kidarkar

মুদি দোকানদার থেকে যেভাবে শতকোটি টাকার মালিক কাউন্সিলর আকাশ!

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৬ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫ অপরাহ্ন

পুরো নাম আকাশ কুমার ভৌমিক। যিনি সর্বমহলে দাদা আকাশ নামে পরিচিত। একসময়ের চাঁদপুরের এই যুবদল নেতা আকাশ পূর্বে চাঁদপুরের মতলবে একটি বাজারে রুটি বিক্রি করতেন এবং পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে ঢাকা এসে রাজধানীর মেরাজনগর এলাকায় ১৫ হাজার টাকা চালানে ছোট্ট একটি বেড়ার দোকানে মুদি আইটেম চাল, ডাল, তেল বিক্রি করা শুরু করেন। টাকার অভাবে নিজে ভ্যান চালিয়ে মাল টানতেন এবং ভ্যানের ভাড়া দিতে পারতেন না বিধায় অনেক সময় নিজের কাধে করে চালের বস্তা টানতেন। এরপর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে আকাশ ভোল পালটিয়ে রাতারাতি আওয়ামী লীগার বনে যান।

আকাশের অ’বৈধ সম্পদের বিবরণঃ মেরাজনগরে একটি ৩ তলা বাড়ি। বিজয় নগর আকরাম টাওয়ারে ২য় তলায় ৮০০০ স্কয়ার ফিট এবং, ১৫ তলায় ৮৮০০ স্কয়ার ফিটের মালিক। যার বর্তমান মূল্য ২৫ কোটি টাকা। পল্টন মোড়ে আকরাম সেন্টারেও আরো দুইটি ফ্লোর এবং, নিচতলার ক্রিসেন্ট লাইটিং এর সামনের অংশ কিনে নিয়েছেন। যার মূল্য ৭ কোটি টাকা। রাজধানীর অভিজাতপাড়া বেইলী রোডের জারা টাওয়ারে ৪ টি ফ্ল্যাট। যার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এছাড়াও বনশ্রীর আফতাবনগরে একটি ২০ কাঠা এবং, আরেকটি ৪৫ কাঠা প্লটের মালিক। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে দুইটি পাঁচ তলা বাড়ি এবং, একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। যার আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি টাকা।

এছাড়াও ব্যাংক এশিয়ায় তালুকদার এন্ড কোম্পানীর নামে একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ কোটি এবং, ইউসিবি ব্যাংকে প্রভাতী এন্ড কোম্পানীর নামে একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এছাড়াও আরো স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, অন্যান্য অ্যাকাউন্টে রাখা টাকা, স্বর্ণালংকার সহ আরো প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মালিক। টাকা আর ক্ষমতার জো’রে একজন মুদি দোকানী থেকে বনে যান ওয়ার্ড কা’উন্সিলর। কা’উন্সিলর হওয়ার পথে নির্বাচনী হলফ নামায়-ও নিজের সম্পদের হিসেব গোপণ করে কারচুপি করেন তিনি। ডিএসসিসি’র ৫৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার পরে এই আকাশ এবং তার অ’বৈধ টাকায় পালিত ক্যা’ডার বাহিনীর দৌরাত্মে অতিষ্ঠ ৫৯ নং ওয়ার্ড মোহাম্মদবাগ-মেরাজনগর-ওয়াসা-ঢাকা ম্যাচ এলাকাবাসী।

আকাশের ক্যা’ডার বাহিনীর বর্ণনা এবং অ’পকর্মঃ আকাশের ব্যক্তিগত সহকারী ৫৯ নং ওয়ার্ড (শ্যামপুর ই’উনিয়ন) সাবেক যুবদলের সভাপতি নাহিদ। ওয়াসার ভান্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন কদমতলী থানা কৃষক লীগের সভাপতি শীর্ষ স’ন্ত্রাসী কালা দুলাল এবং মা’দক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে কদমতলী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, হ’ত্যা মা’মলা এবং, একাধিক হ’ত্যাচেষ্টা এবং, মা’দক মা’মলার আসামী রেজাউল করিম মুন ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর মা’দকাসক্ত ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ হোসেন।

কিছুদিন পূর্বে মা’দকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় গাড়ি এ’ক্সিডেন্ট করে জিহাদ। তাদের হাত ধরে নে’শার বি’ষাক্ত ছোবলে এলাকার তরুণ সমাজ আজ বি’পদগামী। ঢাকা মেস শিল্প এলাকায় চাঁ’দাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে ফজু- ফারুক মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা উপার্জন করে। আকাশের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, বিভিন্ন ভবন, বাসা-বাড়ি নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে চাঁ’দাবাজি করে। আকাশের ভ’য়ে এলাকাবাসী সবাই মুখ বন্ধ রাখে। কেউ প্র’তিবাদ করলে ভারতে পলিয়ে থাকা শীর্ষ স’ন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের হু’মকি দেয়।

একসময়ের চাঁদপুরের যুবদলের ক্যা’ডার এবং একজন মুদি দোকানী আজ আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে গড়ে তু’লেছে সম্পদের পাহাড় এবং বনে গেছে ওয়ার্ড কা’উন্সিলর। যিনি এখনও এককভাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার সি’ন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন।

সূত্রঃ ভোরের পাতা

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar