এবার অনেক স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে সৌদি প্রবাসীদের

সৌদি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল তাদের ছেলে-মেয়েদের প্রতিষ্ঠান হবে নিজস্ব জমিতে। আজ তাদের সেই আশা আকাঙ্খা পূরণ হতে চলেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সন্তানদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক নাগরিক

হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের

অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন বাংলাদেশি স্কুল নির্মাণের বিষয়ে সম্প্রতি ফিজিবিলিটি স্টাডি টিমের সৌদিতে আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা সভায় এসব বলেন।তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থা নাসা থেকে শুরু করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশের এবং প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করে চলেছে নিরন্তর। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক খাদেমুল ইসলাম ও মো. রেদওয়ানুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফেজ মো. ইব্রাহীম পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।পরে বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদ বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। প্রতিদিন প্রভাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ওড়ে।

প্রাথমিকভাবে সংকট উত্তোরণে প্রধানমন্ত্রী তিন কোটি টাকার আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠতে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আমৃত্যু স্মরণ রাখবে।বর্তমানে এবং স্থায়ী সংকট উত্তোরণে বিদ্যালয়টি নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা আজাদের হৃদয়গ্রাহী বক্তব্যে সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তার স্বপ্ন প্রবাসে সরকার একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করলেও তার বিদ্যালয়টি বাদ যাবে না। কো-সিগনেটরি ইঞ্জিনিয়ার গোফরান বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শিক্ষাক্ষেত্রে যে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন তা জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি প্রবাসের বুকে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য নিজস্ব ভূমিতে বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাফল্যের আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলেন।সিগনেটরি মো. আবদূল হাকিম বলেন, আমরা আনন্দিত এবং অভিভূত। আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তাদের প্রিয় এ বিদ্যালয় অচিরে স্থানান্তরিত হবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে। আমরা সত্যিই আজ অভিভূত। আপনাদের নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ একটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত। ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন।

আপনাদের পাশে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। প্রবাসের বুকে আমাদের এই বিদ্যালয়টি প্রবাসী সন্তানদের দেশের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে যে ভূমিকা পালন করছে জাতি একদিন কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করবে।তিনি বলেন, দূরপ্রবাসেও আমাদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীক্ষিত করার ক্ষেত্রে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকি। প্রতিদিন প্রাতঃসমাবেশে দেশপ্রেমের মহামন্ত্রে তাদের উদ্ভাসিত করা হয়। ক্যাম্পাসে এলে মনে হয় আমরা যেন বাংলাদেশের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানেই অবস্থান করছি। নিমিষেই ভুলে যাই প্রবাস জীবনের যান্ত্রিক দুঃসহ যন্ত্রণা।

তিনি আরও বলেন, প্রবাস জীবনে এখন কিছুটা ক্রান্তিকাল চলছে। তা থেকে উত্তোরণের জন্য এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সময়ের দাবি হচ্ছে এই বিদ্যালয়কে একটি স্থায়ী ও নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা।বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মেহেদী হাসান এ ধরনের সুন্দর আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বিদ্যালয়ের দাবির সাথে সহমত প্রকাশ করেন।

তিনি বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার অনুরোধ জানান। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে জানান। প্রধান অতিথি বলেন, আমরা এসেছি আপনাদের সমস্যাগুলো দেখে সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করতে। প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রবাসীদের জন্য আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। শিক্ষা বিস্তারেও আমরা কাজ করে থাকি।

প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকি। প্রবাসে শিক্ষা বিস্তারে আমরা সদা তৎপর। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ছয়টি স্কুল ভিজিট করবে এবং অবকাঠামো নির্মাণে অবস্থা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।তিনি বলেন, হাজার সমস্যা থাকবে কিন্তু মাইগ্রেশন বন্ধ হবে না, এই বিদ্যালয় থাকবে এখানে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা করবে। আমিও চাই এখানে ভালো একটি বিদ্যালয় নির্মাণ হোক। আমরা প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী ইন্সুরেন্স চালু করবেন। রেমিট্যান্স বৈধ উপায়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধ করেন। প্রবাসীদের কারণে আমাদের দেশে বেকার সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আছে।

আপনাদের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। স্কুল টেকসই করার ক্ষেত্রে বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের অবদান অপরিহার্য মনে করেন এবং সুন্দর আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পরে ফিজিবিলিটি টিম বিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত ভূমি পরিদর্শনে যান।বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহা পরিচালক (এডিশনাল সেক্রেটারি) গাজী মোহাম্মদ জুলহাস এনডিসি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা অধি-শাখার উপপ্রধান শেখ মো. শরীফ উদ্দিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক কাজী জিয়াউল হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মেহেদী হাসান, বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, সিগনেটরি মো. আবদূল হাকিম, কো-সিগনেটরি ইঞ্জিনিয়ার গোফরান, সদস্য ও কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক উপস্থিত ছিলেন।