kidarkar

বিনা বেতনে ৬০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন অজি উল্যা

অদ্ভুত খবর

হাসান রাফি | ২৮ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

বেহেস্তের চাবি নামাজ আদায়ের জন্য ম’সজিদে ম’সজিদে আজান দেওয়া হয়। এর জন্য প্রতিটি ম’সজিদেই মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়। যিনি মাস শেষে বেতন পান। তবে টাকা না নিয়েই ৬০ বছর ধরে আজান দিয়ে আসছেন অজি উল্যা চৌধুরী। কারণ তিনি আজান দিতে ভালোবাসেন। মধুর সুরে আজান দিয়ে মু’সল্লিদের ডাকতে ভালোবাসেন। যতদিন সাম’র্থ থাকবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তিনি ততদিন আজান দিবেন।

স্থানীয়রা জানায়, অধিকাংশ সময়ই অজি উল্যা মাইক ছাড়াই আজান দিয়েছেন। যতদূর তার আজানের সুর শোনা যেত, মানুষ মুহুর্তেই বুঝতে পারতো অজি উল্যা আজান দিচ্ছে। ৮০ বছর বয়সেও বন্ধ করেননি আজান দেয়। তবে বয়সে ভারে এখন তার কন্ঠস্বর কিছুটা অস্পষ্ট।

অজি উল্যার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র ম’ক্কা শরীফে আজান দেওয়া তার শখ ছিল। ২০০৫ সালে হ’জে করতে গিয়ে সেই শখ পূরণ করতেও চেয়েছিলেন। তবে সৌদির বাদশার অনুমতি ছাড়া ম’ক্কা শরীফে আজান দেওয়ার রেওয়াজ নেই বলেই তার শখ পূরণ হয়নি। তার ছেলেমেয়েরা ঢাকায় থাকেন। সেখানে গেলেও স্থানীয় ম’সজিদে আজান দেন তিনি।

জানা গেছে, অজি উল্যা লক্ষ্মীপুর সদর উপজে’লার টুমচর ইউনিয়নের উত্তর টুমচর গ্রামের মৃ’ত মৌলভী আলি আহম্ম’দের ছেলে। ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন অজি উল্যা। ১৯৫৬ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের দুই মেয়াদে সদস্য (মেম্বার) ছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজে’লার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছ, ১৯৯৮ সালে সদর উপজে’লার উত্তর টুমচর জালাল পাটওয়ারী জামে ম’সজিদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি ২১ বছর আজান দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তিনি শাকচর গনুমিয়া মৌলভীর জামে ম’সজিদ, উত্তর টুমচর আব্দুল মজিদ জামে ম’সজিদ ও শাকচর ছহি মিজি জামে ম’সজিদে আজান দিয়েছিলেন। বর্তমানে স্থানীয় ম’সজিদে নিয়মিত আজান দেন। এছাড়া ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় গেলে স্থানীয় ম’সজিদেও তিনি আজান দিতেন।

জানতে চাইলে অজি উল্যা চৌধুরী বলেন, আজান দিতে আমা’র ভালো লাগে। ২০ বছর বয়স থেকেই আমি আজান দিয়ে আসছি। দেশের যে স্থানেই গিয়েছি, সেখানে স্থানীয় ম’সজিদে আজান দেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছি। আল্লাহর পথে মানুষকে ডেকে আনা অনেক সওয়াবের কাজ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমা’র উদ্দেশ্য। এর থেকে অন্য কোন চাহিদা আমা’র নেই। যতদিন সাম’র্থ থাকবে, ততদিন আজান দিবো।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar