kidarkar

আ’দালত চ’ত্বরে স্ব’জনদের আ’হাজারি, আ’সামিদের নি’র্দো’ষ দাবি

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

বহুল আ’লোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হ’ত্যা মা’মলায় রায় ঘোষণার পর ফেনীর আ’দালত চত্বরে আ’সামিদের স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে তাদের সন্তান-স্বজনরা কোনোভাবেই জ’ড়িত নয় বলে দাবি করেন তারা।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফেনীর নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ হ’ত্যা মা’মলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আ’সামিকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন।

নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি নুর উদ্দিনের মা রাহেলা বেগম বলেন, অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে বি’ক্ষোভ ও মানবন্ধনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে আমা’র ছেলেকে এ মা’মলায় ফাঁ’সানো হয়। মা’মলায় ৮৭ জন আ’দালতে সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের মধ্যে কোনো সাক্ষী আমা’র ছেলের বি’রুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়নি। পিবিআই তিন ঘণ্টা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে তার স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। এ মা’মলার সঙ্গে আমা’র ছেলে কোনোভাবেই জ’ড়িত নয়।
তিনি বলেন, আম’রা অভাবি মানুষ। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমা’র ছেলেকে আমা’র কোলে ফিরে ফেতে চাই।

আরেক আ’সামি মো. শামীমের মা হোসনে আরা বেগম তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এ মা’মলায় শামীমকে ঘর থেকে ধরে এনে ফাঁ’সানো হয়েছে।

কে ফাঁ’সিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা জানি না। নুসরাতের ঘটনার দিন আমা’র ছেলে আলিমের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পায়। এরপরও সে পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমা’র ছেলে নিস্পাপ।

আবদুর রহিম শরীফের মা নুর নাহার কেঁদে কেঁদে বলেন, আমা’র ছেলে কোনোভাবেই নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার সঙ্গে জ’ড়িত নয়। অধ্যক্ষের সঙ্গে সুস’ম্পর্কের কারণে তাকে ফাঁ’সানো হয়েছে। আম’রা এ রায় মানি না। উচ্চ আ’দালতের মাধ্যমে আমা’র ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়িয়ে আনবো।

আ’দালত প্রাঙ্গণে নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি জাবেদ হোসেনের ভাই জাহেদ হোসেন, এম’রান হোসেন মামুনের বাবা এনামুল হক ও কাম’রুন নাহার মনির মায়ের সঙ্গেও কথা হয়। আ’দালত প্রাঙ্গণে উচ্চ স্বরে কেঁদে কেঁদে তারা এ মা’মলার রায় প্রত্যাখ্যান করেন।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইস’লামিয়া ফাজিল মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্ম’দ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কাম’রুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইম’রান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্ম’দ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মা’র্চ সোনাগাজী ইস’লামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌ’ন নি’পীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আ’ট’ক করে পু’লিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আ’গুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাস*পাতালের বার্ন ইউনিটে মা’রা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আ’সামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অ’জ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আ’সামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মা’মলা দায়ের করেন।

নুসরাত হ’ত্যা মা’মলায় পু’লিশ ও পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রে’ফতার করে। পরে ২৯ মে ১৬ জনকে আ’সামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অ’ভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar