kidarkar

সাকিবকে ফাঁ’সায় ‘ভারতীয় বা’জিকর’ এই দীপক আগারওয়াল

খেলাধুলা

হাসান রাফি | ৩০ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৫ অপরাহ্ন

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা আইসিসিকে না জানানোয় আইসিসি কর্তৃক দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে, দোষ স্বীকার করার কারণে, তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে আইসিসি।

আইসিসির পক্ষ থেকেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী বছরের ২৯ অক্টোবরের পর থেকে তিনি সব ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন।

সাকিবের সাথে যে বাজিকর দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি দীপক আগারওয়াল। ভারতের নাগরিক। সবচেয়ে বড় পরিচয়- একজন বাজিকর। তিনি ‘টার্গেট’ করেছিলেন সাকিবকে। যদিও সাকিবের বিচক্ষণতায় সফল হননি। তবে শেষপর্যন্ত খামখেয়ালি সাকিবের চুপ থাকাটাই নি’ষেধাজ্ঞার মত শা’স্তি ডেকে এনেছে।

আইসিসির এই শা’স্তি মেনে নিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আইসিসিকে জানান, ক্রিকেট না খেলতে পারাটা দুঃখজনক। তবে আমার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে আমি তা মেনে নিচ্ছি। আমি ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি আকসুকে জানাইনি। নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিনি। পৃথিবীর অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতো আমিও দুর্নীতিমুক্ত ক্রিকেট চাই। আশা করি আমার মতো ভুল ভবিষ্যতে আর কেউ করবে না।

আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার আলেক্স মার্শাল বলেন, সাকিব তার ভুল স্বীকার করেছে। তরুণরা যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িয়ে না পড়ে সে এ নিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। তার এই প্রস্তাব পেয়ে আমর আনন্দিত।

আইসিসির কোড অফ কন্ডাক্টে বলা আছে, বাজিকরদের কাছ থেকে ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে হবে। না হয় আইসিসির দুর্নীতি দমন সংস্থা- আকসুকে অবহিত করতে হবে। সে খবর নিজে লুকিয়ে রাখলে সেটা শা’স্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে তিনবারের মধ্যে দুইবারই তিনি ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএল-এ। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ে ট্রাই নেশন সিরিজ বা ২০১৮ সালে আইপিএল-এ ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেন সাকিব। তবে তা গোপন করেন তিনি।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামে বাংলাদেশ। ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারায় টাইগাররা। ম্যাচসেরা সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান বাজিকর দীপক আগারওয়াল।

তবে সাকিব তখনো আগারওয়ালের বাজিকর সত্তা ধরতে পারেননি। অভিনন্দন জানানোর পর তিনি সাকিবকে জিগ্যেস করেন, ‘আমরা কি এই সিরিজে কাজ করব, নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব আমি।’ তখনই প্রথম বাজিকরের মত আচরণ করেন আগারওয়াল। কিন্তু সাকিব এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি আকসু বা অন্য কোনো দুর্নীতি দমন সংস্থার কাছে।

২৩ জানুয়ারি সাকিবের কাছে সিরিজের অভ্যন্তরীণ তথ্য চেয়ে বসেন আগারওয়াল। অর্থাৎ, দ্বিতীয়বারের মত ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব বা প্ররোচনা। বলা বাহুল্য, সব বার্তাই এসেছিল হোয়াটসঅ্যাপে এবং সাকিব এগুলো এড়িয়ে চলছিলেন। সাকিব বাজিকরকে সাড়া দেননি ঠিকই। তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতেও দুর্নীতি দমন বিভাগকে কিছু জানাননি। আইসিসির দৃষ্টিতে এটিই সাকিবের ভুল, যার জন্য পেতে হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

এখানেই শেষ নয়। এই দুই প্রস্তাবের সাথে সাকিবকে আরও একবার প্রস্তাব করেন বাজিকর আগারওয়াল। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন সাকিব। এ সময় আগারওয়াল তার কাছে জানতে চান, একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ঐ ম্যাচের একাদশে আছেন কি না।

বিটকয়েন ও ডলার একাউন্ট নিয়ে সাকিবকে ক্রমাগত বার্তা পাঠাতেন আগারওয়াল। সাকিবের ডলার একাউন্ট জানতে চাইতেন। তখন সাকিব আগারওয়ালের সাক্ষাৎ চান। ২৬ এপ্রিলের কিছু বার্তা মুছে ফেলা অবস্থায় পেয়েছেন আকসু কর্তারা। সাকিব জানিয়েছেন- গোপন কথার জানার জন্য আগারওয়ালের সেসব বার্তা ছিল, যা আগারওয়ালই মুছে ফেলেন।

এরপর সাকিব বুঝতে পারেন আগারওয়ালের ফন্দি। নিশ্চিত হোন- একটু একটু করে সাকিবের অন্তরঙ্গতা আদায় করে নিতে চাওয়া আগারওয়াল একজন বাজিকর। তবে ২৬ এপ্রিলের ঘটনায়ও তিনি আকসুর কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar