সিঙ্গাপুরে যার সঙ্গে সময় কাটান ‌‘ক্যাসিনো সম্রাট’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সন্ধানে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হচ্ছে। অবৈধ জুয়া-ক্যাসিনো, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আগেই মাঠে নেমেছে র‌্যাব। এবার পুলিশও তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। তবে সম্রাট দেশে আছে না পালিয়ে গেছে তা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ বলছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের কাজ করছে আইনশৃংখলা বাহিনী। দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান শুদ্ধি অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়া যুবলীগ নেতা হচ্ছেন সম্রাট। অথচ তাকেই ক্যাসিনো বাণিজ্যের সম্রাট হিসেবে বলা হয়ে থাকে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শুধু দেশেই নয় সিঙ্গাপুরের সেরা কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে সম্রাট অন্যতম। সেখানে তিনি ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। টাকার বস্তা নিয়ে মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে যান সম্রাট। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে প্রথম সারির জুয়াড়ি তিনি। ভিআইপি জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে রিসিভি করে বিলাসবহুল গাড়ি লিমুজিনে করে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে নিয়ে যাওয়া হয় সম্রাটকে।

সূত্র জানায়, জুয়া খেলা ছাড়াও সিঙ্গাপুরে এক চীনা বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটান সম্রাট। সেই নারীর নাম সিন্ডি লি বলে জানা গেছে। মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে সেই নারীকে নিয়ে যান কখনও সম্রাট। সিন্ডি লি এর পরিচয়টি জানা যায় ২০১৮ সালের শেষদিকে। সে সময় সিঙ্গাপুরে সিন্ডি লির জন্মদিনে অংশ নেন সম্রাট। বান্ধবীর জন্য বড় আকারের একটি পার্টির আয়োজন করেন। অন্তরঙ্গময় ছবিও তোলেন।

সম্রাটের সঙ্গে সিন্ডি লি একটি ছবি ইতিমধ্যে এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। জাঁকজমকপূর্ণ ওই পার্টিতে সম্রাটের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদও উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার কৃতদের অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার মূলে আছেন সম্রাট। তার হাত ধরেই ক্যাসিনোর প্রসার ও বিস্তার। সম্রাটকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই অবৈধ এ বাণিজ্যের আদি-অন্ত বের করা যাবে। বন্ধও করা সম্ভব অবৈধ এ ব্যবসা।

এ বিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ক্যাসিনোসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব বদ্ধপরিকর। যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের সহযোগিতা করতে পারেন। সম্রাটকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাকশনটা শুরুর এক সপ্তাহও হল না। এক সপ্তাহের মধ্যে সব ব্যবস্থা হবে?