kidarkar

গোপনে পপুলারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবাক ম্যাজিস্ট্রেট তমা

বাংলাদেশ

হাসান রাফি | ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ০১:২৭ অপরাহ্ন

রুবাইয়া ইয়াসমিন তমা। তিনি গাজীপুরের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে জানান, রাজধানীর পপুলার হাস*পাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। সাধারণ রোগীর মতোই হাস*পাতালে যান তিনি। কিন্তু তার সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয় তা মোটেই শোভনীয় নয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া ইয়াসমিন তমা’র গত শনিবার রাতে ফেসবুক ওয়ালে (১৪ই সেপ্টেম্বর) লেখেন-

‘আমি সাধারণত নিজের কর্মস্থলের বাইরে ডাক্তার দেখালে পরিচয় দিয়ে যাই না, কথা প্রসঙ্গে পরিচয় বের হলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আজ জনমের মত শিক্ষা হলো, জীবনে আর কোথাও যাই করি, এদেশে ডাক্তার দেখাতে গেলে নিজের পরিচয় না দিলে কোন কোন ডাক্তারের কাছে মান-ইজ্জত তো থাকবেই না, বরং কুকুর-বিড়ালের মত আচরণ পেতে হতে পারে। যদিও সব ডাক্তার এক রকম নয়।’

তিনি লেখেন, ‘আজ ধানমন্ডি পপুলার হাস*পাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর কোহিনূর বেগম (প্রাক্তন অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ) এর কাছে পরাম’র্শের জন্য গিয়েছিলাম। প্রথমে একজন সহকারি রোগের কথা শুনে সামা’রি লিখে নিলেন, খুব ভালো। কিন্তু ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে দেখি, তিনি অন্য রোগী দেখছেন। ডাক্তার এতই ব্যস্ত যে, একজন আয়া এসে আমা’র কাছে আমা’র রোগ স’ম্পর্কে জানতে চাইলেন। আয়াটার কাজ হচ্ছে, রোগের ‘র’ টা শুনবে, আর অমনি রোগীকে শুইয়ে দিয়ে রোগীর কাপড় খুলে নিবে। আমি বললাম, আমা’র কি করতে হবে না হবে, তা ডাক্তার এসে বলুক, আপনি এমন করছেন কেন? আয়া মহাশয়ার জবাবের টোন শুনে মনে হচ্ছে, তিনি কোন লাট বাহাদুর হবেন। অ’তঃপর ডাক্তার এসে জানালেন, তার এত সময় নেই আমাকে চেক করার, এসে বসে কথা বলতে বললেন। তিনি যখন কথা বলা শুরু করলেন, তখন মনে হল তার জিহবার সাথে একটা চাকু লাগানো আছে। রোগের কথা যা-ই বলি, তিনি তেলে বেগুনে তেতে উঠছেন।

ক্ষুব্ধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমা আরও লেখেন, ‘ফ্রি তো দেখাতে যাইনি, সার্ভিস দিতে এত রাগ হয়, টাকা’টা নিতে লজ্জা করে না? আম’রা জাতি হিসেবে কবে মানুষ হব? সততা অনেক বিশাল ব্যপ্ত একটি বিষয়; শুধু ঘুষ না খাওয়া মানেই যে সততা নয়। যে কাজের জন্য টাকা নিচ্ছি, সেটা ঠিকমতো না করলে যে ঐ টাকা হালাল হয় না, টেবিলের ওপাশে সেবা নিতে আসা মানুষটার সাথে দুরাচরণ করাটা কত বড় পাপ, তা আম’রা কবে বুঝতে শিখবো?’

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া ইয়াসমিন তমা বলেন, ধানমন্ডি পপুলার এর ডক্টর কোহিনূর বেগম, গাইনোকোলোজিস্ট। তার চেম্বারে আয়া এসে রোগ জিজ্ঞেস করে, ডাক্তার এর সময় বাঁ’চানোর জন্য, কি রোগ সেটা ডাক্তার শোনার আগেই আয়া এসে রোগীর কাপড় খুলে নেয়। এটা কেমন কথা? রোগীকে কাপড় খুলতে হবে কিনা, সেটা তো ডাক্তার বলবে তাই না?

আর ঐ ডাক্তারের আচরণে মনে হচ্ছে তিনি ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাই তার সময় নেই, মন মেজাজ খুবই খা’রাপ। অথচ, ১০০০ টাকা ফি টা যখন নিলেন তিনি, তখন লজ্জা করলো না! রোগী হিসেবে তিনি তার অ’ভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন বলেও জানান এই কর্মক’র্তা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar