kidarkar

শত জনমের ভাগ্য এমন বোনদের ভাই হয়েছি: চঞ্চল চৌধুরী

বিনোদন

হাসান রাফি | ৩০ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৫:০৪ অপরাহ্ন

দর্শকপ্রিয় অ’ভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বর্তমানে সেন্ট মা’র্টিন দ্বীপে অবস্থান করছেন। কারণ তার পরবর্তী সিনেমা ‘হাওয়া’র শুটিং সেখানেই হচ্ছে। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন মেজবাউর রহমান সুমন।

কর্মময় দিন পার করলেও পরিবারের কথা ভুলতে পারেননি চঞ্চল চৌধুরী। ভাইফোঁটার মতো উৎসব যদি বোনদের ছাড়া কাটে তবে মন বিষাদে ভরে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক। দূরে থেকেও প্রিয় ভাই-বোনদের নিয়ে স্মৃ’তিচারণ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধ’রা হলো—

‘আমা’র বোনদের নিয়ে কোনো দিন তেমন কিছু লেখা হয়নি। আম’রা পাঁচ বোন, তিন ভাই। আমি সবার ছোট, অনেক আদরের। পাঁচ বোনকে ডাকি দিদি, মনদি, রাঙাদি, সোনাদি, খুকদি। আজ আমি বা আম’রা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সকল কৃতিত্ব আমা’র এই বোনদের, ভাইদের। আমা’র বাবা-মা যে কত ক’ষ্ট করে প্রত্যেকটা সন্তানকে বড় করেছে, সেসব আজ অ’তীত। আমা’র মা বাবার সাথে আমাদের এই জীবন যু’দ্ধে প্রথম সঙ্গী হয়েছিল আমা’র বড় দিদি ও তাঁর শ্বশুর বাড়ির পরিবার। আম’রা প্রায় সবগুলো ভাইবোন কমবেশি পড়ালেখা করেছি। আমা’র দিদির বাড়ি বেলগাছী, রাজবাড়ীতে। তারপর আমা’র মনদি তাঁর ছোট্ট চাকরির সবটুকু বেতন দিয়ে, সোনাদি তাঁর শ্বশুর বাড়ি থেকে জমানো লুকানো টাকা দিয়ে আমাদের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছে।

আমা’র মনদি এখনো প্রত্যেকবার আমা’র বাসায় আসার সময় পুটলা বেঁধে গ্রামের বাড়ি থেকে সবজি, আম, কাঁঠাল, পেঁপে যখন যা পায় নিয়ে আসে। আমি রাগারাগি করে বলি, ‘তুই এত ক’ষ্ট করে এত বড় বড় ব্যাগ নিয়ে, এত রাস্তা পার হয়ে কেন আসিস? রাস্তায় যদি কোনো বিপদ হয় তোর। এগুলো তো ঢাকাতেই পাওয়া যায়। মনদি হেসে বলে, ‘এ ভাই, ঢাকায় তুরা কি খাস না খাস…আমি এগুলো শুদ্ধর জন্যি আনছি, তোর তাতে কি?’ আমি আর কিছু বলতে পারি না…এই ভালোবাসা আর স্নেহ দেখে গো’পনে চোখ মুছি। আমাদের বোনদের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়রা আসলে মানুষ নয়, তাঁরা দেবতা। আমা’র বড়দিদি আসলে মাতৃরূপী দূর্গা। শুধু আমাদের ভাইবোন নয়, আমাদের সন্তানদেরকেও এখনো লালন-পালন করে চলেছে। আমি আমা’র নতুন সিনেমা ‘হাওয়া’র শুটিংয়ে এখন সেন্ট মা’র্টিন সাগরের মাঝখানে। এখানে অনেকদিন থাকতে হবে।

প্রায় প্রতিদিনই আমা’র কোনো না কোনো ভাই-বোন আমাকে ফোন করে বলবে, ‘এ ভাই তুই খাইছিস, এ ভাই তুই রুমে আইছিস, এ ভাই তুই ঘুমাইছিস, এ ভাই তোর শরীল ভালো আছে?’ আমি শুধু হ্যাঁ হ্যাঁ করি আর ফিরে যাই সেই ছোটবেলায়। কারণে অকারণে কতবার জড়িয়ে ধরতাম তোমাদের। অনেক দুষ্টু ছিলাম ছোটবেলায়, এখন কিছুটা কমেছে। আমা’র ছোটদিদি খুকদির সাথে প্রায় প্রতিদিন রুটিন করে মা’রামা’রি করতাম— মাছের গাদা পেটি নিয়ে, ডিম ভাগাভাগি নিয়ে, বই নিয়ে। ও আমা’র এক ক্লাস ওপরে পড়ত, পিঠাপিঠি ভাই-বোন আম’রা। আমা’র সবচেয়ে বেশি খা’রাপ লাগত আমি কোনোদিন স্কুলে নতুন বইয়ের মালিক হতে পারিনি। খুকদিকে বাবা যে পুরোনো বই কিনে দিতো, ও এক বছর পড়ার পর সেই ছেঁড়া লুচি বইগুলো আমাকে পড়তে হতো, এ কারণেই ওর সাথে বেশি মা’রামা’রি হতো। আর আমা’র রাঙাদি ছোটবেলা থেকেই মাটির মানুষ। মমতায় ভরা মুখ, আমা’র সাথে কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলে। পড়ালেখায় খুব মেধাবী ছিল। আমা’র ছেলেকে এখন রাঙাদি প্রায়ই স্কুল থেকে নিয়ে আসে।

বৃন্দাবনদা আর খুশী প্রথম যেবার আমাদের গ্রামের বাড়িতে যায়, তখন বলেছিলেন, ‘তুমি ভাগ্যবান। এমন ভাই-বোন, বাবা-মা পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের।’ আসলেই তাই। আমা’র শত জনমের সৌভাগ্য আমি এমন বোনদের ভাই হয়ে জন্মেছি। আজ ভাইফোঁটা। অন্তত শত ব্যস্ততার মধ্যেও তোমাদের আশীর্বাদ আর আদরের স্প’র্শ পেতে তোমাদের কাছে যাই, ছোটবেলার মতই এখনো তোমাদের জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করে। এবার তোমাদের ভাইফোঁটা নিতে পারলাম না। এ জন্যে এই লেখাটা লিখতে গিয়ে বারবার চোখ জলে ঝাপসা হয়ে আসছে। বিশাল এই সমুদ্রের মাঝখান থেকে এটুকু খুব ভালো করেই বুঝি— আমা’র প্রত্যেকটি বোনের মন সমুদ্রের চেয়ে বড়, আকাশের চেয়ে উদার।

আবার যদি জন্ম নেই, তোমাদের মতো ভাই-বোনের ভাই হয়েই যেন জন্মাই। আমা’র কাছে তোম’রা আমা’র শুদ্ধর মতই। অনেক আদরের। অনেক ভালোবাসার।’

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar