kidarkar

সৌদি থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

বাংলাদেশ

জাহিদ হাসান | ২৮ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আমরা দেখতে চাই, কোন রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছে। আমরা একটা যোগসূত্র বের করবো। যেখানে যেখানে অনিয়ম পাবো, আমি কথা দিচ্ছি কঠোর ব্যবস্থা নেবো। রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সিশেলেসের শ্রমবাজার পুনরায় খোলা প্রসঙ্গে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ইমরান আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখেছি সৌদি আরব থেকে কর্মী ফেরত আসছেন। রিপোর্টে দেখেছি যে বৈধ ‘আকামা’ থাকা সত্ত্বেও তারা ফেরত আসছে। বৈধ একদিকে আর অবৈধ আরেকদিকে। আমরা এর মধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই যে বলা হচ্ছে বৈধ আকামা, ব্যাখ্যা হিসেবে আমি বলতে পারবো- আমার যদি আকামা থাকে জেদ্দাতে কাজ করার জন্য, আর আমি যদি গিয়ে মক্কাতে কাজ করি আমার কিন্তু আকামা আর বৈধ থাকছে না। সেক্ষেত্রে আমি কিন্তু অবৈধ হয়ে গেছি। হয়তো আকামার মেয়াদ আরও আছে, কিন্তু অন্য স্থানে গিয়ে কাজ করায় আমি অবৈধ। এই ধরনের পরিস্থিতি একটা হতে পারে। কারণ এই ধরনের রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ১৩০ জন কর্মী যখন একসঙ্গে এসেছে, আমরা তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। আমরা দেখতে চাই, কোন এজেন্ট তাদের পাঠিয়েছে। এখানে আমি কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। বদনাম হলে আমার হবে, সুনাম হলে দেশের হবে। আমার দেশের সুনামই প্রয়োজন। কাজেই আমরা খতিয়ে দেখছি, কয়েকদিন পরে হয়তো আমরা বলতে পারবো যে আমাদের প্রাপ্তি কী।

অন্য যে কোন দেশের কর্মীর চাহিদার জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খবর অনেক আছে। সিশেলস আমরা খুললাম। জাপান ইতোমধ্যে খুলে দিয়েছি, যখন প্রক্রিয়া শুরু হবে তখন দেখবেন জাপানে কতজন করে যাচ্ছে। সিশেলস ছোট আকার হলেও, আমরা কিন্তু কোনও মার্কেটকে ছোট ধরি না। ৫০০ কর্মী পাঠাতে পারলেও আমি চুক্তি করতে রাজি আছি। আমাদের বোয়েসেল টিম বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের কাছে চাহিদা হিসেবে রোমানিয়া, পোল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, ল্যাটভিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে খবর আসছে। আমরা ইউরোপের দিকে আরেকটু বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা কিন্তু কোনটাই পেছনে রাখছি না। আগে খবর আসলে হয়তো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখতাম না। এখন কিন্তু কোনও মার্কেটের খবর আসলেই প্লেনে ওঠার জন্য রেডি আছি।

মালয়েশিয়ার বাজার খোলা প্রসঙ্গে যা বললেন মন্ত্রী

মালয়েশিয়ার বাজার কবে খুলবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৬ নভেম্বর আমি মালয়েশিয়ায় আমার পুরো টিম নিয়ে যাচ্ছি। মালয়েশিয়ার তরফ থেকেই বারবার তারিখ পেছাচ্ছে। এই মাসে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এ মাসে তারা নেপালে গিয়ে কাজ করেছে। ৬ তারিখে গিয়ে আমাদের কয়েকটা ইস্যু আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। কয়েকটি পয়েন্টের বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার ধারণা দরকার, এরপর আশা করি মিটিং হবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের। এই মিটিংয়ের সিদ্ধান্তগুলো সমঝোতায় (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত হবে। এমওইউ হয়ে গেলেই আশা করি মালয়েশিয়া খুলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মীর চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তাদের ম্যানুফেকচারিং সাইডে বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা বেশি। অন্যান্য দেশের কর্মী তেমন চায় না। আমার বিশ্বাস বাজার খোলার পর দেড় দুই লাখ মানুষ যাবেই।

জাপান যেতে খরচ নেই, সিশেলস যেতে স্বল্প খরচ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বোয়েসেল খুব অল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠায়। সিশেলসের ক্ষেত্রেও তাই হবে। একটি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া জাপান যেতেও কোনও টাকা লাগবে না। জাপান যেতে ১১টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আবার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির টাকা নেওয়ার ঘটনায় আমরা তার লাইসেন্স বাতিল করি। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar