kidarkar

৮৫ বছর বয়সেও ‘অবসর’ মেলে না নাজিম বাবুর্চির

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৫ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ০২:৪১ অপরাহ্ন

আসসালাতু খায়রুম…নাউম, আল্লাহু আকবার…। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাস*পাতালের জরুরি বিভাগের সামনের ম’সজিদ থেকে ফজরের নামাজের সুমধুর আজানের সুর ভেসে আসছে। বাইরে তখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাস্তাঘাট প্রায় জনমানবশূন্য।

চারদিকে সুনসান নীরবতা। হাস*পাতালের রোগীদের সঙ্গে থাকা অ্যাটেনডেন্টদের দু-চারজনকে উদ্বিগ্ন চেহারায় রাস্তায় পায়চারী করতে দেখা যায়। ঘুম ঘুম চোখে ঢুলতে ঢুলতে কেউ কেউ ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে যাচ্ছেন ম’সজিদে। এ সময় জরুরি বিভাগের গেটের অদূরে ভ্যানগাড়ির ওপর বেশ কয়েকজনকে আওয়াজ করে ‘আসেন, আসেন, গরম গরম খিচুড়ি ডিম ভর্তা, খাইয়া যান’ বলে উচ্চস্বরে আওয়াজ তুলতে দেখা যায়। ডেকচির ঢাকনা সরাতেই ডেকচি থেকে গরম ভাপ বের হতে দেখা যায়।

সারিবদ্ধভাবে ভ্যানগাড়ি সাজিয়ে যে কয়েকজন খিচুড়ি বিক্রি করছিলেন তাদের একজন অ’তি বয়োবৃদ্ধ নাজিম বাবুর্চি। বয়স পাক্কা ৮৫ বছর। সুদীর্ঘ ৫২ বছর ধরে বাবুর্চির কাজ করছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ বৃদ্ধ অন্যদের মতো চি’ৎকার করে কাস্টমা’র ডাকছেন না। তবুও বৃদ্ধের দোকানেই কয়েকজন কাস্টমা’রকে খেতে আসতে দেখা যায়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নাজিম বাবুর্চি জানান, একসময় নয়াবাজারে দোকান নিয়ে খাবারের হোটেল চালালেও ছয় ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী’সহ আট সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে দোকান ছেড়ে দেন। বাবুর্চির চাকরি করেই ছেলেমেয়ে সবার বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা স্বামীর সংসারে আর ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা। এখন বৃদ্ধা স্ত্রী’ ও নিজের আহার জোটাতে ভোর রাত থেকে ঢামেক হাস*পাতালের জরুরি বিভাগের সামনে খিচুড়ি মাংস, ডিম ও ভর্তা বিক্রি করতে প্রতিদিন ছুটে আসেন।

তিনি প্রতিদিন রাত আড়াইটা ৩টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর শুরু হয় খিচুড়ি, মাংস, ডিম রান্নার প্রস্তুতি। রান্না শেষ হলে করেন ভর্তা। প্রতিদিন পাঁচ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করেন। এক পিস ফার্মের মুরগি মাংসসহ খিচুড়ি ৪০ টাকা, ডিম-খিচুড়ি ৩০ টাকা এবং শুঁট’কি, কালোজিরা ও আলু ভর্তাসহ খিচুড়ি ২০ টাকায় বিক্রি করেন বলে জানান।

৮৫ বছর বয়সেও কেন রাতদুপুরে ঘুম মাটি করে রান্নাবান্না করে ভ্যান চালিয়ে খিচুড়ি বিক্রি করতে আসেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নিজাম বাবুর্চি নিচুস্বরে বলেন, ‘না আইলে খামুকি, পোলারা নিজেরাই চলতে পারে না। তা নাহলে এত বেশি বয়সে কি কেউ শখ করে এ কাজ করে?’

কাজ করতে খা’রাপ লাগে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে খিচুড়ি বিক্রি শেষ করে বাসায় গিয়ে ঘুমাই। এভাবেই চলছে তার নিত্যদিন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar