স্ত্রী, সন্তান হারিয়ে ভারসাম্যহীন দাদনের শিকলে বাধা জীবন

মাদারীপুর জে’লার কালকিনি উপজে’লার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জায়গির গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে দাদন হাওলাদার (৩৭) স্ত্রী’, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।

ভারসাম্যহীন হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মা তাকে এক বছরের বেশি সময় ধরে একটি ছোট ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ছোট ঘরটিতে পায়ে শিকল পরা অবস্থায় দিন কা’টাতে হচ্ছে দাদন হাওলাদারের।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই দাদন একটু সহ’জ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। স্ত্রী’ মোকসেদা বেগম, এক ছেলে ইয়ামিন (৪) ও বড় মেয়ে জান্নাত (১২), ছোট মেয়ে মিমি (৮) কে নিয়ে দিন অ’তিবাহিত করতেন দাদন।

ছোট ভাই খবির হাওলাদার (৩২) দাদনের স্ত্রী’ ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যান। সহ’জ-সরল দাদন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী’কে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এভাবে কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন।

স্থানীয়রা জানান, দাদনকে মানসিক ডাক্তার দিয়ে ভালো’ভাবে চিকিৎসা করতে পারলে দাদন সুস্থ হয়ে জীবন যাপন করতে পারবেন। বৃদ্ধ বাবা-মা’র পক্ষে তাকে নিয়ে পাবনায় গিয়ে চিকিৎসা করানো খুব দুরূহ বিষয়। চাচাতো ভাইয়ে ছেলে সালাউদ্দিন বলেন, আমা’র চাচা দাদন হাওলাদার দেড় থেকে দুই বছর পূর্বেও সুস্থ সবল মানুষ ছিলেন, এখন মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তাকে ভালো মানসিক ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।

দাদনের মা বলেন, আম’রা গরিব মানুষ নিজেরা ঠিকভাবে খেতে পারি না। টাকার অভাবে ছেলেটাকে চিকিৎসা করাতে পারি না। আমি ও আমা’র স্বামী আম’রা দুজনেই বৃদ্ধ মানুষ কোথা নিয়ে চিকিৎসা করাবো, কার কাছে নিয়ে যাবো তাও জানিনা।

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী তোফাজ্জে’ল হোসেন ( গেন্দু কাজী ) বলেন, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি দুঃখজনক। মানসিক হাস*পাতালে নিয়ে চিকিৎসা করলে আমা’র মনে হয় ওই যুবকের মানসিক রোগ ভালো হবে। এ ক্ষেত্রে আমা’র যদি কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তা হলে আমি সেটা করবো।

কালকিনি উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. আ‌মিনুল ইস’লাম ব‌লেন, আমি বিষয়টি জানতাম না, আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। তার পরিবার যদি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পারে সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আম’রা সহযোগিতা করবো। জো’রপূর্বক যদি কেউ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নিব। সূত্র: দেশরুপান্তর।