দিনমজুরের বেশে লুঙ্গি গামছা পড়ে আ’সামি ধরল পু’লিশ

দিনমজুরের বেশে লুঙ্গি গামছা পড়ে ঢাকার সাভার থেকে স্ত্রীকে হ*ত্যার দায়ে আলমগীর নামে একজনকে গ্রে’ফতার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার পু’লিশ।

কল্পনা হ’ত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ কোতোয়ালী পু’লিশের এসআই নিরূপম নাগ ও মিনহাজ উদ্দিন দিনমজুর ছদ্মবেশে তাকে গ্রে’ফতার করে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাভারে আগে থেকেই দিনমজুরের বেশে লুঙ্গি গামছা পড়ে ওত পেতে থাকা পু’লিশ আলমগীর কৃষিকাজ করতে গেলে তাকে গ্রে’ফতার করে।

এর আগে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) আলমগীরকে গ্রে’ফতার অভিযানে নামে পু’লিশ। পরে ওই দিন রাতে ঢাকার মুগ্ধা থেকে আলমগীরের ভাইকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীরকে গ্রে’ফতার করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, সদরের বুরোরচরের কল্পনা আক্তারের সাথে বিয়ে হয় আলমগীরের। বিয়ের কয়েকদিন পর কল্পনা জানতে পারেন তার স্বামী আলমগীর আগে আরেকটি বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী এখনো আছে।

আলমগীরের আগের স্ত্রী থাকার খবর জানতে পেরে কল্পনা তার সংসার করবে বলে তার পিত্রালয়ে চলে আসেন এবং তাকে তালাক দিতে বলেন।

কিন্তু, আলমগীর কল্পনাকে ডিভোর্স দিবে না। এ নিয়ে কল্পনার সাথে আলমগীরের ঝগড়া বিবাধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে কল্পনাকে হ’ত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়। চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তভার দেন এসআই মিনহাজ উদ্দিনের উপর।

এদিকে স্ত্রীকে হ’ত্যা করে আলমগীর বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে পু’লিশ জানতে পারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিনহাজ তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে আলমগীরের এক ভাই ঢাকায় থাকে এবং তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে আলমগীরের। পরে পু’লিশ দিনভর অভিযান শেষে রাতে ঢাকার মুগ্ধা থেকে আলমগীরের ভাইকে পু’লিশ আ’টক করে। আ’টক আলমগীরের ভাইয়ের মাধ্যমে পু’লিশ জানতে পারে। সে ঢাকার সাভাবে ১ম স্ত্রীর সাথে বসবাস করছে।

তার ভাই পু’লিশকে আরও বলেন, আলমগীর হাতে কোন টাকা নেই। গত কয়েক দিন যাবত তার কাছে টাকা ধার চেয়ে আসছে। পু’লিশ তার ভাইয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা পাঠাবে বলে আশ্বাস প্রদান করে আলমগীরের ভাই।

আ’টক আলমগীরের ভাই তার সাথে মোবাইলে কথা বলে একটি বিকাশ নাম্বার দিতে বলে এবং টাকা পাঠানোর পরে তার স্ত্রীকে দিয়ে ওই টাকা নিয়ে যেতে বলেন। এর আগে পু’লিশ বিকাশ নাম্বারটি কোন জায়গার, দোকান ও দোকান মালিকের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে এবং পু’লিশ না আসা পর্যন্ত পাঠানো টাকা না দিতে অনুরোধ করে।

আলমগীরকে বিকাশে পাঠানো টাকা উঠাতে যায় তার প্রথম স্ত্রী। এ সময় আলমগীরের প্রথম স্ত্রীকে আ’টক করে পু’লিশ।

পু’লিশ জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীরে স্ত্রী বলেন, আলমগীর সাভারেই রয়েছে। আ’টককৃতদের সাথে নিয়ে পু’লিশ অভিযানে গেলে আলমগীর প্রথমে পালিয়ে যায়। এরই মাঝে রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যায়।

তার স্ত্রী আরও বলেন, আলমগীর সকালে কোন জমিতে সকালে কাজ করতে করতে আসবে। পু’লিশ আগে থেকেই দিনমজুর সেজে গামছা-লুঙ্গি পড়ে পাশের জমিতে কাজ করতে যায়।

অবশেষে পু’লিশ কৃষকের মত গামছা-লুঙ্গি পরে অপর সহযোগী কৌশলী পু’লিশ অফিসার নিরূপম নাগকে নিয়ে আলমগীরকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ।

উল্লেখ্য গত পনেরই আগষ্ট রাতে স্বামী আলমগীর তার দ্বিতীয় স্ত্রী কল্পনাকে ছুরিকাঘাত করে হ’ত্যা করে।