শেখ হাসিনাকে নিয়ে ধৃষ্টতা দেখালে পিঠের চামড়া থাকবে না, জয়ের হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কেউ ধৃষ্টতা দেখালে ‘তার পিঠের চামড়া থাকবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

১৫ আগস্ট নিয়ে কটূক্তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেপ্তার ও বিএনপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক ছাত্র সমাবেশে আল নাহিয়ান খান এসব বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সম্প্রতি শামসুজ্জামান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘উসকানিমূলক মন্তব্য’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘শামসুজ্জামান টক শোতে বড় বড় কথা বলেন। তাকে বলব, টক শোতে বড় কথা না বলে পারলে রাজপথে এসে মোকাবিলা করুন। তার বিরুদ্ধে জেলায় জেলায় মামলা শুরু হয়ে গেছে। শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে।’

বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমালোচনা করে আল নাহিয়ান বলেন, ‘ছাত্রদলে ছাত্রদের লেশমাত্র নেই। এটি একটি অযোগ্য সংগঠন। বুড়ো-বাবাদের এই সংগঠনকে ছাত্রসমাজ বয়কট করবে, এটিই স্বাভাবিক।’

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, শুক্রবার ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিট থেকে শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এই সমাবেশ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।

বুধবার রাতে কাউন্সিলের মাধ্যমে হওয়া ছাত্রদলের কমিটিকে ‘নিশি কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দেন সমাবেশের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগে ভাই ও প্রটোকলের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। গেস্টরুম করানোর নামে কেউ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রবিরোধী কিছু করলে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএনপির নেতা শামসুজ্জামানের ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চার শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে শামসুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।