kidarkar

নবীর জন্য পু’লিশেরও মন কাঁ’দে, কিন্তু হাত-পা বাঁ’ধা : এএস’পি সালেহউদ্দিন

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৬ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পু’লিশের সিনিয়র এএস’পি সালেহউদ্দিন আহমেদ ফেসবুকের স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভোলার ঘটনার পর কিছু সংখ্যক মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে পু’লিশ সকল অ’পরাধের অ’পরাধী। মনে হচ্ছে পু’লিশ মহানবীকে নিয়ে ক’টূক্তি করেছে। পু’লিশ অ’পরাধীদের বাঁ’চানোর চেষ্টা করছে। পু’লিশ এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। পু’লিশ চারজন নিরপরাধ মানুষকে শুধু শুধু হ’ত্যা করেছে।’

২২ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেন, ‘আসলে বাংলাদেশের মতো আর্থসামাজিক অবস্থার একটি দেশে পু’লিশিং করা খুবই কঠিন ও জটিল। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগুরু একটি দেশ। এছাড়াও এদেশে নাগরিক হিসেবে আছেন হি’ন্দু বৌ’দ্ধ খৃ’ষ্টান সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ। দেশের উপর সকলের অধিকার সমান। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি এদেশে চমৎকার। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে অকারণে ধৈর্যচ্যুতির অভাবে বড় বড় অ’ঘটন ঘটে যায়।’

‘বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্যও মু’সলিম ধর্মাবলম্বী প্রিয় নবীর অ’পমানে তাদের ও অন্তর কাঁ’দে। তাদের ও প্র’তিশোধ নিতে মন চায়, কিন্তু পারে না। কারণ তাদের হাত পা বাঁ’ধা। তারা আইনের চাকরি করে। তারা আইন জানে ও মানে। তারা কাউকে মা’রতে চায়না, গু’লি করতে চায়না এরপর ও চারজন মৃ’ত্যুবরণ করেছে। এজন্য আমি নিজেও অ’নুতপ্ত। অ’নুশোচনায় দ’গ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

একইভাবে আমাদের প্রিয় নবীকে অন্য ধর্মের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজন ও শ্রদ্ধা করে সম্মান করে। তদ্রুপ বয়োজ্যেষ্ঠ মু’সলমান স¤প্রদা’য়ের লোকজন ও অন্য ধর্মের ধর্ম পালনে কোনদিন বা’ধা দান করেনি। এটাই হলো স¤প্রীতি।

মাঝে মাঝে সমস্যাগুলো কেন হয়? দেখা গেল উঠতি বয়সের কিছু পোলাপান হয় হি’ন্দু নয় মু’সলিম এসব ঝা’মেলার সৃষ্টি করে। তাদের কারণে আমরা বড়রাও ঝা’মেলায় জ’ড়িয়ে যাই। আবেগের তাড়নায় কি করি নিজেও জানি না। আমাদের তো প্র’তিবাদ করার কথা, বে’আইনী সমাবেশে যোগদান করার কথা নয়।

প্র’তিবাদের ভাষা হতে পারে কালো ব্যাজ ধারণ। হতে পারে মা’নবব’ন্ধন। হতে পারে স্মারকলিপি প্রদান। প্র’তিবাদ সমাবেশ না করাই উত্তম কারণ প্র’তিবাদ সমাবেশ যে কোন সময় বে’আইনী সমাবেশে রূপ লাভ করতে পারে। প্র’তিবাদ সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ সব সময় নেতৃবৃন্দের হাতে থাকে না। বি’ক্ষুব্ধ জনতা বলতে কোন শব্দ আইনে নেই। বি’ক্ষুব্ধ জনতা মানেই বে’আইনী সমাবেশ।

ম’সজিদে হা’মলা মাদ্রাসায় হা’মলা ম’ন্দিরে হা’মলা গী’র্জায় হা’মলা পে’গোডায় হা’মলা আ’ইনশৃঙ্খলা রক্ষা’কারী বাহিনীর উ’পর এসব জ’ঘন্যতম কাজ। আইনের দৃষ্টিতে অ’পরাধ। এসব কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। মনে করতে হবে আমাদের হাত পা বা’ধা।

তৃতীয় শক্তি থেকেও সাবধানে থাকতে হবে। এরা রাজাকার আলবদরদের দোষর এরা সব সময়-ই চায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শি’কার করতে। যেটি হয়েছে ভোলা জেলায়।

ম্যা’জিস্ট্রেটের নি’র্দেশে গু’লি করলেও সমস্ত ক্ষো’ভ পু’লিশের বি’রুদ্ধে কারণ পু’লিশই সর’কারের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। গু’লি না করলেও বি’পদ তখন সবাই বলবে এতোগুলো অফিসার কে জনতা পি’টিয়ে মা’রলো অ’স্ত্র থাকার পরও তারা ভীতুর মতো তার ব্যাবহার করেনি। এমন পু’লিশ কে বেতন দিয়ে রেখে লাভ কি?

যাই হোক আমাদের সকলকে সহনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে। চিলে কান নিয়ে গেছে বলে না দৌড়ে কানে হাত দিয়ে যাচাই বাচাই করতে হবে। আমাদের সভ্য জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে শিক্ষা সহনশীলতা ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar