kidarkar

শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ০৫ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে স্কুলের শি’শু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করানোর অ’ভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসির বি’রু’দ্ধে।

পটুয়াখালী সদর উপজে’লার ১৯ নং শিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন শি’শু শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর চিত্র দেখা গেছে। শুধু কাজ করানো নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ এবং নির্দেশ রয়েছে বলে দিন-রাত হু’মকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে শি’শুদের। এ সময় একাধিক শিক্ষিকাদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। ওই প্রধান শিক্ষিকার স’ঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সখ্য থাকায় মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ।

সরেজমিন সোমবার রাতে এবং ম’ঙ্গলবার দিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালী সদর উপজে’লার ১৯ নং শিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাজসজ্জার জন্য ধৌত এবং ঘষামাজা করছে ওই স্কুলের শি’শু শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ে কাজ করা বি’ষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ সময় প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসি বলেন, সরকার এবং ইউনিসেফের সহায়তায় স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামত এবং সাজসজ্জা, চিত্রাঙ্কন কাজ চলছে।

শ্রমিকের কাজ কেন স্কুল শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, উপজে’লা শিক্ষা অফিসার এবং অর্থ বরাদ্দকারী ইউনিসেফের অনুমতি রয়েছে। তাই শি’শুদের দিয়ে ধৌত করানো হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শি’শু শিক্ষার্থীদের হু’মকি-ধমকি এবং মৃদু আ’ঘাত করে কাজ করতে বাধ্য করছেন।

এ প্রস’ঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, শি’শুরা কাজে তো একটু অমনোযোগী হবেই। তাই তাদের কাজে মনোনিবেশ করতে একটু ই-ই করা হয়েছে।

তবে এ প্রস’ঙ্গে ওই স্কুলের কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতিনিধির স’ঙ্গে কথা বলতে রাজি নয়। এ সময় শিক্ষার্থী এবং তাদের অ’ভিভাবকের স’ঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ভ’য়ে ভীত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষিকা ওই বিদ্যালয়ে একযুগ ধরে চাকরি করছেন। সবকিছু তার অনুকূলে থাকায় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না। তিনি প্রতিনিয়ত সবার স’ঙ্গে রুক্ষ আচরণ করে থাকেন।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রতিবছর বিভিন্ন বরাদ্দের সিংহভাগ তিনি নিজেই হাতিয়ে নেন। বরাদ্দের অর্থ বাস্তবায়ন হয় শুধু কাগজপত্রে।

এ প্রস’ঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান মুক্তা মিয়া বলেন, এলাকার কিছু ছে’লেপেলে রয়েছে যারা এই স্কুলের পোশাক পরে থাকতে ভালোবাসে। তারা হয়তো ওই কাজে ছিল। শি’শু শিক্ষার্থীরা কোনো কাজ করেনি।

এ প্রস’ঙ্গে উপজে’লা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইস’লাম বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানোর নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা আমা’র নেই। এটা সম্পূর্ণ বে-আইনি। এ ধরনের অ’ভিযোগ পেলে অ’ভিযুক্তদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar