kidarkar

প্রবাসে ১০ মাসে ১১৯ নারীর মৃ’ত্যু, ৩০ জনের আ’ত্মহ’ত্যা

প্রবাস

হাসান রাফি | ২৬ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

পারিবারিক জীবনে আর্থিক অচলাবস্থা পরিবর্তনের বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসী হন অনেকেে। রাষ্ট্র বা সমাজের অর্থনৈতিক উন্নতিও আসে প্রবাসীদের আয় থেকে। সেই প্রবাসে গিয়ে চলতি বছরে গেল ১০ মাসে জীবন দিয়েছেন ১১৯ জন নারী গৃহকর্মী। যার মধ্যে ৩০জনই আত্মহ’ত্যা করেছেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ব্র্যাক মাইগ্রেশন কর্মসূচির এক সমীক্ষায় এমন ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দুর্দশা কিংবা বিষাদের এই চিত্রে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে খুলনার মেয়ে আবিরুন বেগমের। সমীক্ষার এই তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১১৯ নারীসহ দেশে ফিরেছেন ২৯০০ প্রবাসীর ম’রদেহ।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবে যান আবিরুন বেগম। তিনিও ভেবেছিলেন হয়তোবা প্রবাসে গিয়ে অন্যান্যদের মত পরিবারের অর্থনীতির চাকা কিছুটা হলেও সচল করতে পারবেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নি’র্মম পরিহাস অর্থনৈতিক উন্নতি তো দূরে থাক শেষমেষ নিজের জীবনটাই দিয়ে দিতে হয়েছে প্রবাসে।

সৌদি আরবের নারী গৃহকর্মী প্রবাসী আবিরুন বেগম চলতি বছরের ১৭ জুলাই নিজ গৃহক’র্তার বাসায় মা’রা যান। মৃ’ত্যুর ৫১ দিন পর খবর জানতে পারে তার পরিবার। প‌রে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় দূতাবাস ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তার ম’রদেহ দেশে আনা হয়। সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনা আবিরুনের লা’শের সনদে মৃ’ত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয় হ’ত্যা।

তবে আবিরুনকে সৌদি আরবে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি ‘ফাতেমা এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস’ (আরএল-১৩২১) বলছে, আবিরুনকে হ’ত্যা করা হয়নি। তিনি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘ’টনায় মা’রা গেছেন।

সৌ‌দি আরবে হ’ত্যার তিন মাস পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয় খুলনার মেয়ে আবিরুন বেগমের ম’রদেহ। ঢাকার হযরত শাহ’জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লা’শ আসার পর বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বিমানবন্দর থেকে ম’রদেহ গ্রহণ করে আবিরুনের পরিবার।

বিমানবন্দ‌রে আবিরুনের লা’শ নেয়ার পর কাঁদ‌তে কাঁদ‌তে তাঁর ছোট বোন রেশমা জানায়, শুরুতে সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা আবার বাতিল করেছিলেন আবিরন বেগম। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সি ফাতেমা এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের চাপ ও হুমকির মুখে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সৌদি যেতে বাধ্য হন আবিরুন। সেখানে গিয়ে নিয়োগক’র্তার নি’র্মম নি’র্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে। সমস্যার কথা নিয়ে এজেন্সি ও দালালের কাছে গেলে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় পরিবারকে। এ সময় এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যে আবিরুন আর কথাও বলবে না কোনোদিন। এমতাবস্থায় এজেন্সির এমন হুমকির মুখে পরিবারও ছিল অসহায়।

আবিরুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার নিয়োগক’র্তা আবিরুনের ওপর নি’র্মম নি’র্যাতন চালিয়ে তাকে মে’রে ফেলেছে। এমনকি দুই বছরে কোনো বেতনও তাকে দেয়া হয়নি। মৃ’ত্যু‌র পর তাদেরও জানা‌নো হয়‌নি। তারা বলছেন, যে নিয়োগক’র্তার বাড়িতে ছিলেন আবিরুন শুরু থেকে সেখানেই নির্যাতিত হচ্ছিলেন তিনি। বারবার বলার পরেও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ব্র্যাক অ’ভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, আবিরনের পরিবার আমাদের জানায়, নিয়োগক’র্তা তাকে হ’ত্যা করেছে। কিন্তু লা’শটি তারা আনতে পারছিলো না। আম’রা যেন সহায়তা করি। এমতাবস্থায় ব্র্যাক অ’ভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে আবিরুন বেগমের লা’শ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পরিবারের সদস্যের এমন নি’র্মম পরিণতি দেখে আবিরুনের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এখন আম’রা শুধু চাই এমনভাবে যাতে আর কেউ তাদের স্বজনদের না হারান।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar