নিজে বহিষ্কার হওয়াই রেগে গিয়ে দলের ভিতরের খবর ফাঁস করলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী

নাটোরে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সম্পাদক শামিমা শিল্পীর বহিষ্কারকে অবৈধ দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শামিমা শিল্পী লিখিত বক্তব্যে বলেন, মহিলা সংসদ সদস্য পদে তিনিও বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা মহিলা লীগের সভাপতি রত্মা আহমেদ এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন দৌড়ে তিনি অনেকটাই

এগিয়েও গিয়েছিলেন। এছাড়াও আগামী জেলা কাউন্সিলে তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে একজন জোরালো প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শামিমা শিল্পী বলেন, সাংগাঠনিক কর্মকাণ্ডে দলে আমার ভাবমূর্তি বেড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে দল থেকে সরিয়ে দিতেই অগঠনতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করে এবং আমাকে কোন চিঠি না দিয়েই ফেসবুকে এই খবরটি ভাইরাল করার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিউটি আহমেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, তার (বিউটি আহমেদ) বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, নেতা কার্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও চাঁদাবাজির ব্যাপারে জেলা মহিলা লীগের ২৮ জন সদস্যের স্বাক্ষরিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে বহিষ্কার বা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ মুখে মুখে প্রমাণের অজুহাতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে তাকে (শামিমা শিল্পী) বহিষ্কার করা হয়েছে, যা দলীয় গঠণতন্ত্র পরিপন্থী। গঠণতন্ত্রের ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খণ্ডনের জন্য কারণ দর্শানোর কথা বলা থাকলেও আমার বেলায় সে সব কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে করে আমার পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম এমপি এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগমকে জানালে তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। শামিমা শিল্পী আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে মুখে মুখে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মানহানি মামলা করা হবে। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কামরুন নাহার। বিডি-প্রতিদিন