একদিন আগেও যারা তার নামে স্লোগান দিতো, আজ তারা শোভনকে চিনতে পারলো না’

নিউজ ডেস্ক : একদিন আগেও তার নামে স্লোগান হতো। তার কথাতেই নেতাকর্মীরা চলতেন। বিতর্ক হওয়ার পরও তার পক্ষেই ছিলেন অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থক। কিন্তু পদ হারানোর পরই গণেশ উল্টে গেলো।

ব্যবধান মাত্র কয়েক ঘণ্টার। এই কয়েক ঘন্টায় যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। একদিন আগেও যারা তার নামে স্লোগান দিতো, আজ তারা শোভনকে চিনতে পারলো না।

এমনকি বিদায়ী বক্তব্যটুকুও শোনার প্রয়োজনবোধ করেনি নেতাকর্মীরা। তারা তখন নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির-সাধারণ সম্পাদকের নামে স্লোগান দিতেই ব্যস্ত। এমনই এক পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বললেন, ‘ভালো থেকো’।

এরপর বিদায় নিয়ে চলে যান। দায়িত্ব পাওয়ার পর শনিবার রাত একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসির) ডাচে আলাদা আলাদা মোটরসাইকেলে করে আসেন শোভন ও নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

তখন শোভনের সামনেই নেতাকর্মীরা ‘জয় ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শোভন বলেন, শোনো, অতিরঞ্জিত হয় এমন কিছু করবা না। যেটা আমাদের কষ্ট দেয়, শেখ হাসিনাকে কষ্ট দেয়। ঠিক আছে, সবাই ভালো থাকবে। তবে নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় কোনো বক্তব্য দেননি।

নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

গতকাল শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আল নাহিয়ান খান জয় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা আবদুল আলী খান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া লেখক ভট্টাচর্যের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে। এই কমিটির ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে তিনি এই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করছেন। জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র লেখক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।