kidarkar

পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট, ৪২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ১৫০ টাকায় বিক্রি!

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ০৫ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯:১৭ অপরাহ্ন

মিয়ানমা’র থেকে আসা পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪২ টাকা। সেখানে দেশের বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পিছনে রয়েছে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকে’টের কারসাজি।

অ’ভিযোগ দামের এই কারসাজিতে জ’ড়িত আমাদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আড়তদাররা। ভারত গত ২৮ অক্টোবর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। রপ্তানি বন্ধের আগের দিনও বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিলো ৮০ টাকা। খবর ডয়চে ভেলের।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ থাকলেও দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। পেঁয়াজ আসছে মিয়ানমা’র থেকেও। তারপরও দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণ।

চট্টগ্রাম জে’লা প্রশাসন এই দর বৃদ্ধির পিছনে মিয়ানমা’র থেকে পেঁয়াজ আমাদানিকারক ১২ জনের একটি সিন্ডিকেট’কে দায়ী করেছে। তারা কক্সবাজারের টেকনাফভিত্তিক আম’দানিকারক। চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইস’লাম খাতুনগঞ্জে অ’ভিযান চালাতে গিয়ে এই সিন্ডিকেট’কে চিহ্নিত করেন।

তিনি জানান, আম’রা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি আম’দানিকারকেরা এখন মিয়ানমা’র থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আম’দানি করে। কিন্তু আড়তদারদের মাধ্যমে তারা প্রতি কেজি পাইকারিতে ১১০ টাকায় বিক্রি করে। আর খুচরা পর্যায়ে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৫০ টাকা কেজিতে।

ভারত থেকে এখন যে সামান্য পেঁয়াজ আসছে তা পুরনো এলসির। এ পর্যন্ত এক হাজার ৫০ টন পুরনো এলসির পেঁয়াজ এসেছে প্রতি টন আগের ৮৫০ মা’র্কিন ডলার দামে। যা কেজিতে পড়ে ৬০ টাকা করে।

এখন প্রতিদিন গড়ে এক হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আসছে মিয়ানমা’র থেকে৷ তৌহিদুল ইস’লাম জানান, আমাদের হিসাবে রোববার মিয়ানমা’র থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে। প্রতি ট্রাকে ২০ টন হিসাবে তা এক হাজার ২০০ টন।

রোববার খাতুনগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আ’দালত বেশ কয়েকজন আড়তদারকে (কমিশন এজেন্ট) জরিমানা করে৷ সোমবার সেখানকার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৭০ টাকায় নেমে আসে, যা আগের দিনও ছিলো ১১০ টাকা কেজি।

মিয়ানমা’র থেকে পেঁয়াজ আম’দানির সিএন্ডএফ এজেন্ট টেকনাফের শওকত আলম দাবি করেন, মিয়ানমা’র থেকে পেঁয়াজ আম’দানির দুইটি হিসাব আছে। অফিসিয়াল রেট প্রতি টন ৫০০ ডলার, কিন্তু এখন আমাদের কিনতে হচ্ছে ৮০০ ডলারে। এখানে এলসি খুলতে হয় না। নগদ টাকা নিয়ে যাই, পেঁয়াজ নিয়ে আসি। আমাদের এখন প্রতি কেজি কিনতে প্রায় ৮০ টাকা খরচ হয়। তাই কোজিতে ১০-১৫ টাকাতো ব্যবসা করবই।

তবে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমা’রে এক খাতা (স্থানীয় মাপ) পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা। এক খাতায় দেড় কেজি৷ সেই হিসাবে এক কেজির দাম ৬০ টাকা।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইস’লাম বলেন, এই সিন্ডিকে’টে আম’দানিকারকের সঙ্গে কমিশন এজেন্ট এবং টেকনাফের কিছু সিএন্ডএফ এজেন্টও জ’ড়িত। তারা নানা কাহিনী তৈরি করছে। মিয়ানমা’রে ৪২ টাকার ওপরে পেঁয়াজ নেই।

তিনি বলেন, আম’রা ১২ জনের তালিকা পাঠিয়েছি কক্সবাজার জে’লা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও একটি টিম ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে মনিটর করার জন্য।

তিনি আরো দাবি করেন, মিয়ানমা’রের কিছু বড় ব্যবসায়ী কক্সবাজারেও ব্যবসা করে। তারা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের ব্যবসা করছে। আম’রা এসব করি না।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar