ওরা আমার রান্না করা শেষ রুটি-মাংসও খেতে দেয়নি আবরারকে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ইলেকট্রিক এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কতিপয় নেতারা পি’টিয়ে হ’ত্যা করে।

গেল রোববার দিনগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরারের ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। এ হ’ত্যা নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা চলছে। আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ’র দায়ের করা চকবাজার থানার মা’মলায় ১৯ আ’সামির মধ্যে পু’লিশ এরই মধ্যে ১৫ জনকে গ্রে’প্তার করেছে।

এদিকে আবরার ফাহাদের বাড়িতে ছেলে হা’রানোর শোকে এখনও বিলাপ করছেন তার মা রোকেয়া খাতুন। রোকেয়া খাতুন বললেন, ‘আমি নিজ হাতে জামা ইস্ত্রি করে ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিলাম। রুটি বানিয়ে মাংস রান্না করে দিয়েছিলাম। ওরা আমা’র ছেলের সেই খাবারটুকুও খেতে দেয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নি’র্মমভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

আমি আমা’র ছেলেকে বলেছিলাম বাবা তুমি বিসিএস দিয়ে ডিসি হবা। মানুষ আমাকে বলবে ডিসি সাহেবের মা। এ কথা শুনে আমা’র আবরার বলেছিল মা তুমি আমা’র কাছে সবসময় এত কম চাও কেন। এরপরে আমি আর ছেলের কাছে জীবনে কিছুই চাইনি।

শুধু বলেছিলাম, মানুষ হও নামাজ কাজা করবা না। কারও সঙ্গে খা’রাপ ব্যবহার করবা না। আমা’র ছেলে কারও দিকে তাকিয়ে কথা বলতো না। মাথা নিচু করে রাস্তায় চলতো। সেই সোনার টুকরা ছেলেকে ওরা মে’রে ফেললো। যারা আমা’র ছেলেকে বুয়েট ছাড়া করেছে আমি তাদেরকে বুয়েট ছাড়া দেখতে চাই। ফাঁ’সির মঞ্চে দেখতে চাই।