kidarkar

জমি কে’ড়ে নিয়ে বিক্রি, প্রতিবেশীর গোয়ালে বৃ’দ্ধ বাবা-মায়ের বাস

অদ্ভুত খবর

হাসান রাফি | ২৫ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

শুকুর দেওয়ান (৭০) ও সহুরা বেগম (৬৫) বৃ’দ্ধ এক দম্পতি। এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে এই দম্পতির। ছেলে-মেয়ে কারও ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃ’দ্ধ বাবা-মায়ের। তাই এই বৃ’দ্ধ বয়সে থাকতে হচ্ছে পাশের বাড়ির ঘোয়াল ঘরে। সেখানে আশপাশের লোকজন কিছু খাবার দিয়ে যায়, তা খেয়েই জীবন বাঁ’চাচ্ছেন তারা।

ধর্মভীরু মুসলিম এই দম্পতির নামাজের জন্য ন্যূনতম পবিত্র জায়গাটুকুও নেই। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও ঘোয়াল ঘরে থাকতে হচ্ছে। এভাবেই মানবেতর জীবন কা’টাচ্ছেন তারা।

এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামে। ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও স্থানীয় প্র’শাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

জানা গেছে, শুকুর দেওয়ান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। নিজের বাড়ি ছিল, জায়গা সম্পত্তি ছিল এমনকি গরু-ছাগলের খামারও ছিল। এক সময় সুখে-শান্তিতে কেটেছে তাদের জীবন। তাদের- রয়েছে- মর্জিনা, রোকেয়া, খোদেজা ও সালমা নামে চার মেয়ে। মেয়েরা বড় হলে তাদের বিয়ে দেন তারা।

সংসারে ছিল, একমাত্র ছেলে হোসেন দেওয়ান (৩০), পুত্রবধূ ও তারা দুজন। এই চারজনের সংসারও দীর্ঘদিন সুখে কাটছিল। পরে শুকুর দেওয়ান বার্ধক্যজনিত কারণে অ’সুস্থ হয়ে পরলে, চি’কিৎসার কথা বলে ছেলে হোসেন বাবাকে নিয়ে যান পাশের উপজেলা গলাচি’পায়।

সেখানে গিয়ে বাবার সম্পত্তি নিজের নামে দলিল করে নেন। এরপরে সেই সম্পত্তি চাচা তাজু দেওয়ানের কাছে বিক্রি করে এলাকা ছে’ড়ে লা’পাত্তা হয়ে যায় হোসেন। কিছুদিন পরে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হয়ে তাজু দেওয়ান বাড়ি থেকে বে’ড় করে দেন শুকুর দেওয়ান ও তার স্ত্রীকে।

তখন হঠাৎ করে অ’সহায় হয়ে পরে বৃ’দ্ধ এই দম্পতি। ভাইকে জমি দেয়ায় মেয়েরাও বাবাকে ত্যাগ করেন। কোনো উপয়ান্ত না পেয়ে পাশের বাড়ির একটি গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেন এই দম্পতি।

এরপর থেকে সেখানেই মা’নবেতর জীবন কাটছে তাদের। পাশের বড়ির লোকজন কিছু খাবার দিয়ে যায়, তা খেয়ে জীবন বাঁ’চছে। অ’সহায় এই দম্পতি দিন-রাত কেঁ’দে কেঁ’দে পার করছেন।

জানতে চাইলে বৃ’দ্ধ এই দম্পতি কা’ন্নাজরিত কণ্ঠে প্রতিবেদকে বলেন, ‘বাবা আমাগো জমিজমা পোলায় (ছেলে) আমারে ভুল বুঝাইয়া আমার ভাই তাজুর কাছে বেইছা দিছে। এ্যাহন পোলায় দ্যাশ ছাইরা চইল্লা গ্যাছে। তাজু আমারে বাড়ির তোনে নামাইয়া দিছে। আমি কোনো দিশাবিশা না পাইয়া গরুর ঘরে উঠছি।’

তিনি বলেন, ‘আশপাশের কিছু ভালো মানুষ আছে তারা আমাগোরে খাওন দিয়া যায় আমরা হেইয়া খাইয়া থাহি। আল্লায় যেন এই জীবন থাইকা আমাগোরে মু’ক্তি দেয়। শেষ জীবনে যাতে একটু নামাজ-রোজা কইরা ম’রতে পারি হেইডাই চাই।’

ছোটবাইশদিয়া ই’উনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম আবদুল মান্নান জানান, আমি লোক পাঠিয়েছি দেখার জন্য। আমাকে জানালে আমি ই’উনিয়ন পরিষদ থেকে স’রকারি সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করব।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান জানান, যেখানে বর্তামান সময়ে দেশে দারিদ্র্য নেই বললেই চলে। সেখানে একজন মানুষ বাসস্থানহীন হয়ে গোয়াল ঘরে আশ্রয় নিবে এটা কখনও মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি আসলেই ম’র্মান্তিক। আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar