সৌদিতে সঙ্কুচিত হচ্ছে শ্রমবাজার, বিপদে অনেক বাংলাদেশী

দীর্ঘ দিন সুযোগ সঙ্কুচিত থাকার পর গত বছর সাড়ে পাঁচ লাখ বাংলাদেশী ওয়ার্কার্স ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যান। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ সেখানে নির্দিষ্ট চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। এ কারণে প্রতিদিনই তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিড় করছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনের লেবার কাউন্সিলর মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং প্রতিদিন বাংলাদেশীরা দূতাবাসে আসছেন। আমাদের পক্ষে যত দূর সম্ভব চেষ্টা করা হয় তাদের সমস্যা দূর করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এটি অভিবাসীদের অসচেতনার জন্য ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা জানেন, যে চাকরির কথা বলে সৌদি আরবে আসছেন সে চাকরিতে তারা যোগ দিতে পারবেন না।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেবার কাউন্সিলর বলেন, ‘ঢাকা থেকে অনেকে ফ্রি ভিসা নিয়ে আসেন এবং তারা জানেন, তাদের সৌদি আরবে নিজে থেকে চাকরি খুঁজে নিতে হবে। কিন্তু এটি এত সোজা নয়। কারণ, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম এবং নতুন কাজের সুযোগ কম।’

সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা কী জানতে চাইলে মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘আইনগতভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস যেকোনো চাকরির এটাস্টেশন (প্রত্যয়ন) করার পরে ভিসা ইস্যু হওয়ার কথা; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটাস্টেশন ছাড়াই ঢাকায় কাগজপত্র তৈরি করা হয় এবং সৌদি দূতাবাস ভিসা ইস্যু করে। আমরা বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বলেছি এবং দূতাবাসের এটাস্টেশন ছাড়া কোনো ভিসা ইস্যু না করার অনুরোধ জানিয়েছি।’ তিনি জানান, বিষয়টি তারা (সৌদি কর্তৃপক্ষ) অনুধাবন করেছে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে কাজ করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূতাবাসের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে কয়েকটি পক্ষ এ বিষয়টি থেকে লাভবান হয় এবং গোটা লোকসানের ভাগ পান হতভাগ্য অভিবাসীরা।’ তিনি জানান, একজন অভিবাসী কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে আসেন এবং যখন তারা সঠিক কাজ খুঁজে না পান তখন বিপদে পড়ে দূতাবাসে আসেন।

এটাস্টেশন জাল করে সৌদি দূতাবাসে জমা দেয়া হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি জাল করার সুযোগ নেই। কারণ, এটি অনলাইনে জমা দেয়া হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে গেলেই জানতে পারে কোনটি এটাস্টেশন করা এবং কোনটি নয়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন প্রচারণা চালানো উচিত এটাস্টেশন ছাড়া কেউ যদি এখানে চাকরি নিয়ে আসেন, তার সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।’