kidarkar

সেই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ফিরিয়ে দিলেন চাকরির প্রস্তাব

বাংলাদেশ

জাহিদ হাসান | ২৭ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০২:০৫ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও অন্যায়ভাবে ছেলেকে চাকরিচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় চিঠি মোতাবেক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অফ অনার) ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করার ২দিন পর জেলা প্রশাসকের দেয়া চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে অভিমানী সেই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের বড় সন্তান নুরুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় শেষ সম্মানটুকু না নিয়ে আমার বাবা বিদায় নিয়েছে। এমন প্রশাসনের চাকরির প্রস্তাবেরও কোন নিশ্চয়তা নাই। এই ঘটনার সমাধান দাবি করে বলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নুর নেহার বেগম বলেন, ছেলেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে যার কারণে স্বামীকে হারিয়েছি।

এদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হওয়ায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক এক সদস্যের তদন্ত টিম শনিবার বিকেলে দিনাজপুরে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত টিমের প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব।

তিনি আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়েছি। এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলামের ও চাকরিচ্যুত ড্রাইভার নুর ইসলামের কাছ থেকে লিখিত জবানবনন্দি নিয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়ীতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সকলের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নুর ইসলামকে আশ্বাস দেন চাকুরী ফিরিয়ে দেওয়া এবং সরকারী যে বাড়িতে তারা থাকতেন সেই বাড়িতেই থাকবেন বলে জেলা প্রশাসক জানান।

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের সন্তান ও স্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক এসেছিলেন। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি চাকরি ও বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আমরা তার দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি। পরিবারের সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের হুইপ স্থানীয় সাংসদ ইকবালুর রহিমের সুপারিশে চাকরি হয়েছিল আর জেলা প্রশাসক চাকরি খেয়েছেন। আমরা হুইপ এমপি ইকবালুর রহিমের অপেক্ষায় আছি। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেটাই মেনে নেব। পরিবারের অভিযোগ, নুর ইসলাম সদর উপজেলার এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম সরকারি গাড়ি চালক পদে থাকলেও তাকে দিয়ে তার বাড়ির ব্যক্তিগত কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন জীবদ্দশায় ছেলের চাকরী ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেও সহানুভূতি পায়নি। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বরাবরে বিষয়টি উল্লেখ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ অক্টোবর একটি চিঠি লেখেন এবং পরদিনই তার মৃত্যু হয়। চিঠির শেষ অংশে লেখা হয়- ‘জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ সদর এসিল্যান্ড সহ জেলা প্রশাসন, আমার ছেলেকে চাকরিচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম/ স্যালুট আমার শেষযাত্রার কফিনে আমি চাই না।’

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar