রিফাতকে ছাড়া প্রথম ঈদ, কবরের পাশে বসে কাঁদছেন মা

‘বাবায় আমা’রে নিজের হাতে খাওয়াইতো, আমি অ’সুস্থ হইলে আমা’র পাশে বইস্যা কত্ত সেবা যত্ম করতো। আমা’র আব্বু কোরবানিতে রুটি খাইতো, কলিজা ভুনা খাইতো।

আহারে আমা’র বাবা, আমা’র বাবারে হারাইয়া আমি অসহায় অইয়া পড়ছি।’

বিলাপ করতে করতে এভাবেই কা’ন্নায় ভেঙে পড়ছিলেন নি’হত রিফাতের মা ডেইজী বেগম।

আগত ঈদের আনন্দের মধ্যেও রিফাতের শোকে নিভৃতে কাঁদছে গোটা বাড়ি। ছেলের মৃ’ত্যুর পর সেই যে বিছানায় শুয়েছেন মা ডেইজী, আর উঠতেই পারছেন না। দেড়মাসের বেশি সময় কে’টেছে, কিন্তু ছেলে হা’রানোর শোক কিছুতেই কা’টাতেই পারছেন না তিনি।

ঈদুল আজহায় রিফাতের বিশেষ পছন্দ ছিল রুটি আর কলিজা ভুনা। রান্না করে নিজের হাতে খাওয়তেন ছেলেকে। ছেলেও নিজ হাতে খাইয়ে দিতো মাকে। মায়ের কাছে সেসব এখন কেবলই স্মৃ’তি।

ডেইজী বেগম বলেন, ‘আমি অ’পেক্ষায় থাকি, রিফাতের মোটরসাইকেলের শব্দ এই বুঝি কানে ভেসে এলো, মনের অজান্তেই বলে ফেলি, ‘মৌ (নি’হত রিফাতের ছোট বোন), মা; দরজা খোল, রিফাত আসছে’।

তিনি বলেন, ‘আমা’র ছেলেরে যারা কু‌‌’পিয়ে মে’রেছে, তাদের কেউ যেন রেহাই না পায়, প্রত্যেককে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক। আমি আমা’র ছেলে হ’ত্যার বিচার দেখে ম’রতে চাই’, বলতে বলতে ফের কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ বরগুনা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। যে গেটের সামনে দেড়মাস আগে রিফাতকে কু‌‌’পিয়ে জ’খম করেছিল দুর্বৃত্তরা সে গেট দিয়েই তাকে কলেজে প্রবেশ করতে হয়।

মৌ বলেন, ‘কোরবানির দিন সকালে উঠেই ভাইয়া বলত, মৌ নুডুলস রান্না কর। নুডুলস খেয়ে নামাজ পড়া শেষে বাবা-কাকাদের সাথে গরুর মাংস নিয়ে ফিরে বলত, মৌ কাবাব বানা, তোর হাতের রান্না করা নুডলস আর কাবাব আমা’র খুব পছন্দ’।

‘আমি জানতাম আমা’র ভাইয়া আমা’র হাতের নুডলস আর কাবাব পছন্দ করত। খুব যত্নে বানিয়ে যখন ওর সামনে দিতাম, সে মা ও আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিত। ভাইয়া মা’রা যাওয়ার পর আমি নুডুলস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। ভাইয়ার পছন্দের খাবার আমা’র সামনে এলে আমি খেতে পারি না’, কথাগুলো বলতে বলতে কা’ন্না ভেঙে পড়েন মৌ।

তিনি বলেন, ‘আমা’র মা অ’সুস্থ, তবুও প্রতিদিন ভাইয়ার কবরের পাশে গিয়ে ৩/৪ ঘন্টা কা’ন্নাকাটি করেন। বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় কখনো ডুকরে আবার কখনো হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তকে কী’ সান্ত্বনা দেব, কে শান্তনা দেবে বলুন। আমা’র ভাইকে যারা মে’রেছে, আমি দ্রুত তাদের গলায় ফাঁ’সির দড়ি দেখতে চাই’।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফকে একদিকে ছেলে হা’রানোর শোক বইতে হচ্ছে, অ’পরদিকে মৃ’ত্যুতে শোকে বিহবল গোটা পরিবারকেও দেখতে হয় তার। তাই চাইলেও কাঁদতে পারেন না তিনি। তবু চোখের জল কার কথা শোনে!

রিফাতের প্রসঙ্গে জানতে চাইতেই তিনি কা’ন্নাজ’ড়িত কন্ঠে বলেন, ‘ঈদে আমা’র পা ছুঁয়ে সালাম করত রিফাত। আমি ওরে সেলামি দিতাম। ওর শখ ছিল পাঞ্জাবি ও এক জোড়া জুতার। এর বেশি কিছু কখনোই চাইতো না। বাবা -ছেলে মিলে একসাথে ঈদের নামাজে যেতাম, ফিরে একসাথে সবাই খেতে বসতাম। ও নেই, আমা’র তো আসলে অবশিষ্ট কিছুই নেই’।