kidarkar

রায় শুনে আ’দালতে কাঁদতে কাঁদতে যা বললেন অধ্যক্ষ সিরাজ

বাংলাদেশ

জাহিদ হাসান | ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০২:০২ অপরাহ্ন

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হ’ত্যা মা’মলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আ’দালত। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর এজলাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিরা। তারা এ সময় উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘একটা আত্মহ’ত্যাকে হ’ত্যা সাজিয়ে আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।’ এ সময় এজলাশে নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার এক নম্বর আ’সামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে সবচেয়ে বেশি কান্না করতে দেখা যায়।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

রায় ঘোষণার আগেই মা’মলাটির ১৬ আ’সামিকে কারাগার থেকে আ’দালতে হাজির করা হয়। এর আগেই রায় ঘোষণার জন্য আ’দালত প্রাঙ্গণ, ফেনী সদর, সোনাগাজী উপজেলা এবং নুসরাতের বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মা’মলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মা’মলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃ’ত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মা’মলা করেন। পরে মা’মলাটি হ’ত্যা মা’মলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আ’দালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মা’মলার কার্যক্রম শেষ হয়। আর মা’মলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পিবিআইয়ের লাগে ৩৩ কার্যদিবস।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar