‘আজানের সময় কথা বন্ধ করার কোনো নিয়ম নেই’

বাংলাদেশ

rana miya | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

আজানের সময় কথা বলা বন্ধের সেরকম কোনো নিয়ম নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
বুধবার বিকেলে (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বক্তৃতা দেয়ার সময় আজান শুরু হলে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার জাতীয় ছাত্র সমাজের সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন জি এম কাদের। এসময়, আসরের আজান শুরু হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেউ একজন আজান দেয়া হচ্ছে বলে তাঁকে জানান।

আজানের কারণে বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার কথা জানালে তিনি, কর্মীদের থামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা আজান শোনো কোনো অসুবিধা নেই।

উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে থেকে কোনো একজনকে জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, আজানের সময় কথা বলা বন্ধ করতে হবে সেরকম কোনো নিয়ম নেই। আমি আস্তে আস্তে কথা বলছি। বাইরের মাইকগুলো দরকার হলে বন্ধ করে দাও।’

আজানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে বিষয়ে কথা বলছিলেন তা ভুলে যান। পরে, পাশে থাকা এক নেতার কাছে জানতে চান কি বিষয়ে কথা কলছিলাম?

পাশ থেকে মনে করিয়ে দেয়ার পর তিনি বলেন, তোমরা যেটা করবে সেটা হলো এলাকাভিত্তিক রাজনীতি যখন করবে, সঙ্গে সঙ্গে তোমাদের যদি কোনো ক্যাম্পাস থাকে তাহলে সেটার মধ্যে রাজনীতি করলে তোমাদের যে আদর্শ, যে মতবাদ সেটা খুব সহজেই তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

একপর্যায়ে আজানের শেষদিকে তিনি বলেন, ”আচ্ছা আজান এখন শেষ দিকে, আমরা দুই মিনিট অপেক্ষা করি।” এরপর আজান শেষ হলে আবার তিনি বক্তব্য শুরু করেন।

জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির জাতীয় কাউন্সিল ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে আমরা রাজনীতি করবো। তিনি বলেন, যারা বলেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি ভেঙে যাবে, তাদের ধারনা মিথ্যে প্রমানিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অরো সুশৃংখল এবং শক্তিশালী হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে থাকবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, পল্লীবন্ধুর অভাব হঠাৎ করেই পূরণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু ৩৬ বছর রাজনৈতিক জীবনের ২৭ বছরই ক্ষমতার বাইরে থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে পল্লীবন্ধু আমরন সংগ্রাম করেছেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক শুন্যতায় জাতীয় পার্টি আরো শক্তিশালী হয়ে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কর্মসূচি দিয়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় পার্টি আগামী দিনে রাজনীতির নিয়ামক এবং চালিকা শক্তি হয়ে থাকবে।

জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি সময়ে দেশের ছাত্র সংগঠন গুলো দল বা ব্যক্তির লেজুড়বৃত্তি ও লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছিলো।

আর এ কারনেই পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করেছিলেন। তিনি উপদেশ দিয়ে বলেন, ছাত্র সমাজ যেন কারো লাঠিয়ালে পরিনত না হয়। ছাত্র সমাজকে প্রতিটি অন্যায় আর অসত্যের প্রতিবাদ করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।

ছাত্র সমাজের প্রতি সততা ও ন্যায়ের সাথে রাজনীতি করতে আহবান জানিয়ে বলেন, রাজনীতি করতে অর্থের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অর্থের জন্য রাজনীতি করা দূর্বৃত্তায়ন।

জাতীয় পার্টির আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, তাই জাতীয় ছাত্র সমাজকে আরো শক্তিশালী হতে হবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর

    kidarkar
    kidarkar