অবশেষে পাওয়া গেল মিন্নিকে পাঠানো নয়নের শেষ এসএমএস

বহুল আ’লোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডের ত’দন্ত কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছে পু’লিশ।

এ সপ্তাহে না হলেও আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের ত’দন্ত প্রতিবেদন আ’দালতে দাখিল করবে পু’লিশ।

এদিকে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগে ও পরে নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনসহ ম্যাসেজ আদান-প্রদানের তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। মূলত প্রযুক্তির কারণেই রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে দায়ের করা মা’মলার প্রধান সাক্ষী থেকে আ’সামি হয়েছেন মিন্নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের এক সদস্য জানান, নয়ন ব’ন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল ফোন নম্বরটি গো’পনে ব্যবহার করতেন মিন্নি। নয়ন ব’ন্ডই এই সিমটি মিন্নিকে দিয়েছিলেন। মূলত রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ নানা কারণে গো’পনীয়তা বজায় রাখতে ওই সিমটি মিন্নি গো’পনে ব্যবহার করতেন। এছাড়া আরও কয়েকটি নম্বর দিয়েও নয়নের সঙ্গে কথা বলতেন মিন্নি।

তিনি আরও বলেন, হ’ত্যাকা’ণ্ডের দিন সকাল ৯টা আট মিনিটের সময় এই নম্বর দিয়ে নয়ন ব’ন্ডকে কল দিয়ে ছয় সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এরপর আবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটের সময়ও নয়ন ব’ন্ডের দেয়া ওই নম্বরটি দিয়েই আবারও নয়ন ব’ন্ডকে কল দেন মিন্নি। এ সময় নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে ৩৫ সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এরপর ৯টা ৫৮ মিনিটের সময় নয়ন ব’ন্ড মিন্নির কাছে থাকা ওই নম্বরটিতে কল দেন। এ সময় মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন হয় ৪০ সেকেন্ড।

এরপর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কলেজের সামনেই রিফাত শরীফের ওপর হা’মলা করে ব’ন্ড বাহিনী। হা’মলার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটের সময় নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠান। এরপর আবার বিকেল ৩টার সময় মিন্নিকে কল দিয়ে মিন্নির সঙ্গে এক মিনিট ২০ সেকেন্ড কথা বলেন নয়ন ব’ন্ড।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের এক সদস্য বলেন, ‘ত’দন্তের জন্য মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের ব্যবহৃত নম্বরের কললিস্ট ও এসএমএস কন্টেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। এরপর এগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, রিফাত শরীফ মা’রা যাওয়ার পর নয়ন ব’ন্ড মিন্নির কাছে একটি এসএমএস পাঠান। বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, “আমা’রে আমা’র বাপেই জন্ম দেছে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া এক পু’লিশ সদস্য বলেন, নয়ন ব’ন্ডের এমন এসএমএস পাঠানোর র’হস্য উদঘাটনে রি’মান্ডে থাকা অবস্থায় আম’রা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছি। তখন মিন্নি এ বিষয়ে আমাদের বলেছেন, রিফাত শরীফকে মা’রার পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন ব’ন্ডকে বলেছিলেন, তুমি যদি রিফাত শরীফকে মা’রতে পার, তাহলে বুঝবো তোমা’রে তোমা’র বাপেই জন্ম দিছে।

মূলত মিন্নির এমন কথার উত্তর দিতেই রিফাতের মৃ’ত্যুর পর নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে ওই এসএমএসটি পাঠান। এ বিষয়টি আ’দালতে মিন্নি বলবেন বলে পু’লিশকে জানালেও আ’দালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার সময় এই কথা মিন্নি আ’দালতে বলেননি বলেও জানান ওই পু’লিশ কর্মক’র্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের বিয়ের এক সাক্ষী বলেন, নয়ন ব’ন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বরটি একসময় নয়ন ব’ন্ড নিজেও ব্যবহার করতেন। পরে ওই নম্বরটি পরিবর্তন করেন নয়ন ব’ন্ড।

তিনি আরও বলেন, মিন্নি মা’দকাসক্ত ছিল। এ কারণেই সে নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখত। আর এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতো নয়ন ব’ন্ড। রিফাত শরীফের মাধ্যমেই মিন্নির সঙ্গে নয়ন ব’ন্ডের পরিচয় হয়। নয়ন ব’ন্ড ও মিন্নি উভয়ই মা’দকসেবী হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগেনি।

এদিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালত, বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত এবং হাইকোর্টেও মিন্নির জামিন আবেদনের পর শুনানি হয়েছে। কিন্তু কোনো আ’দালতই জামিন মঞ্জুর করেননি মিন্নির। মিন্নির প্রতিটি জামিন শুনানিতেই বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ আ’দালতে উপস্থাপন করেছেন মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান সংক্রান্ত কললিস্ট ও হ’ত্যাকা’ণ্ডের সময় সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ।

এছাড়াও এ হ’ত্যা মা’মলার দুই নম্বর আ’সামি রিফাত ফরাজি, তিন নম্বর আ’সামি রিশান ফরাজি, ছয় নম্বর আ’সামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আ’সামি টিকট’ক হৃদয় হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে আ’দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মিন্নি নিজেও রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আ’দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন।