ভালোবেসে বিয়ের এই হাল

মাদারীপুরের রাজৈর কদমবাড়ি গ্রামের বাবু রায়ের ছেলে সৈকত রায় বিয়ের ২ বছর পরেও মুক্তা মণ্ডল (২০) নামের এক তরুণীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না। ভালোবেসে বিয়ের পরও ঘর বাঁধতে পারছে না মুক্তা। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে স্বামীর বাড়ির দরজায় বসে অনশন করছে মুক্তা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদভিটা গ্রামের দরিদ্র ইজিবাইক চালক রান্টু মণ্ডলের মেয়ে মুক্তা। দুই বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর কদমবাড়ি গ্রামের বাবু রায়ের ছেলে সৈকত রায়ের সাথে তার বিয়ে হয়। সৈকত রায় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

অনশনরত মুক্তা মণ্ডল জানায়, ৪ বছর আগে সৈকত রায়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে ২ বছর পূর্বে পরিবারের অজান্তে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে থাকত মুক্তা। গত ৬ মাস আগে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় বাসা ভাড়া করে সৈকত মুক্তাকে নিয়ে যায়। তাদের সংসার ভালই চলছিল।

সৈকতের বাবা বাবু রায় ইতালি প্রবাসী। সৈকতের মা শেলি রায় যখন জানতে পারেন তার ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় থাকে, তখন ছেলেকে পরামর্শ দিয়ে মুক্তাকে নির্যাতন করে ঢাকার বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপরে সৈকত বাসা ছেড়ে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করে।

কোন উপায় না পেয়ে মুক্তা গত শনিবার সৈকতের বাড়িতে এসে ওঠে এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করে। এই সময় সৈকতের মা শেলি রায় মুক্তাকে ঘরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন এবং ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করেন।

বুধবার বিকেলে সৈকতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে তালা লাগানো এবং মুক্তা সিঁড়ির ওপর বসে আছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় মেম্বরদের নিয়ে সেখানে হাজির হন। মুক্তার মুখে বিস্তারিত শুনে তাকে বিচারের আশ্বাস দেন।

কদমবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, বাবু রায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরে তালা লাগানো। মেয়েটিকে বাবু রায়ের পরিবারের মুরুব্বিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। অতি সত্বর এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান বলেন, ঘটনাটা আমার জানা নেই। তবে মেয়েটি যদি আইনের সাহায্য চায়, তাহলে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।