আইভীকে ঠেকাতে ১০০ কোটি টাকা বাজেট রেখেছিলেন জি কে শামীম!

যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা টেন্ডার কিং খ্যাত এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম চলমান ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযানে আটক হয়ে দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে আছেন।

বিএনপি সরকারের আমলে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা এই জি কে শামীম বরাবরই অবস্থা বুঝে কদম ফেলতেন। তাইতো নমব জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে যুবদল থেকে যুবলীগ নেতা হয়ে উঠেন এই টেন্ডার মাফিয়া।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, সরকারি বড় বড় কাজ হাতিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন তিনি।

এমনকি সম্প্রতি দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই দেড় হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন এই ‘ঠিকাদার মোগল’। এর মধ্যে কাজ পেতে গণপূর্ত অধিদফতরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ও গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকে ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ দেন তিনি।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াত আইভী। ওই সময় নৌকা প্রতীক নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মেয়র হওয়ার খায়েশ ছিল জি কে শামীমের। এমনকি আইভীকে ঠেকিয়ে নৌকার মনোনয়ন পেতে ও নির্বাচনী খরচ হিসেবে জি কে শামীম ১০০ কোটি টাকার বাজেট রেখেছিলেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে সত্যতার অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ওই মেয়র নির্বাচনে আইভীকে ঠেকাতে জি কে শামীমের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আরও বেশ কয়েকজন নেতা এ পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলেন।

জানা যায়, সেলিনা হায়াত আইভীর পরিবর্তে তাকে যেন মনোনয়ন দেয়া হয় এজন্য জি কে শামীম আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এক পর্যায়ে দেনদরবারও শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে কেউই আশ্বস্ত করতে করেননি। এমনকি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও একাধিক নেতাও জি কে শামীমকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে তারা এখন এ বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

কিন্তু ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জে সেলিনা হায়াত আইভীর মতো একজন যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নেতার পরিবর্তে জি কে শামীমকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাই বিরোধিতা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‍্যাব) সদস্যরা রাজধানীর নিকেতনে জি কে শামীমের নিজ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার ৭ দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেন। এসময় র‌্যাব সদস্যরা জি কে শামীকের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি), ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদের বোতল জব্দ করে।

নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেয়া জি কে শামীমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সব ধরনের লেনদেন স্থগিত (অবরুদ্ধ) করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা আছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।