kidarkar

আলু ভর্তার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হাবিবকে জ’বাই করে মামুন

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৭ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

যশোরের অভয়নগরে রংমিস্ত্রি হাবিব খান হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আ’সামি আল-মামুন। শনিবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক সাইফুদ্দিন হোসাইনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানব’ন্দি প্রদান করেন মামুন। আল-মামুন মাগুরা জে’লার ডাঙ্গাসিঙ্গিয়া গ্রামের হাবিব মোল্যার ছেলে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে পু’লিশ তাকে আ’ট’ক করে। নি’হত রং মিস্ত্রি হাবিব খান (৪২) ঝালকাটির নলছিটি উপজে’লার দপদবিয়া গ্রামের মৃ’ত আব্দুল আজিজ খানের ছেলে।

অভয়নগর থানা পু’লিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) তাজুল ইস’লাম জানান, হাবিব হ’ত্যাকা’ণ্ডের ১২ দিন পর শুক্রবার প্রধান আ’সামি আল-মামুনকে ঢাকার আশুলিয়ায় তার ফুপুর বাড়ি থেকে আ’ট’ক করা হয়। থানা হেফাজতে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে আল-মামুন বলেছে, সে একাই একটি ছোরা দিয়ে রং মিস্ত্রি হাবিবকে জ*বাই করে হ’ত্যা করেছিল। পরে লা’শ গু’ম করার জন্য ওই ভবনের নিচ তলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল।

পু’লিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানব’ন্দিতে আল-মামুন স্বীকার করেছে, প্রায় এক বছর আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমা’র বাবা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর আমি খুলনায় চলে আসি। কাজের সন্ধানে স’ম্পর্ক হয় রং মিস্ত্রি হাবিব খানের সঙ্গে। এরপর হাবিবের সহযোগী হিসেবে রং এর কাজ শুরু করি।

অভয়নগরে সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের নবনির্মিত সাততলা ভবনের রঙের কাজ করার সময় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাবিবের সঙ্গে আমা’র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আমি ও হাবিব ছাড়া আর কেউ থাকতো না। কাজ করা বাবাদ হাবিবের কাছে ৫২০০ টাকা পাওনা ছিল। গত ১৩ অক্টোবর রোববার দুপুরে সেই টাকা চাইলে হাবিব আমাকে মাত্র পাঁচশত টাকা দেন। সব টাকা চাইলে আমাকে বটি দিয়ে কোপাতে আসেন। তখনই আমি হাবিবকে খু’ন করার পরিকল্পনা করি।

মামুন আরও বলেন, পরদিন রোববার বাজার থেকে ১০ পিস ঘুমের ট্যাবলেট (রিভোট্রিল-০.৫) ক্রয় করি। সেই ট্যাবলেট রাতে আলু ভর্তার সঙ্গে মিশিয়ে হাবিবকে খাওয়াই। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাত আনুমানিক ২টার সময় লুকিয়ে রাখা চাকু দিয়ে ঘুমে অচেতন হাবিবকে আমি দুই দফায় জ*বাই করি। পরে নিচ তলার পানির রিজার্ভ ট্যাংকে হাতে ও পায়ে ইট বেঁধে ফেলে দিয়ে বিভিন্নস্থানে র’ক্তের চিহ্ন মুছে ফেলি এবং চাকটি দুই তলার একটি কমোডে ফেলে ফ্লাস করি। র’ক্তমাখা জামাকাপড়গুলো কার্ণিশে লুকিয়ে রেখে গোসল করে ভোর রাতে ভবনের পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যাই। সকালে বাসে করে প্রথমে চুড়ামনকাঠি খালা বাড়ি এবং পরে নড়াইলের লোহাগড়ায় দাদা বাড়িতে একদিন থাকি। পরদিন ঢাকার আশুলিয়ায় ফুপুর বাড়িতে চলে যাই।

হ’ত্যাকা’ণ্ডের পাঁচদিন পর গত ১৯ অক্টোবর শনিবার এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান ভবন মালিক আলমগীর সরকার অভয়নগর থানা পু’লিশকে খবর দেন। পরে পু’লিশ এসে ওই ভবনের নিচ তলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে রং মিস্ত্রি হাবিব খানের অর্ধগলিত লা’শ উ’দ্ধার করে। পরদিন নি’হতের ভাই বাদী হয়ে আল-মামুনকে আ’সামি করে অভয়নগর থানায় হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন।

আল-মামুন আ’ট’কের বিষয় নিয়ে শনিবার দুপুরে ব্রিফিং করেন সহকারী পু’লিশ সুপার জামাল আল নাসের। পরে তাকে আ’দালতে সোপর্দ করা হয়। আ’দালতেরও মামুন হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানব’ন্দি দিয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar