ঈদযাত্রাতেও দুদক কর্মকর্তার জন্য ১ ঘণ্টা ফেরি আটকা!

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ। আর ঈদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ফেরিগুলো।

ঠিক এ মুহূর্তে দুদকের কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খানকে পদ্মা পার করে দেওয়ার জন্য একটি ফেরি প্রায় এক ঘণ্টা সময় ঘাটে আ’ট’কে রাখা হয়েছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহ’জং উপজে’লার ৪ নম্বর ফেরিঘাটে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সরবরাহ করে এই অ’ভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী। যদিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষের একেকজন একেকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন।

একইসঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের অ’ভিযোগ, ঈদ মৌসুমে পদ্মা পার হওয়ার জন্য মানুষ এবং যানবাহন ব্যাকুল হয়ে থাকে। এটা সবার জানা। ঠিক এ মুহূর্তে অন্য কোনো গাড়ি লোড না করে দু’র্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মক’র্তার জন্য একটি ফেরি আ’ট’কে রাখা হয়েছে এক ঘণ্টা ধরে।

পদ্মা’র দুই পারে আ’ট’কে থাকা যানবাহনের চালকরাও এ অ’ভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, বর্তমানে এমনিতেই ফেরিগুলো হিমশিম খাচ্ছে যান পারাপারে। এর মধ্যে ভিআইপি সুবিধা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এক ঘণ্টা ফেরি ঘাটে আ’ট’কে রাখাটা আমানবিক। এই সময়ে অনেক মানুষ বাড়ি যেতে পারতেন।

কিন্তু বিষয়টিকে মেজর কিছু না বলে উড়িয়ে দিয়েছেন লৌহ’জং উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) কাবিরুল ইস’লাম।

তিনি বলেন, এতো সময় লাগেনি। কমিশনারের প্রোগ্রাম আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। ফেরিটি আ’ট’কে রাখা হয়নি। শুধু প্রথমে স্যারের গাড়ি উঠে ফেরিতে। তারপর অন্য সব গাড়ি উঠে। এটা মেজর কিছু না। শুধু গাড়ির সিরিয়াল মানা হয়নি। স্যার প্রটোকল অনুযায়ী এটা পান। গাড়ির সিরিয়াল অনুযায়ী না উঠাটা তার অ’বৈধ না। সরকারি প্রোগ্রাম নিয়ে এসেছেন তিনি। তবে হ্যাঁ, মিনিট দশেকের মতো হবে, ফেরি অ’পেক্ষা করানো হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে খা’রাপ ফেরিতেই স্যার পার হয়েছেন।

জানা গেছে, শনিবার দু’র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান দাপ্তরিক কাজে মাদারিপুরে যান। এ জন্য তাকে প্রটোকল দেওয়ার সরকারি চিঠি পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। সে অনুযায়ী সকালে প্রায় ৫০ মিনিট আ’ট’কে রেখে কর্ণফুলী ফেরিতে পার করা হয়েছে তাকে।

এদিকে, ফোনে কর্ণফুলী ফেরির চালক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ১০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে ফেরিটি লোড-আনলোড করতে। তখনই কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি উত্তর না দিয়ে লাইন কে’টে দেন। এরপর একাধিক বার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খানকে ‘বিশেষ সম্মান’ করে ফেরিতে আগে দেওয়া হয়েছে। ভিআইপি হিসেবে নয়। ১০ মিনিটের বেশি দেরি করা হয়নি দুদক কমিশনারের জন্য।

যাত্রীদের অ’ভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক নাসির মোহাম্ম’দ চৌধুরী বলেন, এতো সময় হয়নি। যেটি ঘটেছে, সেটি লোড-আনলোডের সময়। দুদক কমিশনারের জন্য আলাদা কোনো ফেরি রাখা হয়নি।

শিমুলিয়া ঘাটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ বাংলানিউজকে বলেন, ভিআইপি কেউ গেলে বিআইডাব্লিউটিসি ফেরির ব্যবস্থা করে থাকে। চিঠি দিয়ে আগে অবগত করা হয়েছে। এটি তার দাপ্তরিক সফর। যদিও বর্তমানে ঈদের ছুটি চলছে।