এবার ৯ রাজ্য নিয়ে চরম ঝুঁকিতে ভারত!

এশিয়া তথা সারা বিশ্বের মিডিয়ার অন্যতম খবর হচ্ছে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের মোদী সরকারের ৫ ই আগস্টের সিদ্ধান্ত আর তৎপরবর্তী নানা ঘটনার চুল চেরা বিশ্লেষণের চেষ্টা।

বাংলাদেশে ক্রিকেট দল কোনো ম্যাচে হেরে গেলে যেমন নানামুখী সমালোচনায় চায়ের দোকানদারও যোগ দিতে ভুল করে না। কারণ সেটা জাতির সবাইকে ছুঁয়ে যায়।

ঠিক তেমনি কাশ্মীর ইস্যু ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বের হয়ে গেছে এখন। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের অভ্যন্তরের ৯টি রাজ্যে ছাইচাপা আ’গুনের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। যার উ’ত্তাপ শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তা সঞ্চারিত হয়েছে আশে পাশের দেশের এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে। ফলে ভারতে ভাঙনের সুর জো’রদার করে নিজেদের ফায়দা লুটতে ইতোমধ্যে তৎপর অনেকেই। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাংবিধানিক সুবিধাপ্রাপ্ত ভারতে রাজ্যগুলোর সাধারণ নাগরিকরা।

ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবির জন্য দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লিপ্সা এবং মস্কো পন্থী ও চীনপন্থি আদর্শের ল’ড়াইয়ের কারণে বাংলাদেশের বাম দলগুলো ভেঙ্গে অনেক ভাগে বিভক্ত হয়েছে তা বাংলাদেশে আম’রা দেখেছি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বাম দলগুলো সমাজতন্ত্র কায়েমের মধ্যদিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মঙ্গলের জন্য ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে দল গঠন করলেও এক পর্যায়ে এসে তাঁরা চরম ইমেজ সংকটে পড়ে। অনেকেই বলতেন যে, রাশিয়া বা চীনে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের বাম’রা মাথায় ছাতা ধরে।

অন্য দিকে জামায়াতে ইস’লামীর মত উগ্র ইস’লামপন্থী দল ও গ্রুপগুলোও ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবির জন্য দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লিপ্সা অনেক ভাগে বিভক্ত হতে দেখেছি আম’রা। বিশ্বের কোন দেশে কিছু হলেই ইস’লাম রক্ষার ওজুহাতে দেশের অভ্যন্তরে তহবিল সংগ্রহের নামে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে চাঁদাবাজি চলে আসছে এই বাংলাদেশেও। শুধু উগ্র মু’সলিম কিছু মানুষই নয়, উগ্র কিছু সুবিধাবাদী ক্ষুদ্র উপজাতিও স্বাধিকারের নামে আমাদের মত দেশে চাঁদাবাজির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে, উন্নত জীবন যাপন করতে দেখেছি আম’রা।

এক শ্রেণির ‘উছিলাবাদি’ আছে সব দেশেই। ওরা নানা উপলক্ষ্য বা উছিলার অ’পেক্ষায় থাকে। উছিলা পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে জান বাজি রেখে। নিজ দেশের মধ্যে ধান্দা করার জন্য পাশের দেশে আশ্রয় নেয়, পয়সা ও বিশেষ সুখের আশায় বিদেশে যায় যু’দ্ধ করতে। মিজো’রামের লাল ডেংগার কথা অনেকের মনে থাকার কথা তাঁরা ভারতের শত্রুদের অর্থে পাকিস্তান পন্থী সরকারের আমলে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়েছিল।

একইভাবে ঘাঁটি গেড়েছিল নকশালবাড়ি আ’ন্দোলনের নেতারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। উলফার টাকা তাঁদের কিছু আত্মীয় বাংলাদেশে বিশাল শিল্পপতি বনে গেছেন, হয়েছেন অনেক মিডিয়ার মালিক। একইভাবে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কাশ্মীরের পাকিস্তান অংশে আশ্রয় নিয়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীরের বি’রুদ্ধে লড়ছে। এই ল’ড়াই জো’রদার হবে ভারতের শত্রুদের টাকায় আর আই’এস স্টাইলে সেবাদাসী ভোগের লালসায়।

অন্যদিকে কাশ্মীর ‘আজাদ’ করতে বাংলা থেকে মুজাহিদদের যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছে আল কায়দা। শুক্রবার দুপুরে আল কায়দার নিজস্ব প্রচার মাধ্যম— আল ফিরদাউস মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এসেছে কাশ্মীরে জিহাদের ডাক। ওই প্রচার সাইটে বলা হচ্ছে, ‘কাশ্মীরে চলছে মুক্তির লড়াই। সেই লড়াইয়ের বার্তা ছড়িয়ে দিন এবং যোগ দিন সেই লড়াইয়ে।‘

আল কায়দার এই প্রচার নজরে এসেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদেরও। তাঁরা বিষয়টি খুব হালকা ভাবে নিতে পারছেন না। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পু’লিশের এক শীর্ষ গোয়েন্দা ক’র্তা বলেন, ‘‘আল কায়দা দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাজ্যে এবং বাংলাদেশে জমি তৈরি করার চেষ্টা করছে। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থাকে সামনে রেখে তারা এখান থেকে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠন জো’রদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

গোয়েন্দা সুত্র দাবি করেছে যে, ‘আল কায়েদা’ বাংলাদেশ পাকিস্তান, মিয়ানমা’র সহ আশেপাশের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের দলের জন্য যোদ্ধা সদস্য সংগ্রহের জন্য এবার কাশ্মীর ইস্যুকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে। ধ’র্মপ্রাণ মু’সলমানদের টার্গেট করে ইতোমধ্যেই তাঁরা মাঠে নেমেছে।

এদিকে ভারতের সংবিধানের ৩৬৮ ধারার ভিত্তিতে ৩৭১ নম্বর ধারায় নয়টি রাজ্যকে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা ও অধিকার দেয়া হয়েছে। ওই রাজ্যগুলো হলো; কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, আসাম, মিজো’রাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল ও অন্ধ্রপ্রদেশও রয়েছে।

এদিকে কাশ্মীরিদের জন্য রক্ষাকবচ সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল করায় এখন বাকি রাজ্যগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওইসব রাজ্যেও ভিতরে ভিতরে চরম অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এসব রাজ্যের কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তাঁদের স্বাধিকার আ’ন্দোলনের নামে বেশুমা’র চাঁদাবাজি করে নিজেদের আয়েশি জীবনযাপন করবে। এ ব্যাপারে মিজো’রামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা লালথানহাওলা বলেন, ‘এ ঘটনা মিজো’রাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যের পক্ষে আতঙ্কের।’ এই আতঙ্ক সঞ্চারিত হলে কাশ্মীরের পাশাপাশি হিন্দু সংখ্যালঘু ভারতীয় রাজ্যগুলোতে সাম’রিক ব্যয় বাড়বে। এসব রাজ্যগুলো থেকে মেধা পাচার হয়ে যাবে, বিদেশে, উন্নত দেশে যাদের অনেকেরই এখন দক্ষ জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে। পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি অন্য দেশকেও বাড়তি বাণিজ্য সুবিধা দিতে হবে ভারতকে তাঁদের কূটনৈতিক সাফল্যের নামে।

ভোগ্যপণ্যের জন্য ভারত বিশ্বের অন্যতম একটি বিশাল বাজার। যা দখলের লো’ভ অনেকে দেশেরই আছে, আছে প্রতিযোগিতাও। শক্তিধর দেশগুলো বাণিজ্য সুবিধার বিনিময়ে ভারতের পক্ষ নেবে কাশ্মীর ইস্যুতে। কারণ ‘খালি হাতে তো আর চিড়ে ভেজে না’। তাই যে গতিতে ভারতের অর্থনীতি এগুনোর কথা সেই গতিতে আর এগুতে না পারারই কথা, সরল অংক তাই বলে। মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর জাতিসংঘ ইতোমধ্যে কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের মুখে ‘ঝামা ঘসে’ দিয়েছে।

আশে পাশের যে সব দেশ হালকা নড়া চড়া করছিল তাঁদের জন্য নতুন বার্তা দিয়েছে, তা কী’ খালি হাতে হয়েছে! মনে হয় না। কাশ্মীর ইস্যুতে আশেপাশের দেশ হয়তো থামবে কিন্তু কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের মাঝে মতলব্বাজ ও ধ’র্মীয় উগ্রবাদীদের জনপ্রিয়তা বাড়বে। একইভাবে ভারত বিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হবে মিজো’রাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের মতো হিন্দু সংখ্যা লঘূ রাজ্যের সাধারণ মানুষের মাঝে, যা খুব বিপজ্জনক। যা ভারতকে ‘তাসের ঘর’এর মত আরেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বানাতে পারে।

ভূস্বর্গ খ্যাত পর্যটন রাজ্য মু’সলিম সংখ্যাগুরু কাশ্মীরী সুন্দরী মেয়েদের দেহ সম্ভোগের লো’ভে উগ্র হিন্দুরা লালসায় বুক বেঁধে মোদী সরকারকে সাময়িক সম’র্থন দিলেও প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির যোগ এক না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ মৌলবাদীরা কখনোই মানুষ হয় না। বিষয়টি পরিষ্কার হতে হয়তো আরও সময় নেবে। তাই সময়ের জন্য অ’পেক্ষা করতেই হবে। মানুষের মন বলে কথা, তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করার মত দুরূহ কাজ আর পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।