kidarkar

নুসরাতকে নিচ থেকে ছাদে নিয়ে হাত বাঁধে শম্পা

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

মাদরাসা ছাত্রীকে যৌ’ন নি’পীড়নের পর পুড়িয়ে হ’ত্যার দায় স্বীকার করে আ’দালতে জবানব’ন্দি দিয়েছেন ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ভাগনি (শ্যালিকার মেয়ে) উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা। শুক্রবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আ’দালত তাদের জবানব’ন্দি রেকর্ড করেন। এ দিকে একই আ’দালত জাবেদ হোসেনকে আরও তিন দিনের রি’মান্ড দিয়েছেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আ’দালতে তুলে ১০ দিনের রি’মান্ড চাইলে আ’দালত তাকে ৭ দিনের রি’মান্ডের নির্দেশ দেন। জাবেদ নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার এজহারভুক্ত ৬ নম্বর আ’সামি। সে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে।

পিআইবির চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পু’লিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসরাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে যে দুজন নারী সদস্য জ’ড়িত ছিল তাদের মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা একজন। সে জবানব’ন্দিতে হ’ত্যাকা’ণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেন, তাকে সে নিচ থেকে ডেকে নেয় ও হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরিকল্পা ও হ’ত্যাকা’ণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআই’র অন্য একটি সূত্র জানায়, জবানব’ন্দিতে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা স্বীকার করে বলেন, নুসরাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের তিনটি সভার মধ্যে প্রথমটিতে সে ও মণি উপস্থিত ছিল। হ’ত্যাকা’ণ্ডের সময় পপি ও মনি হাত বাঁধে জাবেদ ও যোবায়ের কেরোসিন ঢেলে আ’গুন দেয়। পরে তারা পরীক্ষার হলে অবস্থান করে। নুর উদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদের তাদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল শম্পা সন্দেহে সোনাগাজী উপজে’লার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইস’লামের মেয়ে উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। সে একই মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষার্থী।

মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা ও পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, আ’লোচিত নুসরাত হ’ত্যা মা’মলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের জবানব’ন্দি আ’দালত রেকর্ড করেছে। এদের সবাই আ’দালতে হ’ত্যাকা’ণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানব’ন্দি দিয়েছেন।

এর আগে ১৪ এপ্রিল রোবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আ’দালতে নুসরাত হ’ত্যার দায় স্বীকার করে জবানব’ন্দি দিয়েছেন মা’মলার অন্যতম আ’সামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। ১৭ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আ’দালতে আবদুর রহিম ও শরীফ, ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় একই আ’দালতে হাফেজ আবদুল কাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেন।

আ’লোচিত এ মা’মলায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ ও পিবিআই। এদের মধে ওই অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠি আরিফুল ইস’লাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্ম’দ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইস’লাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কাম’রুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরিফুল ইস’লাম ওরফে শরিফ ও উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃ’ত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাস*পাতালের বার্ন ইউনিটে মা’রা যান অ’গ্নিদ’গ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাত’দন্ত শেষে ম’রদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar