আবরার হত্যা: যা বললেন সেই ভ্যানচালক পিতা

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জয়পুরহাটের দোগাছী গ্রামের আতিকুল ইসলামের ছেলে আকাশ হোসেনও রয়েছেন।
আকাশের বাবা আতিকুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক হলেও স্বপ্ন দেখতেন ছেলে আকাশ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সংসারের হাল ধরবে। বাবা-মার সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের অভাবের সংসারে ভ্যান চালিয়ে কোনো মতে সংসারে খেয়ে না খেয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন আতিকুল। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে আকাশ। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড়ো আকাশ।

আকাশ দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি ও জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে প্রাইভেটপড়া ছাড়াই জিপিএ-৫ নিয়ে পাশ করে। ভ্যানচালক বাবা ও মার ছেলেকে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার আশা বেড়ে যায়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আকাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে স্থানীয়রা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছায় সে ভর্তি হয় বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগে।

বুয়েটের দাতব্য সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ও টিউশনি করে লেখাপড়া করছিল আকাশ। নিয়তির নির্মম পরিহাস আকাশ বর্তমানে আবরার হত্যা মামলায় এজাহার নামীয় আসামি।

আকাশের বাবা আতিকুল বলেন, ছেলেকে বুয়েটে পাটায়ছিলাম ইঞ্জিনিয়ার বানাতে। নিজে না খায়েও তার জন্য পত্যেক মাসে ট্যাকা পাঠায়চি। হামাক (আমার) ছেলে যে আরেকজন ছেলেক মারবে, তা ভাববার পাচ্চি না। ওক (আকাশ) বারবার কছি (বলছি)-বাবারে তুই রাজনীতি করিস না, মারামারি করিস না। হামাকোরে কষ্টের সংসার, পড়াশুনা শ্যাষ করে ভালো চাকরি করা লাগবি। এখন স্বপ্নপূরণ তো দূরের কথা, জীবনটাই বাঁচানো দায় হয়া পড়ছে।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ১৬ জন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।