এই হা’মলা নেতৃত্ব দিলেন, নীরব সমর্থন দিলেন এবং এত কিছুর পরও প্রতিবাদ করলেন না আজকের পর থেকে আপনাদের চোখের দিকে তাকাতে আমার ইচ্ছা করবে না, যে সকল মহান শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র, বন্ধু, জুনিয়ররা ন্যায়ের পেটে লাথি মারলেন, সত্যের পেটে লাথি মারলেন, পাজর ভাঙলেন আমি তাদের সবিনয়ে অনুরোধ করছি- আপনাদের সঙ্গে আমার হৃদয়ের বন্ধন কে’টে গেছে, ক্যাম্পাসে হয়তো আর এক বছর দেখব বড়জোর, আমাকে ফেসবুক থেকে এখনই রিমুভ করে দিন।

আপনাদের প্রত্যেককেই আমি চিনি, এ ঘটনার পর আপনাদের ফেসবুক বন্ধু হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।

দুপুর ১২.৩০ মিনিট থেকে এ পর্যন্ত ৩ বার পেইনকিলার দেয়া হলো, ব্যথাটা কমছে না, আমার পাশের ওয়ার্ডে আমার বন্ধু, জুনিয়র কাতরাচ্ছে। এই ব্যথা নিয়েও তাই লিখলাম। সত্যি বলছি- আপনাদের আমার প্রয়োজন নেই। আমি আমার প্রিয়জনদের চিনে গেছি, আমি আমার মানুষ চিনে গেছি। শুনে রাখু’ন এ ব্যথাই এদের শক্তি, এই ব্যথাই এদের বহুদূর নিয়ে যাবে। আর মনে রাখু’ন যে আ’গুন মিটমিট করে জ্বলছিল একজনের মনে, সে আ’গুন একসময় দপদপিয়ে উঠল সবার মাঝে। একবার সবার মাঝে আ’গুন জ্বলে উঠলে মূল মিটমিটে আ’গুন না থাকলেও সমস্যা নেই।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar