kidarkar

বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই ইউএনওর সহায়তায় হাসপাতালে পরীক্ষা দিলো নাফিজ

বাংলাদেশ

রানা মিয়া | ০৪ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৫ অপরাহ্ন

জেএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের জন্য দোকানে কলম কিনে আনতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি মোটরসাইকেলের চাপায় মো: ইসলাম মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। আর বাবার মৃত্যুর সংবাদে ছেলে নাফিজ (১৪) অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সংবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: সোহাগ হোসেন দ্রুত তার নিজের গাড়ি দিয়ে নাফিজকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের কেবিনে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

আজ সোমবার সকালে এঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকায়।

নিহত লেপতোষক ব্যবসায়ী মো: ইসলাম মিয়া ওই এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাফিজ তার জন্য কলম কিনতে গিয়ে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি সহজে নিতে পারেনি। সে কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর পরীক্ষার সময় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বাড়িতে বাবার লাশ রেখে ছেলে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে চাইছে না। একপর্যায়ে নাফিজ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এমন এক মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ পেয়ে নাফিজের বাসায় ছুটে যান আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন। তখন তিনি নাফিসকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং হাসপাতালের কেবিনে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পরে তিনি নাফিজকে হাসপাতালে ভর্তি করে এক ঘন্টা চিকিৎসা করিয়ে একটু সুস্থ করে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আর হাসপাতালের কেবিনের ভাড়া ফ্রি করার ব্যবস্থা করেন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিব ইসমাইল ভূঁইয়া।

ইউএনও সোহাগ হোসেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত জেএসসি পরীক্ষার্থী নাফিজের বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত¦না দিয়ে অসুস্থ নাফিজকে হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে একজন শিক্ষক ও পুলিশ গার্ড দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নাফিজ তার বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেছে। তার লেখাপড়ার সকল কিছু ফ্রি করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্কুলের যত খরচ রয়েছে সেগুলো ফ্রি করে দেয়া হবে। আর নাফিজের বাবাকে যে মোটরসাইকেল চাপা দিয়েছে সেই মোটরসাইকেল চালক রাসেলকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, সরেজমিনে সকাল পৌণে ১০টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নাফিজের কাছে উপস্থিত সকলের চোখে পানি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হাবিব ইসমাইল ভূঁইয়া যে মানবতার পরিচয় দিলেন এ জন্য উপস্থিত সবাই তাদের ধন্যবাদ জানান।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar