চোরের এমন কান্ডকারখানায় হতবাক পাড়া-প্রতিবেশীরা, চমকে গিয়েছে পুলিশও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একটি বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিল চোর। চুরি তো করলই, রান্নাঘরে ঢুকে রীতিমতো রেঁধে বেড়ে ভাতও খেয়েছে সে। শুধু তাই নয়, বিছানায় কিছুক্ষণ গড়িয়েও নিয়েছে। তারপর ৪৫ হাজার টাকা ও লক্ষাধিক টাকার গয়না নিয়ে পালিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নরেন্দ্রপুরের পূর্ব আদর্শনগরে।

জানা গেছে, ওই ঘটনা ঘটেছে নরেন্দ্রপুরের শেফালি সর্দারের পূর্ব আদর্শনগরে বাড়িতে। বাড়িতে তিনিই একাই থাকেন। মেয়ের বাড়ি সোনারপুর উত্তরায়ন পল্লিতে। মেয়ে সন্তানসম্ভবা। শুক্রবার রাতে মেয়ের বাড়িতে যান শেফালি। তার আগে সকালে ব্যাঙ্ক থেকে ৪৫ হাজার টাকা তুলে এনেছিলেন। ডেলিভারির সময় প্রয়োজন পড়তে পারে আঁচ করেই এই টাকা ঘরে রেখেছিলেন শেফালি।

শনিবার সকালে পাড়ার লোক দেখতে পায় শেফালির বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা। ভাঙা দরজাও। চুরি হয়েছে বুঝতে পেরে পড়শিদেরই একজন ফোন করেন শেফালিকে। দ্রুত সোনারপুর থেকে নরেন্দ্রপুরে ফিরে আসেন শেফালি। ঘরে ঢুকে মাথায় হাত তার। দেখেন ঘর লন্ডভন্ড, শোকেস ভাঙা, আলমারি ভাঙা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দ্রুত শেফালির বাড়ি চলে আসে পুলিশ। সব কিছু দেখে শেফালি জানান, ৪৫ হাজার টাকা ও লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

পুলিশ শেফালির সব ঘর ঘুরে দেখে। রান্নাঘরে এঁটো থালা-বাটি দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। কারণ শেফালি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি শুক্রবার বাড়িতে খাওয়ার কোনও পাট রাখেননি। মেয়ের বাড়িতেই খান। পুলিশ শেফালিকে রান্নাঘরে ডেকে আনে।

শেফালি বলেন, চোরই স্টোভ জ্বালিয়ে ভাত রান্না করেছে। ফ্রিজ খুলে আলু-লঙ্কা বের করেছে। তিনি কোনও থালাবাসন বা হাঁড়ি এঁটো রেখে যাননি। দেখা যায় রীতিমতো চেটেপুটে আলু, ভাত, লঙ্কা দিয়ে খেয়েছে চোর। তারপর এঁটো বাসনকোসন রান্নাঘরে রেখে শেফালির বিছানায় খানিক গড়িয়ে নিয়েছে। কোঁচকানো চাদর ও বালিশ দেখে এ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হয় পুলিশ।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। যে ঘরে আলমারি ছিল, সে ঘরে কম পাওয়ারের আলো হওয়ায় বাথরুম থেকে বাল্ব খুলে ওই ঘরে লাগিয়েছিল চোর। চোরের এমন কান্ডকারখানায় হতবাক পাড়া-প্রতিবেশীরা। চমকে গিয়েছে পুলিশও। চোরের খোঁজ শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানা।